Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Monday, 2 March 2026

হোলিকা দহন কবে? আর রঙের হোলি কবে? এবার কি সুতক পালন করতে হবে না?

হোলি আসছে। রঙের উৎসব, আনন্দের উৎসব।
দেশজুড়ে উৎসবের বাতাস বইছে। বিশেষ করে মথুরা ও বৃন্দাবন–এ এখন থেকেই আকাশে বাতাসে রঙের আবেশ।

তবু মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
হোলিকা দহন কবে? আর রঙের হোলি কবে?
প্রায় প্রতি উৎসবেই এমন বিভ্রান্তি দেখা যায়। কেউ একদিন বলে, কেউ আরেকদিন। পঞ্জিকা ভেদে মতভেদ। তবে সত্যি বলতে কি, শাস্ত্রের নিয়ম বুঝলে আর কোনো দ্বিধা থাকে না।

 দেখ, হোলিকা দহন হয় ফাল্গুন পূর্ণিমায়। কিন্তু পূর্ণিমার প্রথম অর্ধাংশে থাকে “ভদ্রা”। আর শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে—ভদ্রার সময় হোলিকা দহন করা নিষেধ। নির্ণয় সিন্ধু, মদন রত্ন এবং পুরাণসমূহে বলা হয়েছে—ভদ্রার সময় হোলিকা জ্বালালে অশুভ ফল হয়। এমনকি দেশ বা নগরের অকল্যাণও হতে পারে। তাই নিয়ম একটাই—
ভদ্রা শেষ না হলে হোলিকা দহন করা যাবে না।

যদি ফাল্গুনী পূর্ণিমায় ভদ্রা থাকে, বিশেষ করে যদি ভদ্রা রাতের সময় পড়ে, তাহলে ভদ্রার মধ্যে হোলিকা দহন করা উচিত নয়। ভদ্রা শেষ হওয়ার পরেই হোলিকা দহন করতে হবে।

শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে— পূর্ণিমার রাতে যতক্ষণ ভদ্রা থাকে, ততক্ষণ হোলিকা জ্বালানো নিষিদ্ধ। এ বছর ২ তারিখ সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে। আর ভদ্রা থাকবে ভোর ৪টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। তাই ২ ও ৩ তারিখের মাঝের ভোরে, অর্থাৎ ৩ তারিখ ভোর ৪টা ৫৬ থেকে ৫টা ৩০–৪৫ মিনিটের মধ্যে হোলিকা দহন করা হবে।

২ তারিখ সন্ধ্যার পর রাত ১২টা বাজলেই ৩ তারিখ শুরু হবে। আর ৩ তারিখ ভোরেই নির্দিষ্ট সময়ে হোলিকা জ্বালাতে হবে। কাশীর ঋষিকেশ পঞ্চাং-ও একই কথা বলেছে। তাদের গণনার ভিত্তিতেই এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও সন্দেহ থাকলে ঋষিকেশ পঞ্চাং দেখে নিতে পারেন।

আবার এ বছর ৩ তারিখেই চন্দ্রগ্রহণ রয়েছে।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
যদি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয়, তবে গ্রহণের আগে এবং ভদ্রা শেষ হওয়ার পর হোলিকা দহন করতে হবে।
তাই ৩ তারিখ ভোরেই হোলিকা দহন সম্পন্ন হবে। যেহেতু এদিন সুতক পালন করতে হচ্ছে না তাই এদিন পূর্ণিমা থাকতেই ঠাকুরকে রঙ্গন আবীর দেয়া যাবে।
এরপর ৪ তারিখ সাধারণভাবে রঙের হোলি পালন করা হবে।

এবার আসি সুতক নিয়ে। এই বিষয়ে সূতক ও মন্দিরের নিয়ম নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। অনেকে বলছেন, গ্রহণে ১২ ঘণ্টার সূতক লাগবে।
কিন্তু এ বছর গ্রহণটি “গ্রস্তোদিত” চন্দ্রগ্রহণ।
অর্থাৎ, চাঁদ যখন উঠবে তখনই তা গ্রস্ত অবস্থায় থাকবে। ভারতে গ্রহণ দৃশ্যমান থাকবে মাত্র কিছুক্ষণ। কাশীর বিদ্বানদের মতে, এমন ক্ষেত্রে যতক্ষণ গ্রহণ দৃশ্যমান থাকবে, ততক্ষণই মন্দিরে পূজা বন্ধ থাকবে।
যেমন—
বাঁকে বিহারী মন্দির,
রাম মন্দির–এ
শুধু গ্রহণের সময়টুকুই পূজা স্থগিত থাকবে। পরে আবার নিয়মমত শুরু হবে। তাই  ১২ ঘণ্টার সূতক এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

গ্রহণের সময় বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তাদের উচিত—
গ্রহণ না দেখা।
গ্রহণের আগে গরুর গোবর বা হলুদের গুঁড়ো দিয়ে ছোট বল তৈরি করে সাতবার পেটের চারদিকে ঘুরিয়ে আলাদা রাখা
গ্রহণ শেষে তা জলে বিসর্জন দেওয়া
গ্রহণকালে না ঘুমানোই ভাল। কাঁচি বা ছুরি ব্যবহার করবে না। ঈশ্বরের নাম জপ করবে—রাম, কৃষ্ণ, হরি, শিব—যে কোনো নাম।
ধর্মীয় চিন্তায় মন রাখলে কোনো অশুভ প্রভাব পড়বে না—না মায়ের উপর, না গর্ভস্থ সন্তানের উপর।

 তবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বাস আর শাস্ত্রের নিয়ম মেনে চললে উৎসবই আশীর্বাদ হয়ে ওঠে।

#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent
#tarashis_gangopadhyay

চন্দ্রগ্রহণের সময় কুম্ভ রাশি এবং মীনরাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

চন্দ্রগ্রহণের সময় কুম্ভ রাশি  এবং মীনরাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?    

♒ কুম্ভ - “কুম্ভ রাশির সম্পর্ক ও বিবাহিত জীবনে সত্যের মুখোমুখি করাবে এই চন্দ্রগ্রহণ…”

♓ মীন - “মীন রাশির শত্রু, স্বাস্থ্য ও কর্মজীবনে অস্থিরতা আনতে পারে ৩ মার্চের গ্রহণ…”

এবার কথা বলি কুম্ভ রাশির জাতকদের নিয়ে। মার্চের চন্দ্রগ্রহণ কুম্ভ রাশির জন্য কী বার্তা আনছে? গ্রহণে কি তাদের উদ্বেগ বাড়বে? চলুন জানি।

৩রা মার্চ কুম্ভ রাশির সপ্তম ঘরে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। সপ্তম ঘর দাম্পত্য জীবন, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের ঘর। এই ঘরে গ্রহণ লাগলে বিবাহিত জীবনে ওঠানামা হতে পারে। জীবনসঙ্গীর স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে বা আচরণে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে মতভেদ হতে পারে। কিছু সম্পর্কের প্রকৃত রূপ সামনে আসতে পারে। সম্পর্ক বা অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত খুব ভেবে নিতে হবে। কথাবার্তায় স্বচ্ছতা রাখা জরুরি। গ্রহণকালে কৃষ্ণ চালিসা পাঠ করা ভালো।

♒ কুম্ভ

তাই কুম্ভ রাশির সম্পর্ক ও পার্টনারশিপে সত্য প্রকাশ পেতে পারে। কথাবার্তায় স্বচ্ছতা রাখুন।

আপনি কুম্ভ রাশি হলে কমেন্ট লিখুন “জয় শ্রীকৃষ্ণ”।

এবার শেষ করি মীন রাশির প্রসঙ্গে আলোচনা দিয়ে। মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মীন রাশির জন্য সুখ নাকি দুঃখ আনবে?

৩রা মার্চ মীন রাশির ষষ্ঠ ঘরে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। ষষ্ঠ ঘর রোগ, স্বাস্থ্য, ঋণ, শত্রু, প্রতিযোগিতা, চাকরি, আইনি বিবাদ ও মামার ঘর। 

এই ঘরে গ্রহণের প্রভাবে শত্রুরা সক্রিয় হতে পারে। তারা আপনার কাজে বাধা দিতে পারে। অনলাইন প্রতারণা থেকেও সাবধান থাকুন। লেনদেনে সতর্ক থাকুন। অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। অফিস রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন। স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকুন। খারাপ সঙ্গের কারণে অর্থ নষ্ট হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। ঋণ নেওয়ার আগে ভালোভাবে ভাবুন। 

গ্রহণকালে যে কোনো ধর্মগ্রন্থ মনে মনে পাঠ করে তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন।

♓ মীন
তাই মীন রাশির শত্রু সক্রিয় হতে পারে, স্বাস্থ্যেও নজর দিন।
সতর্ক থাকুন, নিয়ম মেনে চলুন।

আপনি মীন রাশি হলে কমেন্ট লিখুন “হরি বোল”।

#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent
#tarashis_gangopadhyay

চন্দ্রগ্রহণের সময় ধনুরাশি এবং মকর রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

চন্দ্রগ্রহণের সময় ধনুরাশি এবং মকর রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

♐ ধনু - “ধনু রাশির ভাগ্য ও ধর্মপথে নতুন পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে এই গ্রহণে…”
♑ মকর - “মকর রাশির জীবনে হঠাৎ ঘটনা, গোপন সমস্যা ও অর্থচাপ আনতে পারে এই গ্রহণ…”

৩ মার্চ ধনু রাশির জাতকদের নবম ঘরে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। কুণ্ডলীর নবম ঘর ভাগ্য, ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, গুরু, উচ্চশিক্ষা, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং আইনি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। এই ঘরে গ্রহণ লাগলে ভাগ্যের সহায়তা কিছুটা কমে যেতে পারে। পিতা বা পিতৃতুল্য কারও সঙ্গে মতভেদ হতে পারে। দূরযাত্রায় বাধা বা কষ্ট আসতে পারে। উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হতে পারে। আপনি দ্বিধায় থাকবেন, তবে আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝোঁক বাড়বে। তাড়াহুড়ো করে বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না। তর্ক-বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন। গ্রহণকালে মনে মনে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করলে উপকার পাবেন।

♐ ধনু
তাই ধনু রাশির ভাগ্যে সাময়িক বাধা এলেও আধ্যাত্মিক উন্নতি হবে। ভ্রমণ বা সিদ্ধান্তে সতর্ক থাকুন।

আপনি ধনু রাশি হলে কমেন্ট  লিখুন “ওঁ নমো নারায়ণায়”।

এবার আসি মকর রাশির কথায়। 

৩রা মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মকর রাশির জন্য কেমন হবে? গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংকট থাকবে নাকি কমবে — চলুন দেখি।

৩রা মার্চ মকর রাশির জাতকদের অষ্টম ঘরে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। অষ্টম ঘর আকস্মিক ঘটনা, আয়ু, স্বাস্থ্য, গোপন বিষয়, গুপ্তধন, শ্বশুরবাড়ি, গবেষণা ও রহস্যের ঘর; একে মৃত্যুঘরও বলা হয়। এই ঘরে গ্রহণ লাগলে হঠাৎ খরচ বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক অবস্থায় ওঠানামা হবে। স্বাস্থ্য নিয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। ঋণ বা কর সংক্রান্ত বিষয় অবহেলা করবেন না। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে। চিন্তাধারা ও আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকুন। গাড়ি সাবধানে চালান। গ্রহণকালে মনে মনে সুন্দরকাণ্ড পাঠ করা শুভ।

♑ মকর
তাই দেখছেন মকর রাশির জীবনে হঠাৎ ঘটনা ও অর্থচাপ আসতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলুন।

আপনি মকর রাশি হলে কমেন্ট  লিখুন “মহাদেব সহায়”।

পরের পোস্টে আসছে কুম্ভ রাশি ও মীন রাশিতে প্রসঙ্গে আলোচনা।

(পরের পোস্টে শেষ হবে এই লেখাটি)

#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent

চন্দ্রগ্রহণের সময়তুলা রাশি এবং বৃশ্চিক রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

চন্দ্রগ্রহণের সময়
তুলা রাশি এবং বৃশ্চিক রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে? 

♎ তুলা - “তুলা রাশির আয়, বন্ধু আর লক্ষ্য—সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলবে এই চন্দ্রগ্রহণ…”

♏ বৃশ্চিক - “বৃশ্চিক রাশির ক্যারিয়ার ও সম্মানে বড় মোড় আনতে পারে ৩ মার্চের গ্রহণ…”

এবার আসি তুলা রাশির জাতকদের কথায়। ৩ মার্চ যে চন্দ্রগ্রহণ লাগছে, এতে তাদের কতটা সতর্ক থাকা দরকার? এই গ্রহণ কি তাদের সুখে ছায়া ফেলবে, নাকি উন্নতির পথ খুলে দেবে — চলুন জেনে নেওয়া যাক।

৩রা মার্চ তুলা রাশির জাতকদের জন্মকুণ্ডলীর একাদশ ঘরে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। একাদশ ঘর মানে আয়, লাভ, বড় ভাই, জীবনের লক্ষ্য, নেটওয়ার্ক ও সামাজিক সম্মানের ঘর। এই ঘরে গ্রহণ লাগলে আয়ের ক্ষেত্রে ওঠানামা হতে পারে। টাকা পাওয়ায় দেরি হতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে, ভুল বোঝাবুঝিও বাড়তে পারে। আবার কোনো পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হতে পারে।

বড় লক্ষ্য পূরণ করতে চাইলে পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। নিজের সামাজিক পরিসরে কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে। আশা পূরণ না হলে মন খারাপ হতে পারে। অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত প্রমাণ রাখা ভালো। কারও সঙ্গে বিবাদে না জড়ানোই উত্তম।

চন্দ্রগ্রহণের সময় সম্ভব হলে মনে মনে দুর্গা সপ্তশতী পাঠ করুন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে দুর্গা সপ্তশতীর কবচ তিনবার পাঠ করতে পারেন। এটিও আপনাকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সুরক্ষা দেবে, যেন এক অদৃশ্য রক্ষাকবচ আপনার শরীর ও মনকে রক্ষা করছে এবং আপনাকে সুখী জীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

♎ তুলা
অর্থাৎ তুলা রাশির আয়, বন্ধু ও লক্ষ্য নিয়ে নতুন ভাবনা আসতে পারে। সবার উপর ভরসা করবেন না।

আপনি তুলা রাশি হলে কমেন্ট লিখুন “জয় মা”।

এবার আসি বৃশ্চিক রাশির জাতকদের কথায়। ৩ মার্চ তাদের দশম ঘরে চন্দ্রগ্রহণ লাগবে। দশম ঘর কর্মজীবন, ব্যবসা, সম্মান, সরকারি কাজ, জীবনের দিশা এবং পিতার ঘর। এই ঘরে গ্রহণ হলে কর্মজীবনে হঠাৎ পরিবর্তন আসতে পারে। ছোট বয়স হলে পিতার অসুবিধা হতে পারে। চাকরিতে নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন। বস বা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে মতভেদ হতে পারে। চাকরি বদলানোর ইচ্ছা জাগতে পারে। অফিসে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আপনার প্রতি বদলাতে পারে। পরিশ্রমের ফল পেতে দেরি হতে পারে। নিজের অধিকারের জন্য লড়তেও হতে পারে।

এই সময়ে অফিস রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন। রাগের মাথায় চাকরি ছাড়বেন না বা বদলাবেন না। গ্রহণকালে সুন্দরকাণ্ড বা হনুমান চালিসার মানসিক পাঠ করতে পারেন। চন্দ্রের মন্ত্রও জপ করা যেতে পারে।

♏ বৃশ্চিক 
তাই বৃশ্চিক রাশির কর্মজীবনে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। ধৈর্য রাখুন, ফল দেরিতে আসবে।

আপনি বৃশ্চিক রাশি হলে কমেন্টে লিখুন “জয় হনুমান”।

 পরের পোস্টে আসছে ধনু রাশি এবং মকর রাশির প্রসঙ্গে আলোচনা।

  (ক্রমশ)

#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent
#tarashis_gangopadhyay #তারাশিস_গঙ্গোপাধ্যায়

চন্দ্রগ্রহণের সময় সিংহ রাশি ও কন্যা রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

চন্দ্রগ্রহণের সময়
সিংহ রাশি ও কন্যা রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

♌ সিংহ - “সিংহ রাশির ভাগ্যচক্র ঘুরে যেতে পারে এই চন্দ্রগ্রহণে—সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পড়ুন…”
♍ কন্যা - “কন্যা রাশির জীবনে লুকানো শত্রু ও অপ্রত্যাশিত খরচ বাড়াতে পারে এই গ্রহণ…”

এবার আসি সিংহ রাশির কথায়।

৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ সিংহ রাশির লগ্নে পড়ছে। জন্মকুণ্ডলীর প্রথম ঘর ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও জীবনের দিশার সঙ্গে যুক্ত।

লগ্নে গ্রহণ পড়লে মানসিক ও আবেগগত ওঠানামা হতে পারে। আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। না ভেবে হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন। মনে অস্থিরতা ও চাপ থাকতে পারে। স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তবে জীবনে কিছু নতুন পরিবর্তনও আসতে পারে।

অন্যদের কাছ থেকে বেশি আশা করবেন না—নাহলে হতাশা বাড়বে। রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না। অহংকার এড়িয়ে চলুন। ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকুন। নিজের ডাক্তার নিজে হয়ে উঠবেন না, অসাবধানতা করবেন না।

গ্রহণের সময় আদিত্য হৃদয় স্তোত্র মানসিকভাবে পাঠ করা ভালো। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরও পাঠ করতে পারেন। গ্রহণ শেষ হলে স্নান করে শিবমন্দিরে যান। শিবলিঙ্গের পূজা করুন এবং একটি প্রদীপ অবশ্যই জ্বালান। বিশ্বাস করা হয়, এতে গ্রহণের অশুভ প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।

♌ সিংহ
অর্থাৎ সিংহ রাশির আত্মবিশ্বাসে সাময়িক দোলাচল আনতে পারে এই গ্রহণ। বড় সিদ্ধান্ত কয়েকদিন পিছিয়ে দিন।

আপনি সিংহ রাশি হলে কমেন্টে লিখুন “হর হর মহাদেব”।

এবার কথা বলা যাক কন্যা রাশির জাতকদের নিয়ে।
৩রা মার্চের চন্দ্রগ্রহণ কন্যা রাশির দ্বাদশ ঘরে পড়ছে। এই ঘর ব্যয়, বিদেশযাত্রা, ক্ষতি, হাসপাতাল, আদালত, মানসিক চাপ, নিঃসঙ্গতা ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই গ্রহণের কারণে সঞ্চয়ে প্রভাব পড়তে পারে। হঠাৎ বড় খরচ আসতে পারে। পরিবারের কারও চিকিৎসায় ব্যয় হতে পারে। মানসিক অস্থিরতা বাড়বে, ঘুমে সমস্যা হতে পারে। আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রও হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন। অফিস রাজনীতিতে জড়াবেন না।

চাকরি বদলাতে চাইলে বা নতুন চাকরি খুঁজলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। ধর্মকর্মে আগ্রহ বাড়বে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান। নিজের পরিকল্পনা সবাইকে বলবেন না। কর্মক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকুন।

গ্রহণের সময় গণেশ চালিসা পাঠ করা বা মানসিকভাবে গণেশের পূজা করা শুভ।

♍ কন্যা
অর্থাৎ কন্যা রাশির জন্য বাড়তে পারে খরচ, মানসিক চাপ ও নিঃসঙ্গতা। ধ্যান বা প্রার্থনা উপকার দেবে।

আপনি কন্যা রাশি? তাহলে কমেন্ট লিখুন “জয় গণেশ”।

পরের পোস্টে আসছে তুলা রাশি এবং বৃশ্চিক রাশির প্রসঙ্গ।

(ক্রমশ)

#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent

Sunday, 1 March 2026

চন্দ্রগ্রহণের সময়মিথুন রাশি ও কর্কট রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

চন্দ্রগ্রহণের সময়
মিথুন রাশি ও কর্কট রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?  

♊ মিথুন - “মিথুন রাশির লোকেরা সাবধান! এই গ্রহণ আপনার জীবনের গোপন সত্য সামনে আনতে পারে…”
♋ কর্কট - “কর্কট রাশির অর্থ ও পরিবারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ৩ মার্চের গ্রহণ…”

এবার আসা যাক মিথুন রাশির প্রসঙ্গে।

৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মিথুন রাশির তৃতীয় ঘরে পড়বে। এই ঘর সাহস, আত্মবিশ্বাস, ছোট ভাইবোন, যোগাযোগ, ছোট ভ্রমণ, লেখালেখি, মিডিয়া ও মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।

এই কারণে এইসময়ে এই রাশির জাতকদের যোগাযোগে ভুল হতে পারে, অসম্পূর্ণ তথ্য ক্ষতিকর হতে পারে, ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। ভাইবোনের সঙ্গে মতভেদ হতে পারে। কথাবার্তায় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে—আপনার কথা ভুলভাবে নেওয়া হতে পারে। ছোট ভ্রমণে বাধা বা দেরি হতে পারে।

এই সময়ে অকারণ তর্ক এড়িয়ে চলুন। শব্দ বেছে কথা বলুন। কারও নিন্দা করবেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাগজে সই করার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন।
গ্রহণের সময় নিজের ইষ্টদেবতার মানসিক স্মরণ করুন এবং নিজের মন্ত্র জপ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল—গ্রহণের সময়টাকে সৎ কাজে, জপ, ধ্যান ও আত্মচিন্তায় ব্যবহার করা।

♊ মিথুন
অর্থাৎ মিথুন রাশির জীবনে লুকানো সত্য প্রকাশ পেতে পারে এই গ্রহণে। মানসিকভাবে স্থির থাকুন, সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া নয়।

আপনি মিথুন রাশির জাতক হলে কমেন্টে লিখুন “ওঁ শান্তি”।

এবার আসি কর্কট রাশির প্রসঙ্গে।

৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ কর্কট রাশির দ্বিতীয় ঘরে পড়ছে। 

জন্মকুণ্ডলীর দ্বিতীয় ঘর ধন, সঞ্চয়, বাক্‌শক্তি, পরিবার ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই গ্রহণ আপনার আর্থিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। হঠাৎ খরচ বেড়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ওঠানামা হতে পারে। কিছুদিন বড় বিনিয়োগ স্থগিত রাখা ভালো। কথাবার্তায় তিক্ততা বাড়লে ঝগড়া হতে পারে। পরিবারেও পুরনো বিরোধ আবার সামনে আসতে পারে। চোখ, গলা বা পেটের সমস্যা হতে পারে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে।

না ভেবে বিনিয়োগ করবেন না। কথা বলার আগে দুবার ভাবুন। গ্রহণের দিনে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেবেন না। গ্রহণের সময় মানসিকভাবে শিব, রাহু ও চন্দ্রের মন্ত্র জপ করলে শুভ হবে।

♋ কর্কট
অর্থাৎ কর্কট রাশির পরিবার ও অর্থভাগ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এই চন্দ্রগ্রহণ। বাক্য সংযত রাখুন, ঝগড়া এড়িয়ে চলুন।

আপনি কি কর্কট রাশি? লিখুন “ জয় মা দুর্গা”।

পরের পোস্টে আসছে সিংহ রাশি এবং কন্যা রাশি প্রসঙ্গে আলোচনা।
  (ক্রমশ)

#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent

চন্দ্রগ্রহণ মার্চ ২০২৬। কি করবেন আর কি করবেন না? বলছেন তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।

৩রা মার্চ হতে চলেছে বছরের প্রথম দৃশ্যমান চন্দ্রগ্রহণ। অনেকেই প্রশ্ন করছেন - এই গ্রহণ কোন সময়ে লাগবে? সূতককাল কখন থেকে শুরু হবে? গ্রহণের সময় ও পরে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক গ্রহণের সময়সূচি, সূতককাল এবং গ্রহণের সময় কী কী সতর্কতা প্রয়োজন।

আমরা জানি—গ্রহণ মানে হল যখন সূর্য বা চন্দ্র রাহু-কেতুর দ্বারা পীড়িত হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী রাহু দেবতাদের মাঝে বসে অমৃত পান করেছিল। সূর্যদেব ও চন্দ্রদেব বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাঁরা ইঙ্গিত দেন ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে। তখন বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর মাথা কেটে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অমৃত শরীরে পৌঁছে গিয়েছিল, তাই রাহুর দেহ দুই ভাগ হয়ে যায়—এক ভাগ কেতু, অন্য ভাগ রাহু।

জ্যোতিষ মতে, জন্মকুণ্ডলীতে সূর্য বা চন্দ্র যদি রাহু বা কেতুর সঙ্গে একই ডিগ্রিতে অবস্থান করে—অমাবস্যা বা পূর্ণিমার দিনে—তখনই গ্রহণ ঘটে।

২০২৬ সালের ৩রা মার্চ চন্দ্রগ্রহণ হবে সিংহ রাশি ও পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে। মোট সময় হবে ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট—দুপুর ৩টা ২১ থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ পর্যন্ত। তবে ভারতে এটি মাত্র ২০ মিনিট ২৮ সেকেন্ড দেখা যাবে, কারণ চন্দ্রোদয়ের সময় গ্রহণ প্রায় শেষের দিকে থাকবে।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সূতক শুরু হবে ৩রা মার্চ সকাল ৬টা ২১ থেকে।
এখন জেনে নেয়া যাক সূতক কি আর গ্রহণের সময় কী কী সতর্কতা ও করণীয়।

সাধারণভাবে সূতক হল রাহুর বলবৃদ্ধির সময়। রাহু যে সূর্য বা চন্দ্রকে গ্রাস করবে তার আগে তো তার শক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। এই রাহুর শক্তিবৃদ্ধির সময়ই হল গ্রহণের সুতক। সাধারণভাবে সূর্য গ্রহণ হবার বারো ঘন্টা আগে এবং চন্দ্র গ্রহণ হবার নয় ঘন্টা আগে থেকে সুতক শুরু হয়। যেহেতু এই সময় রাহুর শক্তি বৃদ্ধি হতে থাকে তাই এই সময় মাঙ্গলিক কর্ম করতে নেই। বৃন্দাবন বা বাংলার বাইরের তীর্থে দেখবেন সুতক অনুসরণ করা হয়। সেখানে তো এই সময় থেকেই মন্দির ও ধর্মস্থানগুলির দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মূর্তি স্পর্শ করা নিষিদ্ধ থাকে। তবে মূর্তি ছাড়া পূজা, জপ, প্রার্থনা করা যায়।

স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সূতকের ১২ ঘণ্টায় খাওয়া-দাওয়া না করাই ভালো। তবে বৃদ্ধ, শিশু বা অসুস্থরা স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে পারেন।

গৃহিণীদের উচিত সূতক শুরুর আগে চাল, ডাল, আটা, সবজি—সব খাবারে একটি করে তুলসী পাতা রাখা, যাতে গ্রহণের পরও তা ব্যবহারযোগ্য থাকে।

গ্রহণের সময় বাইরে না গিয়ে ঘরে বসে জপ বা মানসিক প্রার্থনা করা শ্রেয়। গ্রহণ শেষে স্নান করে চিনি, চাল, কাপড় ইত্যাদি দান করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।

চন্দ্রগ্রহণের সম্পর্ক মানুষের মন, আবেগ ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই এটি আধ্যাত্মিক ও মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে তাই জপ করা খুব ভাল।

অনেকেই বলবেন—গ্রহণের সময় কেন মন্ত্রজপ করতে বলছি? কারণ এই সময়ে সুস্থ মানুষের শরীরে সুষুম্না নাড়ির প্রবাহ সক্রিয় থাকে। 

এখন প্রশ্ন করতেই পারেন—সুষুম্না নাড়ি কী?

তাহলে একটু সহজ করে বলি। জানেন তো, মানুষের নাকে দুটি ছিদ্র থাকে। বাম নাসারন্ধ্রকে বলা হয় ইড়া নাড়ি, আর ডান নাসারন্ধ্রকে বলা হয় পিঙ্গলা নাড়ি। সাধারণত এক সময় একটিই নাড়ি সক্রিয় থাকে; দুটো একসাথে খুব কমই সক্রিয় হয়।

যখন বাম নাক দিয়ে শ্বাস চলে, তাকে গঙ্গা নাড়ি বা ইড়া নাড়ি চলতে থাকে। যখন ডান নাক দিয়ে শ্বাস চলে, তাকে যমুনা নাড়ি বা পিঙ্গলা নাড়ি চলতে থাকে। আর যখন দুই নাক দিয়েই সমানভাবে শ্বাস চলতে থাকে, তখন বলা হয় সরস্বতী নাড়ি বা সুষুম্না নাড়ি চলছে।

আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন, ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করলে মোক্ষ লাভ হয়, পাপ ধুয়ে যায়। সঙ্গম মানে কি? গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর মিলন। যেমন প্রয়াগরাজে গঙ্গা ও যমুনার জল মিলিত হয়—সেই মিলনক্ষেত্রকে সঙ্গম বলা হয় এবং মানুষ সেখানে স্নান করে নিজেকে ধন্য মনে করে।

ঠিক তেমনই শরীরের ভিতরেও একটি সূক্ষ্ম সঙ্গম আছে। যখন ইড়া ও পিঙ্গলা সমানভাবে প্রবাহিত হয়, তখন সুষুম্না সক্রিয় হয়—এটাই শরীরের সূক্ষ্ম সঙ্গম। সেই অবস্থায় যদি কেউ ধ্যান করে, সমাধিতে বসে বা গভীর মনসংযোগে থাকে—সেই অবস্থাই মোক্ষের পথ। তবে দেখা যাচ্ছে যে দেহের বাইরের 
স্থূল সঙ্গম যেমন প্রয়াগরাজে, তেমন দেহের ভিতরের সূক্ষ্ম সঙ্গম মানুষের শরীরে।

মনে করে দেখুন, প্রাচীনকালে ঋষি-মুনি বা দেবতারা যখন কাউকে আশীর্বাদ বা অভিশাপ দিতেন, তখন দুটি বিশেষ মানসিক অবস্থায় দিতেন—অত্যন্ত প্রসন্ন অবস্থায় আশীর্বাদ, আর প্রবল ক্রোধে অভিশাপ। এই দুই অবস্থাতেই সুষুম্না নাড়ি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় হয়ে যায়। কোনও সাধারণ মানুষও যদি খুব বেশি আনন্দিত হয় বা ক্রুদ্ধ হয়, তার সুষুম্না সক্রিয় হতে পারে। তাই সুষুম্না সক্রিয় অবস্থায় বলা কথা শক্তিশালী হয়—আশীর্বাদও সত্য হয়, অভিশাপও সত্য হয়। তবে এই আশীর্বাদ ও অভিশাপ সত্য হওয়ার জন্যে একটা শর্ত আছে। একজন সাধু বলেছিলেন—অন্যের অন্ন খেলে জিভ অপবিত্র হয় আর অন্যের অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ স্পর্শ করলে হাত অপবিত্র হয়। অথচ আশীর্বাদ ও অভিশাপ—এই হাত ও জিভ দিয়েই দেওয়া হয়। তাই এই দুইয়ের ক্ষেত্রেই দেহের পবিত্রতা রাখা জরুরি।

সুষুম্না সক্রিয় অবস্থায় সাধারণ সংসারিক কাজ করা ঠিক নয়। যেমন—কোন নতুন ভ্রমণ শুরু করা, বাড়ি তৈরি করা, গাড়ি কেনা, বা গর্ভধারণ—এগুলো করলে অশুভ ফল হতে পারে বলে শাস্ত্রে বলা হয়েছে।

শাস্ত্র অনুযায়ী দিনে চারবার স্বাভাবিকভাবে সুষুম্না সক্রিয় হয়—
১. ব্রাহ্মমুহূর্তে (ভোর ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে)।
২. দিনের এক বিশেষ সময়ে (প্রায় পৌনে ৫টার কাছাকাছি)।
৩. সূর্যাস্তের ১৫ মিনিট আগে ও পরে।
৪. মধ্যরাতে ১২টার ১৫ মিনিট আগে ও পরে।
এই সময়গুলোতে প্রায় কয়েক মিনিটের জন্য সুষুম্না প্রবাহিত হয়। তাই এসব সময়ে  সাংসারিক কাজ নিষেধ করা হয়েছে।

চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সময় সুষুম্না সক্রিয় থাকে বলে মনে করা হয়। তাই এই সময়ে মন্ত্রজপ করলে তা দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং জীবনে ফল দেয়। এই কারণে গ্রহণকে এক অর্থে আশীর্বাদও বলা হয়—যদি সময়ের সদ্ব্যবহার করা যায়।
আজকের যুগ অর্থকেন্দ্রিক হলেও ভারতে এখনও ঈশ্বরবিশ্বাস আছে, মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝে। তাই যদি এই সময় ধ্যান, সাধনা ও ঈশ্বরস্মরণে ব্যবহার করা যায়—তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?

 আগামীকাল রবিবার। আমার বইয়ের লেখার দিন। সোমবার থেকে লিখব এই গ্রহণ বিভিন্ন রাশিতে কি ফল দেবে। যাঁরা যাঁরা পড়বেন তাঁরা জানাবেন তাঁদের কি রাশি।
   (ক্রমশ)

#আধ্যাত্মিকতা
#ধর্মকথা
#জীবনেরসত্য
#আত্মজাগরণ
#গুরুবচন
#সৎসঙ্গ
#ভক্তি
#SpiritualAwakening
#InnerPeace
#SanatanDharma
#SpiritualWisdom
#SoulJourney
#MeditationLife
#DivinePath
#BhaktiYoga
#SeekTheTruth
#HigherConsciousness
#Enlightenment
#tarashis_gangopadhyay

৩রা মে চন্দ্রগ্রহণের সময় মেষ রাশি এবং বৃষ রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

চন্দ্রগ্রহণের সময়
মেষ রাশি এবং বৃষ রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে?

♈ মেষ  “৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মেষ রাশির জীবনে হঠাৎ পরিবর্তন আনতে পারে… আপনি প্রস্তুত তো?”
♉ বৃষ “বৃষ রাশির জন্য এই চন্দ্রগ্রহণ অর্থ ও সম্পর্ক—দুটোতেই বড় পরীক্ষা নিয়ে আসছে…”

চন্দ্রগ্রহণ প্রসঙ্গে আগেই লিখেছি। এবার রাশিফল প্রসঙ্গে আসা যাক। সর্বপ্রথম মেষ রাশি দিয়ে শুরু করছি।

৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মেষ রাশির পঞ্চম ঘরে পড়বে। 

এবার দেখা যাক জন্মকুণ্ডলীর পঞ্চম ঘর কি নির্দেশ করে? 
পঞ্চম ভাব শিক্ষা, সন্তান, প্রেম, সৃজনশীলতা ও মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত। তাই এই গ্রহণের ফলে মেষ রাশির জাতকদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দিতে পারে। অহংকার বাড়লে সম্পর্কে তিক্ততা আসতে পারে। তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। মানসিক চাপ বাড়তে পারে। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মতভেদ হতে পারে। সন্তানের স্বাস্থ্য ও পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

এই সময়ে সম্পর্ক বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ভেবে নিন। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন। গ্রহণের সময় খাবার না খাওয়াই ভালো। মানসিকভাবে হনুমান চালিশা, গায়ত্রী মন্ত্র, শিব নাম, কৃষ্ণ নাম বা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে পারেন। এতে ইতিবাচক শক্তি বাড়বে।

গ্রহণের পরে দুধ, চাল, দই বা সাদা কাপড় দান করা শুভ। একটি প্রচলিত কথা আছে—“গ্রহণে রাজা দান করে, প্রজা স্নান করে।” অর্থাৎ যে সচ্ছল, সে দান করবে; আর সাধারণ মানুষ পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্য লাভ হয়। তাই গ্রহণের পরে দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র বা যা সম্ভব দান করা উত্তম।

এবার গর্ভবতী নারীদের বিষয়ে—ভারতে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণের আগে গর্ভবতী নারী যদি সামান্য শুকনো গোবর নিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে সাতবার পেটে ঘুরিয়ে রেখে দেন, তাহলে গর্ভস্থ শিশুর ওপর অশুভ প্রভাব পড়ে না—এমন ধারণা রয়েছে।

গ্রহণের সময় (যেটা প্রায় ২০ মিনিট ২৮ সেকেন্ড) ঘুমানো উচিত নয়। ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করা উচিত নয়, কিছু কাটা উচিত নয়, বাইরে গিয়ে গ্রহণ দেখা উচিত নয়। ঘরের ভেতরে শান্তভাবে থাকা উচিত।
এই সময় যদি সম্ভব হয়, বসে বসে “সীতা-রাম”, “রাধা-কৃষ্ণ”, বা হরিনাম জপ করা ভালো। মন শান্ত ও আনন্দে রাখা উচিত, কোনও নেতিবাচক চিন্তা আনা উচিত নয়। সংসারের কাজ এড়িয়ে এক জায়গায় স্থির হয়ে সাধনায় বসা উত্তম। এতে গর্ভস্থ শিশুর ওপর ভালো প্রভাব পড়ে এবং শিশুর গুণাবলি উন্নত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

♈ অর্থাৎ ৩রা মার্চের চন্দ্রগ্রহণ মেষ রাশির জীবনে হঠাৎ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু থামুন, ভাবুন।

আপনি কি মেষ রাশি? কমেন্টে লিখুন “জয় মা মঙ্গলচণ্ডী”।

এবার আসা যাক বৃষরাশির প্রসঙ্গে।

৩রা মার্চের চন্দ্রগ্রহণ বৃষ রাশির চতুর্থ ঘরে পড়বে। এই ঘর মা, পরিবার, সম্পত্তি, যানবাহন, মানসিক শান্তি ও গৃহসুখের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে পারিবারিক পরিবেশ কিছুটা অশান্ত হতে পারে। পুরনো সমস্যা আবার সামনে এসে বিরোধ বাড়াতে পারে। মনে অস্থিরতা বা নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে পারে। মায়ের সঙ্গে কিছুটা মানসিক দূরত্ব অনুভব হতে পারে, মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও থাকতে পারে।

বাড়ি, জমি বা গাড়ি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাবধানে নিন। বাড়ি বদলানো বা বাড়িতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা হতে পারে। মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তাই সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝগড়া এড়িয়ে চলুন এবং কথাবার্তায় সংযম রাখুন।

গ্রহণের সময় শ্রীসূক্ত মানসিকভাবে পাঠ করুন বা চন্দ্রের মন্ত্র জপ করুন। গ্রহণের পরে শিবমন্দিরে দুধ ও চাল দান করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।

আমার কাছে একটি প্রশ্ন প্রায়ই আসে—সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণ কি একইভাবে প্রভাব ফেলে? এর উত্তরে বলি - জ্যোতিষ মতে, চন্দ্র মনকে নির্দেশ করে, আর সূর্য আত্মাকে। তাই চন্দ্রগ্রহণ মানুষের মন, আবেগ ও মানসিক স্থিতিকে প্রভাবিত করে। সূর্যগ্রহণ আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবলকে প্রভাবিত করে। কারও আত্মবল দুর্বল হলে সে মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না, নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না, পরীক্ষায় বসে ভয় পায়, ইন্টারভিউতে গুলিয়ে যায়। তাই সূর্যগ্রহণ আত্মিক শক্তিকে প্রভাবিত করে, আর চন্দ্রগ্রহণ মানসিক শক্তিকে।
এই দৃষ্টিতে দেখলে—দুটোরই আলাদা প্রভাব আছে। মন ও আত্মা—দুটোই শক্তিশালী হলে তবেই না মানুষ সফল হয়।

♉ বৃষ - 
অর্থাৎ এই গ্রহণ বৃষ রাশির অর্থ ও স্থিতিশীলতায় সাময়িক টানাপোড়েন আনতে পারে।
খরচে সতর্ক থাকুন, ধৈর্য ধরুন।

আপনি বৃষ হলে কমেন্ট লিখুন “জয় মা লক্ষ্মী”।

পরের পোস্টে আসছি মিথুন রাশি এবং কর্কট রাশি প্রসঙ্গে

(ক্রমশ)

   #চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent

Saturday, 28 February 2026

কেতু ক্ষতি করে না, এগিয়ে দেয় মুক্তির দিকে।(গুরু ও শিষ্যের সংলাপ)

কেতু ক্ষতি করে না, এগিয়ে দেয় মুক্তির দিকে।
(গুরু ও শিষ্যের সংলাপ)

পাত্র
গুরু — অন্তর্মুখী, শান্ত, মৃদু অথচ দীপ্ত কণ্ঠ।
শিষ্য — জিজ্ঞাসু, অস্থির, মুক্তির পথের সন্ধানী।

দৃশ্য:
অশ্বত্থতলার নীচে সন্ধ্যার আলো নিভে এসেছে। দূরে শঙ্খধ্বনি। বাতাসে ধূপের গন্ধ। শিষ্য গুরুদেবের পায়ের কাছে বসে প্রশ্ন করছে।

শিষ্য: গুরুদেব, আমার তো কেতুর কথা শুনলেই মনে অদ্ভুত ভয় জাগে। লোকে বলে সে নাকি সব কেড়ে নেয়, সংসার ভেঙে দেয়, ভালোবাসার মানুষদের বিচ্ছিন্ন করে। তবে কি সে অমঙ্গলময়?

গুরু (মৃদু হাসি):
যে কেড়ে নেয়, সে-ই তো শূন্যতা দেয়; আর শূন্যতা ছাড়া পূর্ণতার স্থান কোথায় বল? জানবে রাহু যেখানে ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা,
কেতু সেখানে অতীত জন্মের অনুরণন। তাই 
কেতু ক্ষতি করে না, সে শুধু তোমার আসক্তির গিঁট খুলে দেয়।

প্রথম ছয় ভাবের মধ্যে কেতু মানুষের পরিচয়, মন, সাহস, কর্ম, বুদ্ধি ও সংগ্রামকে নিঃশব্দে পুনর্গঠন করে। জাগায় আত্মবোধ, নীরব শক্তি, সূক্ষ্ম সাহস এবং তাকে জন্মগত জ্ঞানের পথে নিয়ে যায়।

শেষ ছয় ভাবের মধ্যে কেতু  মানুষকে সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে, সমাজ থেকে আলাদা করে, তার কর্মকে শুদ্ধ করে, এবং শেষে
নিজের মধ্যে বিলীন করে দেয়। অর্থাৎ এক কথায় তাকে জগৎ ও জীবের থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের অন্তরে মিলিয়ে দেয়। 

যেখানে সে আসে, সেখানে তোমার অহংকে চূর্ণ করে,
আর তার ফলে খুলে যায়  তোমার মুক্তির দ্বার। অর্থাৎ কেতু তোমার থেকে অনেক কিছু কেড়ে নেয় ঠিকই… কিন্তু ভেবে দেখলে বুঝবে যা তোমার আসক্তি, সেটাই কেড়ে নেয়।  কেড়ে নিয়ে শেখায় যাতে তুমি জীবনের মূল সত্যিটা দেখতে পাও। 

শিষ্য: মানে?

গুরু: ধর, কেতু যেখানে বসে, সেখানে তুমি সবসময় মনে করবে — “কিছু যেন ঠিক নেই। কিছু যেন পূর্ণ হয় নি।” আর
এই অস্বস্তিটাই তোমাকে ভিতরের দিকে ঠেলে দেয় নিজেকে জানতে।

শিষ্য: গুরুদেব, যদি কেতু লগ্নে থাকে?

গুরু: এখানে কেতু অহংকে নীরবে ধ্বংস করে। ফলে মানুষ নিজেকে যেন দর্শকের মতো অনুভব করে— জীবনের নাট্যমঞ্চে উপস্থিত, কিন্তু সম্পূর্ণ যুক্ত নয়। তাই প্রথমে মানুষ নিজেই নিজেকে বুঝতে পারে না। ফলে অন্য মানুষ তাকে আরো বোঝে না। সে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিজেই ধন্ধে থাকে। ভেতরে ভেতরে সে সবার থেকে ব্যতিক্রম হতে চায় আর তার ফলে সে ভোগে একাকীত্বে।

শিষ্য: তাহলে এতে তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়?

গুরু: আত্মবিশ্বাস নয়, বরং পুরনো অহমিকার জায়গাটা ভেঙে যায়। এটা খারাপ নয়। এতে সত্যিকারের সত্তাকে চেনার পথে এগোনো যায়।

শিষ্য: তাহলে কী করব?

গুরু: প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকাও, নিজের সঙ্গে কথা বল। মাথায় নিয়মিত তেল  দাও। শরীরকে স্থির রাখ। সূর্য নমস্কার কর।  রবিবার সূর্যকে জল অর্পণ কর মৌন থেকে। অকারণে বারবার চুল-দাড়ি কেটো না। আর প্রাণীদের খাওয়াও — এতে অহং নরম হয়।

শিষ্য: যদি কেতু ২য় ঘরে থাকে?

গুরু: এখানে কেতু মানুষের বাক্যকে সংযত করে।
সে কম বলে, কিন্তু যখন বলে—সত্যের মতো ধারালো হয়। ফলে পরিবার থেকে  তার এক অদৃশ্য দূরত্ব জন্মায়, অর্থ রোজগারের ক্ষেত্রে ওঠানামা হতে থাকে। আর নিজের মনে হয় - আমি যেন কিছুর মাঝেই নেই।

শিষ্য: কেন এমন হয়?

গুরু: কারণ এখানে কেতু শেখায় কথার কী মূল্য। শুধু কথা নয়, অর্থ ও সম্পর্কের  মূল্যও কেতু শেখায়। সাথে শেখায় জীবনের মূল্যবোধ।

শিষ্য: প্রতিকার?

গুরু: ধীরে কথা বল এবং কাউকে কটু কথা বোলো না। জপ কর কেতুর মন্ত্র। মাসে একবার অন্ন দান কর। প্রত্যাশা ছাড়া পরিবারকে কিছু দাও।বৃহস্পতিবার গরুকে গুড় খাওয়াবে। মিথ্যা প্রশংসা এড়াবে। বাক্য সংযম ও অর্থ সুরক্ষায় খেয়াল রাখবে।

শিষ্য: ৩য় ঘরে কেতু থাকলে কি হয়?

গুরু: এখানে কেতু চিৎকারে নয়, কৌশলে সাহস দেয়।
সে আকস্মিক নয়—
সময়ের অপেক্ষায় থাকে।
তার সিদ্ধান্ত ধীর, কিন্তু নিশ্চিত। তার আঘাত হয় নীরব, কিন্তু ফলপ্রসূ। সে যুদ্ধ ঘোষণা করে না, কিন্তু কৌশলে যুদ্ধ জিতে নেয়।এছাড়া এখানে কেতু থাকলে ভাইবোনের সাথে দূরত্ব আসে। এমনিতে সাহস থাকে, কিন্তু সাহসকে কাজে লাগাতে বিলম্ব হয়।

শিষ্য: মানে আলসেমি থাকে?

গুরু: ঠিক তাই। এখানে শিক্ষা হল— প্রতিদিন ছোট ছোট কাজ নিয়ম করে করা।

শিষ্য: কী করলে ভালো হবে?

গুরু: প্রতিদিন কিছু লেখার অভ্যাস করবে, হাঁটবে, হাতের কাজ কিছু শিখবে। ছোট ভাইবোন বা কাজের লোকদের সাহায্য করবে।মঙ্গলবার হনুমানজীকে  প্রণাম করবে। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াবে। মৌন থাকবে।

শিষ্য: ৪র্থ ঘরে কেতু বসলে কি হয়?

গুরু: এখানে কেতু থাকলে মনের ভিতরে জন্মায় এক নিঃশব্দ নির্বাসন।
কিন্তু এই বিচ্ছিন্নতাই তাকে নিজের অন্তরে নিয়ে যায়—
তখন ঘরে থাকলেও ঘরকে ঘর মনে হয় না। এছাড়া এখানে কেতু থাকলে মনের শান্তি থাকে না। মা’র সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এর থেকে কেতু শিক্ষা দেয় — শান্তি বাইরে নয়, নিজের ভিতরে আছে।

শিষ্য: প্রতিকার?

গুরু: ধ্যান কর। ঘর পরিষ্কার রাখ। গাছ লাগাও। মা বা মাতৃতুল্য কাউকে সম্মান দাও। সোমবার চন্দ্রকে জল দেবে। ঘরে কম জিনিস রাখবে। শূন্যতাই  যে শান্তি এটা মাথায় রাখবে।

শিষ্য: কেতু যদি ৫ম ঘরে থাকে?

গুরু: এখানে কেতু অদ্ভুত বোধ দেয়—মানুষ অনেক কিছু না পড়েও বুঝে যায়।
তার মধ্যে থাকে এক প্রাচীন স্মৃতি,যেন বহু জন্মের জ্ঞান সঞ্চিত। সে ভবিষ্যৎ বলে না— কিন্তু অনুগামীদের সত্যের দিকে নির্দেশ করে।
তার জীবনে যেমন প্রেম আসে, তেমন আবার ভেঙে যায়। সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। মনোযোগও দৃঢ় হয় না। এখানে মানুষ সৃজনশীল হলেও তার বিশ্বাস কম থাকে।

শিষ্য: এখানে কেতু থাকলে কি প্রেমে সমস্যা হয়ই?

গুরু: সমস্যাই তো দেয় শিক্ষা- অহং থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মনকে বড় করতে হবে।

শিষ্য: এখানে কী করলে ভারসাম্য আসবে?

গুরু: শিশুদের সাহায্য কর। নিরালায় থাকো কিছু সময়।গায়ত্রী জপ কর। সৃষ্টিশীল কাজ করো বিচার না করে।বুধবার গণেশ মন্ত্র পাঠ করবে। জ্ঞান ভাগ করবে সবার সাথে।

শিষ্য: ৬ষ্ঠ ঘরে কেতু বসলে কি হয়?

গুরু: এখানে কেতু থাকলে অদৃশ্য শত্রু থাকে জীবনে যারা মেঘনাদের মত আক্রমণ করে নিজেদের লুকিয়ে। তবে এখানে কেতু থাকলে জাতক শত্রুকে  ঠিকই হারিয়ে দেয়। তার জীবনে সংগ্রাম আসে, কিন্তু সেইসঙ্গে মানুষ অদ্ভুত সহনশীলতা পায়।
সে যুদ্ধ করে না—কিন্তু যুদ্ধ তাকে হারাতে পারে না। শত্রু নিজেই দূরে সরে যায়।
তবে এখানে কেতু থাকলে শরীর নিয়ে চিন্তা বাড়ে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থাকে মনে। স্বাস্থ্য এই ভাল তো এই খারাপ। 

শিষ্য: তাহলে এখানে দুশ্চিন্তা বেশি দেয় কেতু?

গুরু: হ্যাঁ। আর তার থেকেই জাগে শিক্ষা — শরীরের যত্ন নিতে হবে আর শৃঙ্খলা মেনে সব কাজ করতে হবে।

শিষ্য: কীভাবে?

গুরু: প্রতিদিন একই সময় মত ঘুমাবে ও জাগবে। পারলে একদিন নুন জলে পা ধোবে। পায়ের নখ পরিষ্কার রাখবে।
মানুষের সেবা করবে। ঋণ নেয়া এড়াতে হবে। হিসাব রাখ সব খরচের। আর কোনমতেই শরীরকে অবহেলা কোরো না।মঙ্গলবার বা শনিবার কুকুরকে খাবার দিও।

শিষ্য: ৭ম ঘরে যদি কেতু থাকে?

গুরু: এখানে কেতু থাকলে জাতকের জীবনে সম্পর্ক ঠিকই থাকে, কিন্তু সম্পর্কের আসক্তি ভেঙে যায়। ফলে 
মানুষ ভালোবাসে—
কিন্তু নিজেকে হারায় না।
এমনিতে প্রথমদিকে অবশ্য তার সম্পর্কের মধ্যে কিছু অদ্ভুত টানাপোড়েন থাকে। কাছের মানুষকে বুঝতে কষ্ট হয়। বিয়ে নিয়ে আগ্রহ থাকে না। তবে সময়ের সাথে সাথে আসক্তি চলে যায়।

শিষ্য: তাহলে এক্ষেত্রে কি করতে হবে?

গুরু:  এখানে শিক্ষা হল — সম্পর্ক মানে শুধু একে অপরের উপর নির্ভরতা নয়, সাথে দুজনের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে।

শিষ্য: প্রতিকার?

গুরু: রেগে গেলে একদম কথা বন্ধ করে না দিয়ে শান্তভাবে কথা বল। নিজের স্ত্রী বা স্বামীকে সময় দাও। সপ্তাহে একদিন নিরালায় সময় কাটাও। আর শুক্রবার যেহেতু শুকরের দিন,সেদিন কপালে সাদা চন্দনের তিলক পরবে।শুক্রবার সাদা মিষ্টি দেবে। অপরের থেকে প্রত্যাশা কমাও। জাতকদের প্রেম টিকতে পারে শুধু এভাবেই।

শিষ্য: ৮ম ঘরে কেতু থাকলে কি হয়?

গুরু: এখানে কেতু থাকলে মানুষকে অদৃশ্য জগতের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
সে মৃত্যুকে ভয় পায় না—
কারণ পরিবর্তনকে সে উপলব্ধি করে। তার জীবনে একবার অন্তত এমন অভিজ্ঞতা আসে
যা তার সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। এমনিতেও
জীবন বারবার তার পথ বদলায়। জীবনে নানা গোপন রহস্যের দিকেও টান থাকে। মনে নানারকম সন্দেহ থাকবে।

শিষ্য: সাথে ভয়ও থাকবে?

গুরু: থাকবে। এখানে শিক্ষা হল — ভয়কে সামনে থেকে দেখা। তাহলে ভয়ের রূপান্তর ঘটানো সম্ভব।

শিষ্য: তাহলে এই অবস্থায় কী করা ভাল?

গুরু: মহামৃত্যুঞ্জয় জপ করবে। কালো কুকুরকে খাওয়াবে। যেটা নিয়ে তোমার ভয় সেটাকে বোঝার চেষ্টা করবে। গভীর গবেষণা মূলক পড়াশোনা করাও ভাল। অমাবস্যায় পিতৃদান করবে। নিজের সব রহস্য গোপন রাখবে।

শিষ্য: ৯ম ঘরে যদি কেতু থাকে?

গুরু: এখানে কেতু মানুষকে অন্ধ বিশ্বাস থেকে সরিয়ে দেয়। সে ধর্ম ত্যাগ করে না— কিন্তু ধর্মের গভীরতায় প্রবেশ করে। এখানে গুরু তাকে পথ দেখায় না—
সে নিজের অভিজ্ঞতাকেই গুরু করে। কারণ বাইরের গুরু নিয়ে তার মনে সন্দেহ হয়। এমনকি ভাগ্যের উপর বিশ্বাসও হারিয়ে যায়।

শিষ্য: এটা কি খারাপ?

গুরু: না। এতে অন্ধ বিশ্বাস ভাঙে, সত্যের প্রতি বিশ্বাস জন্মায়।

শিষ্য: এর প্রতিকার কি?

গুরু: শাস্ত্র পড়তে হবে। গুরুর সেবা করতে হবে। বাবাকে সম্মান করতে হবে।  বৃহস্পতিবার হলুদ রঙের কোন ফল বা খাবার দান করতে হবে। বৃহস্পতিবার আংশিক মৌন থাকবে। আর অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেবে।

শিষ্য: ১০ম ঘরে যদি কেতু থাকে?

গুরু: এখানে মানুষ কাজ করে, কিন্তু স্বীকৃতি চায় না।
তার প্রভাব দেরিতে প্রকাশ পায়,কিন্তু স্থায়ী হয়।  সামনে না থাকলেও নেপথ্যে থেকে কাজ করে। তার জীবিকা বদলাতে মন চায়। নামখ্যাতি জীবনে এলেও মনের শান্তি কমই থাকে।

শিষ্য: কেন?

গুরু: কারণ এখানে কেতু শেখায় — কাজ শুধু অর্থ রোজগারের পথ নয়, একটি দায়িত্ব।

শিষ্য: তাহলে এখানে কী করব?

গুরু: নিজের কাজের তালিকা বানাও। আর রুটিন মেনে সেটি শেষ করো। কর্মক্ষেত্রে নিজের অহং কমাও, কর্ম বাড়াও। প্রাণায়াম ও যোগাভ্যাস কর। শনিবার নাম গোপন রেখে দান করবে।

শিষ্য: কেতু যদি একাদশ ঘরে থাকে?

গুরু: তাহলে জাতকের বন্ধু থাকবে, কিন্তু তাদের উপর ভরসা করা যাবে না। এখানে কেতু  ভিড় ছেঁটে দেয়। ফলে বন্ধু কম হয়—
কিন্তু প্রতিটি বন্ধন গভীর হয়। তবে আয় অনিয়মিত হয়। জীবনের স্বপ্ন বদলাতে থাকে।

শিষ্য: তাহলে এখানে শিক্ষা কি?

গুরু: এখানে কেতুর শিক্ষা হল — সংখ্যার চেয়ে গুণ দেখতে হবে। Quantity নয় quality লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শিষ্য: এর প্রতিকার?

গুরু: নিজের লক্ষ্য ঠিক কর। দান কর। বড়দের আশীর্বাদ নাও। মাসে একবার রক্ত দান কর। আর অপ্রয়োজনীয় মানুষদের থেকে দূরত্ব রেখো। শনিবার কম্বল দান কোরো।

শিষ্য: আর যদি দ্বাদশ ঘরে কেতু থাকে?

গুরু: এখানে কেতু মানুষকে নিঃশেষ করে না— অন্তরে বিলীন করে। ফলে একাকীত্ব এখানে দুঃখ নয়,
ধ্যানের দ্বার। সেক্ষেত্রে মানুষ জগতের মধ্যেই থাকে, কিন্তু জগত তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
এই অবস্থাই হল মুক্তির পূর্বাভাস। তাই এখানে কেতু থাকলে জীবনে নিঃসঙ্গতা ভালো লাগে। খরচ বেশী হয়। বিদেশের সাথে সংযোগ ঘটে। আধ্যাত্মিক দিকে টান বাড়ে। গভীর স্বপ্ন দেখে জাতক। ভিতরে একাকিত্ব বৃদ্ধি পায়।

শিষ্য: কিন্তু এটা কি বিচ্ছিন্নতা নয়?

গুরু: না, এটা হল মুক্তির ডাক। মুক্তি যে আসে অন্তর থেকে। সেখানেই ডুব দেয়ায়  সাহায্য করে কেতু। কারণ দ্বাদশ ভাবের কেতু যে মোক্ষ কারক।

শিষ্য: তাহলে এখানে কী করা উচিত?

গুরু: ধ্যান জপ নিয়ম করে করতে হবে। কোন মন্দিরে গিয়ে চুপ করে বসে থাকবে।  অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাবে। আর অবশ্যই হাসপাতালের রোগীদের জন্যেদান করবে। শূন্যতার ধ্যান অন্তত কিছুক্ষণ করবে। ডান হাতে হলুদ সূতা পরতে পারো।
 মন্দিরে পতাকা দান করাও ভাল।

শিষ্য: গুরুদেব, এখন আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে যে কেতুকে নিয়ে এত ভয় পেতাম সেই কেতু তাহলে ভয়ের কিছু নয়।

গুরু: একেবারেই নয়। জ্যোতিষীরাই নিজেদের আয়ের পথ খোলার জন্যে গ্রহদের ভয়াবহ দেখায়। আসলে কেতু তোমার কাছ থেকে মায়ার বন্ধন সরিয়ে দেয়।

শিষ্য: আর শূন্যতা দেয় কেন?

গুরু: যাতে সেখানে সত্য প্রবেশ করতে পারে।

শিষ্য: তাহলে কেতু বোঝায় -  যেখানে জীবনে অস্বস্তি আসবে, সেখানেই মিলবে দরজা পরের স্তরে যাবার জন্যে।

গুরু: ঠিক। আর জানবে সেই দরজাই হল তোমার মুক্তির পথ।

#আধ্যাত্মিকতা
#ধর্মকথা
#জীবনেরসত্য
#আত্মজাগরণ
#গুরুবচন
#সৎসঙ্গ
#ভক্তি
#SpiritualAwakening
#InnerPeace
#SanatanDharma
#SpiritualWisdom
#SoulJourney
#MeditationLife
#DivinePath
#BhaktiYoga
#SeekTheTruth
#HigherConsciousness
#Enlightenment
#astrology
#tantra #yantra #sadhana #mantra #bestastrologer #AstroVedanshu 
#ketu
#tarashis_gangopadhyay