Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)
Showing posts with label hasi tobu hasi noy. Show all posts
Showing posts with label hasi tobu hasi noy. Show all posts

Tuesday, 31 December 2013

বিদায় ২০১৩

                   বিদায় ২০১৩

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

       ২০১৩ আজকের দিনে নিচ্ছে বিদায়। এই বছরে আমরা হারালাম কত কিছু , পেলামও অনেক। 
      ব্যক্তিগত দিক থেকে বলতে গেলে এই বছরে আমার দুটি বই প্রকাশিত হলো - "মহাপ্রভুর নীলাচলে আজ চলে লীলা" এবং "অনন্তের জিজ্ঞাসা।" লেখা হলো "কেদারনাথে আজ ঘটে অঘটন" এবং আমার অল্পবয়সে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা গল্পের সংকলন "যেথা রামধনু ওঠে হেসে" বইটির কাজ সারলাম। তাই লেখার দিক দিয়ে বছরটা আমার ভালই গেছে। এই বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে সুরু হলো আমার আধ্যাত্মিক অধিবেশন যা আমার পাঠক পাঠিকাদের নিয়ে আলোর লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার পথের একটি বিশেষ ধাপ। সেইসাথে অন্যান্য বছরের মত পেয়েছি পাঠক পাঠিকাদের অকুন্ঠ  ভালবাসা। 
    আধ্যাত্মিক দিক থেকে এই বছরে পেয়েছি একজন বিরাট গুপ্তযোগীর সান্নিধ্য যিনি আমাকে যোগের কিছু বিশেষ ক্রিয়া দিয়ে গেছেন কৃপা করে  - কালীঘাটে  লাভ করেছি তাঁর এই বিরাট কৃপা যা আমাকে আরও অনেক পরিণত করে দিয়েছে। সেইসাথে আলাপ হয়েছে প্রভার সাথে যার মাধ্যমে পেয়েছি কেদারনাথের বুকে ঘটে যাওয়া  প্রলয়ের সময়ে গোপালের এক অপার্থিব লীলার খবর। সেইসাথে পেয়েছি অনেক নতুন মানুষের দেখা যারা বন্ধু হয়ে,বোন্ হয়ে এবং ভাই হয়ে এসেছে আমার জীবনে। সবার মাধ্যমে পেয়েছি না জানি কত জন্মের কত আত্মার আত্মীয়র দেখা। আবার হারিয়েও গেছে কেউ কেউ যারা একসময়ে ছিল খুব কাছের। জীবন যে হারানো আর পাওয়ার মিলনমেলা। 
    তবে এই বছর আমাকে অনেক দিলেও কেড়েও নিয়েছে অনেক কিছু। কেদারনাথে মানুষের অত্যাচারে প্রকৃতির বুকে নেমেছে বিরাট ধংস - হারিয়ে গেছে কত হাজার প্রাণ। হিমালয়ের পথের প্রতিটি যাত্রীই আমার খুব কাছের যেহেতু হিমালয়ের সাথে রয়েছে আমার আত্মিক যোগ। তাই এই বিরাট লোকক্ষয় আমাদের কাছে এক চেতাবনী হয়েই রইলো। এই বছরে আমরা হারিয়েছি অভিনেতা প্রাণকে ও ফারুক শেখকে যাঁরা বহুকাল ধরে মানুষকে যুগিয়েছেন অশেষ আনন্দ। এছাড়া হারাধন বন্দোপাধ্যায়ের কথাও বলতে হয়। আমার এক বই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আনন্দলোকে উনি উপস্থিত ছিলেন এবং আমার বই-এর  ব্যাপারে ভাষণ দিয়েছিলেন। এছাড়া আমার প্রিয় শিল্পী মান্না দে আর সামসাদ বেগমের কথাও বলতে হয়।বিশেষত মান্না দের গান যে আমার সর্বকালের সবসময়ের অন্যতম নিকট সঙ্গী।
    ব্যক্তিগত হারানোর দিক থেকে বলতে গেলে, এবছর আমাদের আশ্রমের বিশেষ ভক্ত লীলাপিশীও মারা গেছেন যিনি ছোটবেলা থেকেই আমার প্রতিটি প্রকাশনার অশেষ গুনগ্রাহী ছিলেন।
    এভাবেই কেটে গেল ২০১৩ -কিছু পেলাম,কিছু হারালাম। সব মিলিয়ে জীবন থেকে ঝরে গেল একটি বছর। শুধু সঞ্চয় হয়ে রইলো স্মৃতি আর মন্ত্র জপের অনুরণন যা মৃত্যুর পরেও আমার সঙ্গী থাকবে চিরকাল। এভাবেই কেটে যাবে আরও কিছু বছর আরও কিছু হারানো আর প্রাপ্তির মধ্যে দিয়ে। তারপর দেখতে দেখতে একদিন এই শরীরটাও যাবে হারিয়ে - অনন্তের ঘরে ফিরে যাব আমরা পরম আনন্দভরে -শুধু খেয়াল রাখতে হবে সেখানে যাওয়ার সময় এই ভবের হাত থেকে কি নিয়ে যেতে পারলাম।  

Wednesday, 5 June 2013

তিন - হাসি তবু হাসি নয় - জন্মদিন

                     জন্মদিন 
       আজকে আমার ৪১ পূর্ণ হলো।পা রাখলাম ৪২এ। সকাল থেকেই ফোনে ,ই - মেলে,ফেসবুকে অনেক বন্ধুরা,ভক্তরা,শিষ্য শিষ্যারা আমাকে জানাচ্ছেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা। ছোটবেলায় জন্মদিন এলেই মনটা খুশীতে ভরে যেত। মূলতঃ সেইসময়ে বন্ধুদের আগমন আর বড়দের উপহারের জন্যেই ভালো লাগত জন্মদিন। ধীরে ধীরে বন্ধুবান্ধবরা জীবনের দিকে দিকে ছড়িয়ে যেতে লাগলো আর আমিও বন্ধ  করে দিলাম জন্মদিনের উত্সব। এই দিনটা আমি মূলতঃ বিগত কয়েক  বছর ধরে একলাই কাটাই। তবে যারা আমাকে ভালবাসেন ঠিক শুভেচ্ছা জানান ফোনে বা এসে। কিন্তু ফেসবুক হওয়ার পর থেকে আবার বন্ধুদের ফিরে পাওয়া গেল।সেইসাথে আত্মার আত্মীয় ভক্ত মানুষরাও আসতে শুরু করলেন।তাই আমি জন্মদিন না করলেও শুরু হয়ে গেল জন্মদিন।এদিন সবার শুভেচ্ছা পেয়ে আমিও অভিভূত।সবার এই ভালোবাসাই যে আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।
     তবে ইদানিং জন্মদিনটা আমার কাছে পেয়েছে অন্য মাত্রা।এদিনটা এলেই আমার   মাথায় আসে একটি equation  - অনেকটা ক্রিকেটের মত -
    OVERS OF LIFE GONE -41
    OVERS OF LIFE REMAINING - UNKNOWN
    REQUIRED RUN - TO REALISE THE SELF AND TO BE ONE WITH    PARMATMA.
  প্রতি জন্মদিন এলেই মনে হয়ে - বেলা তো বয়ে যাচ্ছে। এ জীবনে পেলাম অনেক,দিলামও অনেক। কিন্তু পথের তো শেষ নেই - সিদ্ধি,মহাসিধ্ধি,অতিসিদ্ধি। তাই চলতে হবে আরো অনেক,পেতে হবে আরো অনেক,বিলোতেও হবে আরো অনেক। এভাবেই যে চলতে হয় জীবন থেকে মহাজীবনের পথে। এ পথে যেটুকু পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করব তা যেন হয় ভগবত প্রাপ্তির প্রচেষ্টা। পার্থিব কিছু পাওয়ার জন্যে যেন চেয়ে সময় নষ্ট না করি।যা আজ আছে, কাল থাকবেনা। তাই চেয়ে কেন সময় নষ্ট করব? হাতে সময় তো বেশী নেই।যা আছে তা ব্যবহার করতে হবে ভগবৎ প্রাপ্তির জন্যেই। প্রতিটি জন্মদিন যেন আমাকে সেই বার্তাই দিয়ে যায় - পথিক,এগিয়ে চল।বেলা যে গেল। শেষ খেয়ায় ওঠার সময় এগিয়ে আসছে।তাই এবার সেরে নাও কাজের পালা।

    
  

Tuesday, 4 June 2013

।। হাসি তবু হাসি নয় ।। দুই - বন্ধু-র পথ বড় বন্ধুর

                              হাসি তবু হাসি নয়। 

                    দুই - বন্ধু-র পথ বড় বন্ধুর 

  জীবন হলো একটি কর্মক্ষেত্র। এটিকে তুমি যেমন বানাবে এটি তেমনিভাবেই ধরা দেবে তোমার কাছে। জীবনকে ভালোভাবে গড়তে  পারলে  তার কৃতিত্ব তোমার। সেটির বারোটা বাজালে তার দায়ও তোমার। আর এই কাজে তোমার পাশে বড় ভুমিকা নেবে তোমার বন্ধুরা। 
      জীবন তোমায় অনেক বন্ধু দেবে।অনেক বন্ধু ছিনিয়েও নেবে। আসবে অনেকে,থাকবে কিন্তু সামান্য কয়জন। এই বন্ধুরা আত্মীয়দের মধ্যে থেকে আসতে পারে,আসতে পারে স্কুল,কলেজের সুত্র ধরে কিংবা কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী হয়ে। কিন্তু তারা সত্যিকারের বন্ধু কিনা তা বোঝার অবসর ঠাকুরই দেবেন তোমায়।যখন দুঃখ আসবে তখনি চিনবে কে সঠিক বন্ধু। সুখের সময়ে বন্ধু সবাই।সেইসময়ে বোঝা যাবে তুমি কেমন বন্ধুবত্সল। আর দুঃখের সময় এলে বোঝা যাবে তোমার বন্ধুরা কতটা বন্ধুবত্সল। যারা হারাবার তারা তখনি হারাবে।আর যারা সেইসময়েও থাকবে তোমার পাশে বুঝবে তারাই যথার্থ বন্ধু। সেইসময়ের বন্ধুদের খুব ভালোভাবে ধরে রাখতে হয়।কারণ সেই হলো যথার্থ জন্ম- জন্মান্তরের সম্পর্ক। তারা একবার হারিয়ে যাওয়া মানে বিরাট ক্ষতি।তাই দুঃখের সময়ের বন্ধুদের আঁকড়ে থাকবে আর যারা শুধু সুখের পায়রা তাদের সাথে দুরত্ব বজায় রেখে থাকাই  ভালো। 
      ব্যক্তিগতভাবে আমি বলতে পারি - আমার বন্ধুর সংখ্যা খুব কম। কারণ সমভাবাপন্ন ছাড়া আমি মিশতে পারিনা। আর যাদের সাথে একবার মিশে যাই তাদের ছাড়তে পারিনা। স্কুলে আমি খুবই একঘরে জাতীয় ছিলাম সবার সাথে মিশতে পারতাম না বলে। আস্তে আস্তে অবশ্য মিশুকে হয়ে উঠি তবে তেলে  জলে ধাচের ছিলাম। মিশতাম উপর উপর। এইসময়ে বন্ধুও পেয়েছি কিছু ,আবার হারিয়েওছি। তবে আধ্যাত্মিক জীবনে আসার পরই পেলাম কিছু এমন বন্ধু যাদের সাথে নিজের আমিকে ভাগ করে নেয়া যায়। এই সাধনপথে যাদের সাহচর্য আমাকে খুব সাহায্য করে। এদের মধ্যে আমার আধ্যাত্মিক অধিবেসন গ্রুপের বন্ধুদের কথা বলতেই হয় যাদের প্রেরণা আমাকে বিরাট সাহায্য করে এগিয়ে যেতে। আসলে আমি বরাবরই মন দেখে বন্ধু বেছেছি।তাই বন্ধুসুত্রে কখনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি আমায়।

Sunday, 2 June 2013

হাসি তবু হাসি নয় - এক

                    হাসি তবু হাসি নয় 

                     ।।এক।।
 একটি মেয়ের আমার সাথে সম্বন্ধ এসেছিল ২০০৩-২০০৪ নাগাদ। নামটি ইচ্ছে করেই বলছিনা।কারণ মেয়েটি খুব ভালো। তার সাথে ছকে যে আমার মেলেনি এমন নয়। কিন্তু সেই মেয়েটির বাবার সাথে যার সুত্রে আমাদের আলাপ হয় সেই প্রতুলদার জন্যেই আমি রাজি হতে পারিনি। আমার " জীবন থেকে মহাজীবনের পথে" যাঁরা পড়ছেন তাঁরা অচিরেই জানতে পারবেন যে আশালতা সাধুখা নামের একজনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন এবং আমাদের প্রতি অজস্র তান্ত্রিকক্রিয়া তিনি করেছিলেন। এমনকি ২০০৪ সালে প্রতুলদা নতুন করে আসতে শুরু করার পর একদিন আমাদের বুকশেলফে একটি দাঁত পোয়া যায়। সেটি দেখেই বাবা বলেন এটা তান্ত্রিক ক্রিয়ার ব্যাপার।তারপর আমি ওটা আগুনে ফেলে দিয়ে একটু পুড়িয়ে বাইরে ফেলে দি।সেদিনই প্রতুলদার ছেলের মোবাইল চুরি যায় এবং কিসব আরো ঝামেলা ঘটে।যেহেতু প্রতুলদার source  থেকে মেয়েটি এসেছিল তাই আমি মেয়েটি ভালো জেনেও বিয়ে করতে রাজি হইনি কারণ হয়ত পরে ওর  অজান্তেই ওকে দিয়ে তেমন কিছু তিনি করাতে পারতেন। 
     মনে আছে - যখন আমার সম্বন্ধ আসে তখন  একদিন মেয়েটির আরেক পরিচিত মল্লিকদা বলছিলেন সে নাকি আমার দেবলোকের অমৃতসন্ধানে পড়ে আমার উপর খুব সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়েছিল।মল্লিকদার কাছে বলেছিল অনেক ভেবে - ওর সাথে বিয়ে হওয়ার পর ঝিলিক আর মৈত্রেয়ী আমাকে যদি না ছাড়ে তবে ওর কি হবে? ওর  বাড়ি থেকেও খুব ইচ্ছে ছিল আমার সাথে বিয়ে দেয়ার। কিন্তু প্রতুলদার জন্যে যেহেতু তাতে আমি রাজি হইনি তাই মেয়েটি এরপর আমার উপর খুব রেগে যায়। ওর রাগটাও স্বাভাবিক। কারণ প্রতুলদার কারণ ওকে বলা যায়নি। তবে যেটা অস্বাভাবিক সেটা হলো - ওই না করাটা সে এখনো ভুলতে পারেনি।তারপর থেকে যখনই ওর  ভালো কিছু হয়েছে তখনি ওর বরকে নিয়ে,ওর  ছেলেদের নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে একবার করে এসেছে  আমাদের আশ্রমে এবং বারবার আমাকে দেখিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যে ও বেশ ভালো আছে। ওর মনস্তত্ব বুঝি আমি। তাই কখনো কোনো কিছু বলিনা। 
      কালকের অধিবেশনেও পরে বাবার কাছে শুনলাম ও এসেছিল।এমনিতে আমি কাল  বক্তৃতা দেয়ার সময়ে অবশ্য খেয়াল করিনি কিন্তু যে বিষয়ে বক্তৃতা দিছিলাম তাতে যম,নিয়ম প্রসঙ্গে বলছিলাম। সেখানেই কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলাম - আমরা যে যা পেয়েছি তা নিয়েই খুশি থাকা ভালো।কে কি পেল,কে কি পেলনা এ নিয়ে মনকে ভাবানো  ভুল। কারণ এসেছি সামান্য কিছুদিনের জন্যে,চলেও যাব কিছুদিন পরে।তাই রাগ বা ঈর্ষা বা প্রতিহিংসা মনে রেখে কেন নিজেদের মনকে কষ্ট দেব। এটা কিন্তু কথাপ্রসঙ্গেই বলেছিলাম।
      রাতে ঘরে আসার পর বাবা যখন বলছিলেন যে ও এসেছিল তখন মা বললেন যে ও নাকি মাকে বলেছে যে আজকের অনুষ্ঠানে সবার বক্তৃতা আর গান নাকি খুব ভালো হয়েছে। শুনে ওর মন নাকি ভরে গেছে। যদিও আমি ওকে দেখিনি তবু আমার বক্তব্য  বুঝে ও যাতে শান্তি পায় সেটাই কামনা করি। কারণ আমরা কেউ যখনি কারোর উপর রেগে থাকি তখন অন্য প্রকারে আমরা নিজেদেরই আঘাত দিয়ে থাকি। আর ও সত্যি খুব ভালো মেয়ে।তাই ৯ বছর পর অন্তত ওর এই trauma থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত। সেই কামনাই করি।
    (অনেকদিন ব্লগ লেখা হচ্ছিল না বলে আজকে আমার ছোট বোন  তানিয়া একটু আগেই অনুরোধ করলো নতুন ব্লগের জন্যে। বোনের অনুরোধ তো ফেলা যায়না।অতএব লিখে ফেললাম একটি অশ্রু রাঙানো মজার অভিজ্ঞতা )