কেতু ক্ষতি করে না, এগিয়ে দেয় মুক্তির দিকে।
(গুরু ও শিষ্যের সংলাপ)
পাত্র
গুরু — অন্তর্মুখী, শান্ত, মৃদু অথচ দীপ্ত কণ্ঠ।
শিষ্য — জিজ্ঞাসু, অস্থির, মুক্তির পথের সন্ধানী।
দৃশ্য:
অশ্বত্থতলার নীচে সন্ধ্যার আলো নিভে এসেছে। দূরে শঙ্খধ্বনি। বাতাসে ধূপের গন্ধ। শিষ্য গুরুদেবের পায়ের কাছে বসে প্রশ্ন করছে।
শিষ্য: গুরুদেব, আমার তো কেতুর কথা শুনলেই মনে অদ্ভুত ভয় জাগে। লোকে বলে সে নাকি সব কেড়ে নেয়, সংসার ভেঙে দেয়, ভালোবাসার মানুষদের বিচ্ছিন্ন করে। তবে কি সে অমঙ্গলময়?
গুরু (মৃদু হাসি):
যে কেড়ে নেয়, সে-ই তো শূন্যতা দেয়; আর শূন্যতা ছাড়া পূর্ণতার স্থান কোথায় বল? জানবে রাহু যেখানে ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা,
কেতু সেখানে অতীত জন্মের অনুরণন। তাই
কেতু ক্ষতি করে না, সে শুধু তোমার আসক্তির গিঁট খুলে দেয়।
প্রথম ছয় ভাবের মধ্যে কেতু মানুষের পরিচয়, মন, সাহস, কর্ম, বুদ্ধি ও সংগ্রামকে নিঃশব্দে পুনর্গঠন করে। জাগায় আত্মবোধ, নীরব শক্তি, সূক্ষ্ম সাহস এবং তাকে জন্মগত জ্ঞানের পথে নিয়ে যায়।
শেষ ছয় ভাবের মধ্যে কেতু মানুষকে সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে, সমাজ থেকে আলাদা করে, তার কর্মকে শুদ্ধ করে, এবং শেষে
নিজের মধ্যে বিলীন করে দেয়। অর্থাৎ এক কথায় তাকে জগৎ ও জীবের থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের অন্তরে মিলিয়ে দেয়।
যেখানে সে আসে, সেখানে তোমার অহংকে চূর্ণ করে,
আর তার ফলে খুলে যায় তোমার মুক্তির দ্বার। অর্থাৎ কেতু তোমার থেকে অনেক কিছু কেড়ে নেয় ঠিকই… কিন্তু ভেবে দেখলে বুঝবে যা তোমার আসক্তি, সেটাই কেড়ে নেয়। কেড়ে নিয়ে শেখায় যাতে তুমি জীবনের মূল সত্যিটা দেখতে পাও।
শিষ্য: মানে?
গুরু: ধর, কেতু যেখানে বসে, সেখানে তুমি সবসময় মনে করবে — “কিছু যেন ঠিক নেই। কিছু যেন পূর্ণ হয় নি।” আর
এই অস্বস্তিটাই তোমাকে ভিতরের দিকে ঠেলে দেয় নিজেকে জানতে।
শিষ্য: গুরুদেব, যদি কেতু লগ্নে থাকে?
গুরু: এখানে কেতু অহংকে নীরবে ধ্বংস করে। ফলে মানুষ নিজেকে যেন দর্শকের মতো অনুভব করে— জীবনের নাট্যমঞ্চে উপস্থিত, কিন্তু সম্পূর্ণ যুক্ত নয়। তাই প্রথমে মানুষ নিজেই নিজেকে বুঝতে পারে না। ফলে অন্য মানুষ তাকে আরো বোঝে না। সে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিজেই ধন্ধে থাকে। ভেতরে ভেতরে সে সবার থেকে ব্যতিক্রম হতে চায় আর তার ফলে সে ভোগে একাকীত্বে।
শিষ্য: তাহলে এতে তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়?
গুরু: আত্মবিশ্বাস নয়, বরং পুরনো অহমিকার জায়গাটা ভেঙে যায়। এটা খারাপ নয়। এতে সত্যিকারের সত্তাকে চেনার পথে এগোনো যায়।
শিষ্য: তাহলে কী করব?
গুরু: প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকাও, নিজের সঙ্গে কথা বল। মাথায় নিয়মিত তেল দাও। শরীরকে স্থির রাখ। সূর্য নমস্কার কর। রবিবার সূর্যকে জল অর্পণ কর মৌন থেকে। অকারণে বারবার চুল-দাড়ি কেটো না। আর প্রাণীদের খাওয়াও — এতে অহং নরম হয়।
শিষ্য: যদি কেতু ২য় ঘরে থাকে?
গুরু: এখানে কেতু মানুষের বাক্যকে সংযত করে।
সে কম বলে, কিন্তু যখন বলে—সত্যের মতো ধারালো হয়। ফলে পরিবার থেকে তার এক অদৃশ্য দূরত্ব জন্মায়, অর্থ রোজগারের ক্ষেত্রে ওঠানামা হতে থাকে। আর নিজের মনে হয় - আমি যেন কিছুর মাঝেই নেই।
শিষ্য: কেন এমন হয়?
গুরু: কারণ এখানে কেতু শেখায় কথার কী মূল্য। শুধু কথা নয়, অর্থ ও সম্পর্কের মূল্যও কেতু শেখায়। সাথে শেখায় জীবনের মূল্যবোধ।
শিষ্য: প্রতিকার?
গুরু: ধীরে কথা বল এবং কাউকে কটু কথা বোলো না। জপ কর কেতুর মন্ত্র। মাসে একবার অন্ন দান কর। প্রত্যাশা ছাড়া পরিবারকে কিছু দাও।বৃহস্পতিবার গরুকে গুড় খাওয়াবে। মিথ্যা প্রশংসা এড়াবে। বাক্য সংযম ও অর্থ সুরক্ষায় খেয়াল রাখবে।
শিষ্য: ৩য় ঘরে কেতু থাকলে কি হয়?
গুরু: এখানে কেতু চিৎকারে নয়, কৌশলে সাহস দেয়।
সে আকস্মিক নয়—
সময়ের অপেক্ষায় থাকে।
তার সিদ্ধান্ত ধীর, কিন্তু নিশ্চিত। তার আঘাত হয় নীরব, কিন্তু ফলপ্রসূ। সে যুদ্ধ ঘোষণা করে না, কিন্তু কৌশলে যুদ্ধ জিতে নেয়।এছাড়া এখানে কেতু থাকলে ভাইবোনের সাথে দূরত্ব আসে। এমনিতে সাহস থাকে, কিন্তু সাহসকে কাজে লাগাতে বিলম্ব হয়।
শিষ্য: মানে আলসেমি থাকে?
গুরু: ঠিক তাই। এখানে শিক্ষা হল— প্রতিদিন ছোট ছোট কাজ নিয়ম করে করা।
শিষ্য: কী করলে ভালো হবে?
গুরু: প্রতিদিন কিছু লেখার অভ্যাস করবে, হাঁটবে, হাতের কাজ কিছু শিখবে। ছোট ভাইবোন বা কাজের লোকদের সাহায্য করবে।মঙ্গলবার হনুমানজীকে প্রণাম করবে। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াবে। মৌন থাকবে।
শিষ্য: ৪র্থ ঘরে কেতু বসলে কি হয়?
গুরু: এখানে কেতু থাকলে মনের ভিতরে জন্মায় এক নিঃশব্দ নির্বাসন।
কিন্তু এই বিচ্ছিন্নতাই তাকে নিজের অন্তরে নিয়ে যায়—
তখন ঘরে থাকলেও ঘরকে ঘর মনে হয় না। এছাড়া এখানে কেতু থাকলে মনের শান্তি থাকে না। মা’র সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এর থেকে কেতু শিক্ষা দেয় — শান্তি বাইরে নয়, নিজের ভিতরে আছে।
শিষ্য: প্রতিকার?
গুরু: ধ্যান কর। ঘর পরিষ্কার রাখ। গাছ লাগাও। মা বা মাতৃতুল্য কাউকে সম্মান দাও। সোমবার চন্দ্রকে জল দেবে। ঘরে কম জিনিস রাখবে। শূন্যতাই যে শান্তি এটা মাথায় রাখবে।
শিষ্য: কেতু যদি ৫ম ঘরে থাকে?
গুরু: এখানে কেতু অদ্ভুত বোধ দেয়—মানুষ অনেক কিছু না পড়েও বুঝে যায়।
তার মধ্যে থাকে এক প্রাচীন স্মৃতি,যেন বহু জন্মের জ্ঞান সঞ্চিত। সে ভবিষ্যৎ বলে না— কিন্তু অনুগামীদের সত্যের দিকে নির্দেশ করে।
তার জীবনে যেমন প্রেম আসে, তেমন আবার ভেঙে যায়। সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। মনোযোগও দৃঢ় হয় না। এখানে মানুষ সৃজনশীল হলেও তার বিশ্বাস কম থাকে।
শিষ্য: এখানে কেতু থাকলে কি প্রেমে সমস্যা হয়ই?
গুরু: সমস্যাই তো দেয় শিক্ষা- অহং থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মনকে বড় করতে হবে।
শিষ্য: এখানে কী করলে ভারসাম্য আসবে?
গুরু: শিশুদের সাহায্য কর। নিরালায় থাকো কিছু সময়।গায়ত্রী জপ কর। সৃষ্টিশীল কাজ করো বিচার না করে।বুধবার গণেশ মন্ত্র পাঠ করবে। জ্ঞান ভাগ করবে সবার সাথে।
শিষ্য: ৬ষ্ঠ ঘরে কেতু বসলে কি হয়?
গুরু: এখানে কেতু থাকলে অদৃশ্য শত্রু থাকে জীবনে যারা মেঘনাদের মত আক্রমণ করে নিজেদের লুকিয়ে। তবে এখানে কেতু থাকলে জাতক শত্রুকে ঠিকই হারিয়ে দেয়। তার জীবনে সংগ্রাম আসে, কিন্তু সেইসঙ্গে মানুষ অদ্ভুত সহনশীলতা পায়।
সে যুদ্ধ করে না—কিন্তু যুদ্ধ তাকে হারাতে পারে না। শত্রু নিজেই দূরে সরে যায়।
তবে এখানে কেতু থাকলে শরীর নিয়ে চিন্তা বাড়ে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থাকে মনে। স্বাস্থ্য এই ভাল তো এই খারাপ।
শিষ্য: তাহলে এখানে দুশ্চিন্তা বেশি দেয় কেতু?
গুরু: হ্যাঁ। আর তার থেকেই জাগে শিক্ষা — শরীরের যত্ন নিতে হবে আর শৃঙ্খলা মেনে সব কাজ করতে হবে।
শিষ্য: কীভাবে?
গুরু: প্রতিদিন একই সময় মত ঘুমাবে ও জাগবে। পারলে একদিন নুন জলে পা ধোবে। পায়ের নখ পরিষ্কার রাখবে।
মানুষের সেবা করবে। ঋণ নেয়া এড়াতে হবে। হিসাব রাখ সব খরচের। আর কোনমতেই শরীরকে অবহেলা কোরো না।মঙ্গলবার বা শনিবার কুকুরকে খাবার দিও।
শিষ্য: ৭ম ঘরে যদি কেতু থাকে?
গুরু: এখানে কেতু থাকলে জাতকের জীবনে সম্পর্ক ঠিকই থাকে, কিন্তু সম্পর্কের আসক্তি ভেঙে যায়। ফলে
মানুষ ভালোবাসে—
কিন্তু নিজেকে হারায় না।
এমনিতে প্রথমদিকে অবশ্য তার সম্পর্কের মধ্যে কিছু অদ্ভুত টানাপোড়েন থাকে। কাছের মানুষকে বুঝতে কষ্ট হয়। বিয়ে নিয়ে আগ্রহ থাকে না। তবে সময়ের সাথে সাথে আসক্তি চলে যায়।
শিষ্য: তাহলে এক্ষেত্রে কি করতে হবে?
গুরু: এখানে শিক্ষা হল — সম্পর্ক মানে শুধু একে অপরের উপর নির্ভরতা নয়, সাথে দুজনের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে।
শিষ্য: প্রতিকার?
গুরু: রেগে গেলে একদম কথা বন্ধ করে না দিয়ে শান্তভাবে কথা বল। নিজের স্ত্রী বা স্বামীকে সময় দাও। সপ্তাহে একদিন নিরালায় সময় কাটাও। আর শুক্রবার যেহেতু শুকরের দিন,সেদিন কপালে সাদা চন্দনের তিলক পরবে।শুক্রবার সাদা মিষ্টি দেবে। অপরের থেকে প্রত্যাশা কমাও। জাতকদের প্রেম টিকতে পারে শুধু এভাবেই।
শিষ্য: ৮ম ঘরে কেতু থাকলে কি হয়?
গুরু: এখানে কেতু থাকলে মানুষকে অদৃশ্য জগতের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
সে মৃত্যুকে ভয় পায় না—
কারণ পরিবর্তনকে সে উপলব্ধি করে। তার জীবনে একবার অন্তত এমন অভিজ্ঞতা আসে
যা তার সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। এমনিতেও
জীবন বারবার তার পথ বদলায়। জীবনে নানা গোপন রহস্যের দিকেও টান থাকে। মনে নানারকম সন্দেহ থাকবে।
শিষ্য: সাথে ভয়ও থাকবে?
গুরু: থাকবে। এখানে শিক্ষা হল — ভয়কে সামনে থেকে দেখা। তাহলে ভয়ের রূপান্তর ঘটানো সম্ভব।
শিষ্য: তাহলে এই অবস্থায় কী করা ভাল?
গুরু: মহামৃত্যুঞ্জয় জপ করবে। কালো কুকুরকে খাওয়াবে। যেটা নিয়ে তোমার ভয় সেটাকে বোঝার চেষ্টা করবে। গভীর গবেষণা মূলক পড়াশোনা করাও ভাল। অমাবস্যায় পিতৃদান করবে। নিজের সব রহস্য গোপন রাখবে।
শিষ্য: ৯ম ঘরে যদি কেতু থাকে?
গুরু: এখানে কেতু মানুষকে অন্ধ বিশ্বাস থেকে সরিয়ে দেয়। সে ধর্ম ত্যাগ করে না— কিন্তু ধর্মের গভীরতায় প্রবেশ করে। এখানে গুরু তাকে পথ দেখায় না—
সে নিজের অভিজ্ঞতাকেই গুরু করে। কারণ বাইরের গুরু নিয়ে তার মনে সন্দেহ হয়। এমনকি ভাগ্যের উপর বিশ্বাসও হারিয়ে যায়।
শিষ্য: এটা কি খারাপ?
গুরু: না। এতে অন্ধ বিশ্বাস ভাঙে, সত্যের প্রতি বিশ্বাস জন্মায়।
শিষ্য: এর প্রতিকার কি?
গুরু: শাস্ত্র পড়তে হবে। গুরুর সেবা করতে হবে। বাবাকে সম্মান করতে হবে। বৃহস্পতিবার হলুদ রঙের কোন ফল বা খাবার দান করতে হবে। বৃহস্পতিবার আংশিক মৌন থাকবে। আর অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেবে।
শিষ্য: ১০ম ঘরে যদি কেতু থাকে?
গুরু: এখানে মানুষ কাজ করে, কিন্তু স্বীকৃতি চায় না।
তার প্রভাব দেরিতে প্রকাশ পায়,কিন্তু স্থায়ী হয়। সামনে না থাকলেও নেপথ্যে থেকে কাজ করে। তার জীবিকা বদলাতে মন চায়। নামখ্যাতি জীবনে এলেও মনের শান্তি কমই থাকে।
শিষ্য: কেন?
গুরু: কারণ এখানে কেতু শেখায় — কাজ শুধু অর্থ রোজগারের পথ নয়, একটি দায়িত্ব।
শিষ্য: তাহলে এখানে কী করব?
গুরু: নিজের কাজের তালিকা বানাও। আর রুটিন মেনে সেটি শেষ করো। কর্মক্ষেত্রে নিজের অহং কমাও, কর্ম বাড়াও। প্রাণায়াম ও যোগাভ্যাস কর। শনিবার নাম গোপন রেখে দান করবে।
শিষ্য: কেতু যদি একাদশ ঘরে থাকে?
গুরু: তাহলে জাতকের বন্ধু থাকবে, কিন্তু তাদের উপর ভরসা করা যাবে না। এখানে কেতু ভিড় ছেঁটে দেয়। ফলে বন্ধু কম হয়—
কিন্তু প্রতিটি বন্ধন গভীর হয়। তবে আয় অনিয়মিত হয়। জীবনের স্বপ্ন বদলাতে থাকে।
শিষ্য: তাহলে এখানে শিক্ষা কি?
গুরু: এখানে কেতুর শিক্ষা হল — সংখ্যার চেয়ে গুণ দেখতে হবে। Quantity নয় quality লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শিষ্য: এর প্রতিকার?
গুরু: নিজের লক্ষ্য ঠিক কর। দান কর। বড়দের আশীর্বাদ নাও। মাসে একবার রক্ত দান কর। আর অপ্রয়োজনীয় মানুষদের থেকে দূরত্ব রেখো। শনিবার কম্বল দান কোরো।
শিষ্য: আর যদি দ্বাদশ ঘরে কেতু থাকে?
গুরু: এখানে কেতু মানুষকে নিঃশেষ করে না— অন্তরে বিলীন করে। ফলে একাকীত্ব এখানে দুঃখ নয়,
ধ্যানের দ্বার। সেক্ষেত্রে মানুষ জগতের মধ্যেই থাকে, কিন্তু জগত তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
এই অবস্থাই হল মুক্তির পূর্বাভাস। তাই এখানে কেতু থাকলে জীবনে নিঃসঙ্গতা ভালো লাগে। খরচ বেশী হয়। বিদেশের সাথে সংযোগ ঘটে। আধ্যাত্মিক দিকে টান বাড়ে। গভীর স্বপ্ন দেখে জাতক। ভিতরে একাকিত্ব বৃদ্ধি পায়।
শিষ্য: কিন্তু এটা কি বিচ্ছিন্নতা নয়?
গুরু: না, এটা হল মুক্তির ডাক। মুক্তি যে আসে অন্তর থেকে। সেখানেই ডুব দেয়ায় সাহায্য করে কেতু। কারণ দ্বাদশ ভাবের কেতু যে মোক্ষ কারক।
শিষ্য: তাহলে এখানে কী করা উচিত?
গুরু: ধ্যান জপ নিয়ম করে করতে হবে। কোন মন্দিরে গিয়ে চুপ করে বসে থাকবে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাবে। আর অবশ্যই হাসপাতালের রোগীদের জন্যেদান করবে। শূন্যতার ধ্যান অন্তত কিছুক্ষণ করবে। ডান হাতে হলুদ সূতা পরতে পারো।
মন্দিরে পতাকা দান করাও ভাল।
শিষ্য: গুরুদেব, এখন আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে যে কেতুকে নিয়ে এত ভয় পেতাম সেই কেতু তাহলে ভয়ের কিছু নয়।
গুরু: একেবারেই নয়। জ্যোতিষীরাই নিজেদের আয়ের পথ খোলার জন্যে গ্রহদের ভয়াবহ দেখায়। আসলে কেতু তোমার কাছ থেকে মায়ার বন্ধন সরিয়ে দেয়।
শিষ্য: আর শূন্যতা দেয় কেন?
গুরু: যাতে সেখানে সত্য প্রবেশ করতে পারে।
শিষ্য: তাহলে কেতু বোঝায় - যেখানে জীবনে অস্বস্তি আসবে, সেখানেই মিলবে দরজা পরের স্তরে যাবার জন্যে।
গুরু: ঠিক। আর জানবে সেই দরজাই হল তোমার মুক্তির পথ।
#আধ্যাত্মিকতা
#ধর্মকথা
#জীবনেরসত্য
#আত্মজাগরণ
#গুরুবচন
#সৎসঙ্গ
#ভক্তি
#SpiritualAwakening
#InnerPeace
#SanatanDharma
#SpiritualWisdom
#SoulJourney
#MeditationLife
#DivinePath
#BhaktiYoga
#SeekTheTruth
#HigherConsciousness
#Enlightenment
#astrology
#tantra #yantra #sadhana #mantra #bestastrologer #AstroVedanshu
#ketu
#tarashis_gangopadhyay
No comments:
Post a Comment