চন্দ্রগ্রহণের সময়
মেষ রাশি এবং বৃষ রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?
♈ মেষ “৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মেষ রাশির জীবনে হঠাৎ পরিবর্তন আনতে পারে… আপনি প্রস্তুত তো?”
♉ বৃষ “বৃষ রাশির জন্য এই চন্দ্রগ্রহণ অর্থ ও সম্পর্ক—দুটোতেই বড় পরীক্ষা নিয়ে আসছে…”
চন্দ্রগ্রহণ প্রসঙ্গে আগেই লিখেছি। এবার রাশিফল প্রসঙ্গে আসা যাক। সর্বপ্রথম মেষ রাশি দিয়ে শুরু করছি।
৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মেষ রাশির পঞ্চম ঘরে পড়বে।
এবার দেখা যাক জন্মকুণ্ডলীর পঞ্চম ঘর কি নির্দেশ করে?
পঞ্চম ভাব শিক্ষা, সন্তান, প্রেম, সৃজনশীলতা ও মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত। তাই এই গ্রহণের ফলে মেষ রাশির জাতকদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দিতে পারে। অহংকার বাড়লে সম্পর্কে তিক্ততা আসতে পারে। তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। মানসিক চাপ বাড়তে পারে। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মতভেদ হতে পারে। সন্তানের স্বাস্থ্য ও পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।
এই সময়ে সম্পর্ক বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ভেবে নিন। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন। গ্রহণের সময় খাবার না খাওয়াই ভালো। মানসিকভাবে হনুমান চালিশা, গায়ত্রী মন্ত্র, শিব নাম, কৃষ্ণ নাম বা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে পারেন। এতে ইতিবাচক শক্তি বাড়বে।
গ্রহণের পরে দুধ, চাল, দই বা সাদা কাপড় দান করা শুভ। একটি প্রচলিত কথা আছে—“গ্রহণে রাজা দান করে, প্রজা স্নান করে।” অর্থাৎ যে সচ্ছল, সে দান করবে; আর সাধারণ মানুষ পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্য লাভ হয়। তাই গ্রহণের পরে দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র বা যা সম্ভব দান করা উত্তম।
এবার গর্ভবতী নারীদের বিষয়ে—ভারতে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণের আগে গর্ভবতী নারী যদি সামান্য শুকনো গোবর নিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে সাতবার পেটে ঘুরিয়ে রেখে দেন, তাহলে গর্ভস্থ শিশুর ওপর অশুভ প্রভাব পড়ে না—এমন ধারণা রয়েছে।
গ্রহণের সময় (যেটা প্রায় ২০ মিনিট ২৮ সেকেন্ড) ঘুমানো উচিত নয়। ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করা উচিত নয়, কিছু কাটা উচিত নয়, বাইরে গিয়ে গ্রহণ দেখা উচিত নয়। ঘরের ভেতরে শান্তভাবে থাকা উচিত।
এই সময় যদি সম্ভব হয়, বসে বসে “সীতা-রাম”, “রাধা-কৃষ্ণ”, বা হরিনাম জপ করা ভালো। মন শান্ত ও আনন্দে রাখা উচিত, কোনও নেতিবাচক চিন্তা আনা উচিত নয়। সংসারের কাজ এড়িয়ে এক জায়গায় স্থির হয়ে সাধনায় বসা উত্তম। এতে গর্ভস্থ শিশুর ওপর ভালো প্রভাব পড়ে এবং শিশুর গুণাবলি উন্নত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
♈ অর্থাৎ ৩রা মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মেষ রাশির জীবনে হঠাৎ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু থামুন, ভাবুন।
আপনি কি মেষ রাশি? কমেন্টে লিখুন “জয় মা মঙ্গলচণ্ডী”।
এবার আসা যাক বৃষরাশির প্রসঙ্গে।
৩রা মার্চের চন্দ্রগ্রহণ বৃষ রাশির চতুর্থ ঘরে পড়বে। এই ঘর মা, পরিবার, সম্পত্তি, যানবাহন, মানসিক শান্তি ও গৃহসুখের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে পারিবারিক পরিবেশ কিছুটা অশান্ত হতে পারে। পুরনো সমস্যা আবার সামনে এসে বিরোধ বাড়াতে পারে। মনে অস্থিরতা বা নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে পারে। মায়ের সঙ্গে কিছুটা মানসিক দূরত্ব অনুভব হতে পারে, মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও থাকতে পারে।
বাড়ি, জমি বা গাড়ি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাবধানে নিন। বাড়ি বদলানো বা বাড়িতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা হতে পারে। মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তাই সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝগড়া এড়িয়ে চলুন এবং কথাবার্তায় সংযম রাখুন।
গ্রহণের সময় শ্রীসূক্ত মানসিকভাবে পাঠ করুন বা চন্দ্রের মন্ত্র জপ করুন। গ্রহণের পরে শিবমন্দিরে দুধ ও চাল দান করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।
আমার কাছে একটি প্রশ্ন প্রায়ই আসে—সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণ কি একইভাবে প্রভাব ফেলে? এর উত্তরে বলি - জ্যোতিষ মতে, চন্দ্র মনকে নির্দেশ করে, আর সূর্য আত্মাকে। তাই চন্দ্রগ্রহণ মানুষের মন, আবেগ ও মানসিক স্থিতিকে প্রভাবিত করে। সূর্যগ্রহণ আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবলকে প্রভাবিত করে। কারও আত্মবল দুর্বল হলে সে মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না, নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না, পরীক্ষায় বসে ভয় পায়, ইন্টারভিউতে গুলিয়ে যায়। তাই সূর্যগ্রহণ আত্মিক শক্তিকে প্রভাবিত করে, আর চন্দ্রগ্রহণ মানসিক শক্তিকে।
এই দৃষ্টিতে দেখলে—দুটোরই আলাদা প্রভাব আছে। মন ও আত্মা—দুটোই শক্তিশালী হলে তবেই না মানুষ সফল হয়।
♉ বৃষ -
অর্থাৎ এই গ্রহণ বৃষ রাশির অর্থ ও স্থিতিশীলতায় সাময়িক টানাপোড়েন আনতে পারে।
খরচে সতর্ক থাকুন, ধৈর্য ধরুন।
আপনি বৃষ হলে কমেন্ট লিখুন “জয় মা লক্ষ্মী”।
পরের পোস্টে আসছি মিথুন রাশি এবং কর্কট রাশি প্রসঙ্গে
(ক্রমশ)
#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent
জয় মা মঙ্গল চন্ডী🙏🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
ReplyDelete