Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)
Showing posts with label যোগ ( yoga ). Show all posts
Showing posts with label যোগ ( yoga ). Show all posts

Wednesday, 1 January 2014

ধ্যান

                            ধ্যান

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

 

   ধ্যান কাকে বলে? নিজের সত্বায় ফিরে যাওয়ার উপায় হল ধ্যান। আমাদের আসল সত্বা অসীম অনন্তর অংশ। তাকে নিজের মধ্যে অনুভব করাই ধ্যান।
একটি সহজ উপায় বলি ধ্যানের জন্যে। প্রথমে একটি কম্বলের আসনে বস। মেরুদন্ড সোজা করে। হাত রাখো চিনমুদ্রায়।
দু চোখ বন্ধ কর। নিজেকে প্রথমে মনিপুর চক্রে নাভিতে কল্পনা কর। নিজের চারপাশে যে মাংসের শরীর আছে তা ভিতর থেকে কল্পনা কর। দেখো মাথার শিরোভাগে আছে মস্তিস্ক। আর পিছন দিকে আছে মেরূদণ্ডের অস্থিসন্ধি। ধড়-এর মধ্যে আছে হৃদযন্ত্র,যকৃত,পাকস্থলী প্রভৃতি। তার মাঝের যে শুন্য অংশ সেখানে অনুভব কর নিজের সুক্ষ্ম শরীর।তার মধ্যে দিয়ে একটি milky way বা আলোর পথ উঠে গেছে উপরপানে। দেখতে থাক মনের চোখে এর মধ্যেই আছে সৌর বিশ্ব।এর মধ্যে তোমার চোখ দুটি যেন সূর্য,চন্দ্র। উপলব্ধি কর সব প্রাণীর প্রতি ভালবাসা তোমার হৃদয়ে। নিজের দেহের cell গুলো অনুভব কর নদীর মত,তোমার ত্বক যেন আকাশ,দেহের হাড় যেন পাহাড়। নিজেকে বল - তোমার মন হল সকল প্রাণীর মনের মিলনস্থল ,তোমার হৃদয় সকল প্রাণীর হৃদয়ের মিলনস্থল এবং তোমার ভালবাসা সকল প্রাণীর ভালবাসার মূর্ত রূপ। তারপর শুরু কর মনের উড়ান। চোখ বন্ধ করে কল্পনা করতে থাক যেন তুমি উড়ে যাচ্ছ অনন্ত মহাশুন্যের মধ্য দিয়ে। মনের চোখে দেখতে থাক - তোমার মধ্যেই আছে সমস্ত সৌরবিস্ব,সূর্য চন্দ্র,গ্রহ তারা।

এবার নিজেকে অনুভব কর অনাহত চক্রে আসন পেতে বসে আছ তুমি আত্মা। তোমার সামনে আকাশের একটা আবছা আবরণ। তার মধ্য দিয়ে একটি সোনালী রঙের সুড়ঙ্গ চলে গেছে সামনের দিকে - প্রশস্ত এই সুড়ঙ্গ। তার মধ্যে দিয়ে উড়ে যাও তুমি উপরপানে দুরে - আরও দুরে। অনেকটা দূর যাবার পর দেখবে এই হলুদ  সুড়ঙ্গ যেখানে শেষ হচ্ছে সেখান থেকে একটি নীল সুড়ঙ্গ এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। এটি আগেরটির আয়তনে অর্ধেক। এর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাও আরও হাজার হাজার মাইল। যেখানে এই নীল সুড়ঙ্গ শেষ হচ্ছে সেখানে দেখবে একটি বিরাট রুপোর দ্বার। সেটি বন্ধ। তার সামনে গিয়ে নিজের ইস্ট দেবতার কাছে প্রার্থনা করবে - ঠাকুর আমাকে তোমার কোলে টেনে নাও। আমাকে অনুভব করাও  আমার আমিকে। এই পর্যন্ত বলে বল ঠাকুর শরণাগত। তারপর অনুভব কর এই দ্বার খুলে যাচ্ছে আর তুমি দ্বারের মধ্য দিয়ে এসে পরেছ অসীম অনন্ত জ্যোতির মাঝে। এই জ্যোতির মাঝেই ডুবে থাক যত ক্ষণ মন চায়। যখন ফেরার প্রয়োজন হবে তখন "ঠাকুর আমি এবার আসি" বলে সেই রুপোর দরজার মধ্যে দিয়ে প্রথমে নীল সুড়ঙ্গ ও তারপর সোনালী সুড়ঙ্গ কল্পনা করে তার মধ্যে দিয়ে ফিরে এস অনাহত চক্রে। তারপর চোখ খুল। প্রতিদিন রাতে ঘুমনোর আগে বিছানায় বসে ১০ মিনিট এই ধ্যান করার চেষ্টা কর। দেখবে জীবনে এক নতুন আনন্দ অনুভব করবে। আজ ২০১৪ সালের প্রথম দিন আমার "শরণাগত
সম্প্রদায়"এর ভক্তদের জন্যে দিলাম এই ধ্যানের পাঠ। সবার মঙ্গল হোক।  

Thursday, 16 May 2013

যোগ ১ - মুলাধার চক্র


             যোগ ১ - মুলাধার চক্র 

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

     (পাঠক পাঠিকারা অনেকেই আমাকে যোগ নিয়ে লিখতে বলছেন।অতএব তাঁদের জন্যে এই যোগের কলামটা শুরু করলাম।যোগের মূল হলো মূলাধার।তাই মূলাধার দিয়েই শুরু হলো আমার লেখা।)

        মুলাধারের  অবস্থান  আমাদের  spinal এর শুরুতে। এটি হল হলুদরঙা  চতুষ্কোণ বা   square আকারের পদ্ম যার পাঁপড়ি  আছে ৪টি। পাঁপড়ির রং লাল।মুলাধারের অধিষ্ঠানকর্তা হলেন ইন্দ্র।তিনিও পীতবর্ণসম্পন্ন। হাতে বজ্র।অনেক জায়গায় অবশ্য গানেশ্জিকেও ধরা হয় এখানকার অধিষ্ঠানকর্তা হিসেবে।তাঁর বর্ণ গেরুয়া।লেবুরঙের ধুর্তি তাঁর পরণে। 
  এখানকার বীজমন্ত্র হলো "লং".এই বিজর ঠিক নীচে একটি ত্রিকোণ আছে -সেখানেই সুপ্তভাবে কুন্ডলিনি বিরাজ করেন।একটি ধুসর লিঙ্গকে সাড়ে তিন পাকে জড়িয়ে তিনি সুপ্তভাবে থাকেন নিদ্রিতরূপে। এই শক্তি যতক্ষণ নিদ্রিত থাকে ততক্ষণ মানুষও পশুর মত থাকে।তার উত্তরণের শুরু হয় এই শক্তি জাগ্রত হলে।এখান থেকেই সুষুম্না নাড়ির উদ্ভব ঘটে।এর বাঁ দিক থেকে ওঠে ইড়া নাড়ি এবং ডানদিক থেকে পিঙ্গলা নাড়ি ইড়া নাড়ি চন্দ্র্স্বরূপা, পিঙ্গলা নাড়ি সূর্যস্বরূপা এবং সুষুম্না নাড়ি চন্দ্র,সূর্য ও অগ্নি স্বরূপা। 
       এই চক্রের চারটি পাঁপড়িনির্দেশ করে ধর্ম,অর্থ,কম,মোক্ষ।এখান থেকেই সবার সাধনার শুরু।এর তত্ত্ব হলো পৃথিবী এবং এর ইন্দ্রিয় ঘ্রানেন্দ্রিয়।
   মুলাধারের শক্তি বৃদ্ধির জন্যে গরুড়াসন,সিধ্ধাসন খুব উপকারী। সেইসাথে অনুলোম-বিলোম,নাসিকাগ্র দৃষ্টি প্রাণায়াম ও মুলবন্ধ অভ্যাস করা প্রয়োজন।সেইসাথে চাই বীর্যধারণ ও ব্রহ্মচর্যের অভ্যাস। এই মূলাধার থেকেই আমাদের সাধনার শুরু।মুলাধারকে ঠিকমত নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সাধনপথে চলা শুরু হয়।