Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)
Showing posts with label adhyatmik bhromon. Show all posts
Showing posts with label adhyatmik bhromon. Show all posts

Monday, 13 July 2026

অস্ত বুধ কি ফল দেয়? আর কি তার প্রতিকার? Effect of combust mercury and remedies

 চতুর্থ ভাগ - অস্ত বুধ কি ফল দেয়? আর কি তার প্রতিকার?
 - তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)


শিষ্য: গুরুদেব, আপনি চন্দ্র ও মঙ্গলের কথা বললেন। এবার কৃপা করে বলুন, কুণ্ডলীতে যদি বুধ গ্রহ অস্ত হয়ে যায়, বিশেষ করে তার অন্তর্দশা চলতে থাকে, তাহলে মানুষের জীবনে কী কী সমস্যা আসে?


গুরু: তাহলে শোন, কুণ্ডলীতে বুধ অস্ত হলে সর্বপ্রথম মানুষের নিজের উপর বিশ্বাস কমে যায়। সে কোনো সিদ্ধান্তই সময়মত নিতে পারে না; সামান্য বিষয়েও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মনে রেখ, বুধ হল বাকশক্তি ও বুদ্ধির কারক গ্রহ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে— “বুধেন বুদ্ধি...” অর্থাৎ বুধের সঙ্গে মানুষের বুদ্ধি, বিচারশক্তি ও প্রকাশক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই যখন বুধ ও বৃহস্পতি উভয়েই শুভ ও শক্তিশালী অবস্থায় থাকে, তখন জ্যোতিষে তাকে প্রগল্ভ যোগ বলা হয়। এমন ব্যক্তির মুখে যখন কথা বেরোয়, তখন সমগ্র সভা নীরবে তা শ্রবণ করে; কারণ তার বাক্যে থাকে জ্ঞান, যুক্তি ও প্রভাব। কিন্তু যদি বুধ অস্ত হয়ে যায়, তবে মানুষ সবকিছু বুঝেও নিজের মনের কথা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। তার বাকশক্তি যেন তাকে মাঝপথেই ত্যাগ করে। আজকের ভাষায় এমন মানুষকে অন্তর্মুখী বা ইন্ট্রোভার্ট বলা হয়। সে নিজের ভেতরেই কষ্ট জমিয়ে রাখে, মানসিক চাপ ও অস্থিরতার মধ্যে জীবন কাটায়।


শিষ্য: গুরুদেব, শুধু মানসিক সমস্যাই কি হয়, নাকি শরীরেও এর প্রভাব পড়ে?


গুরু: অবশ্যই পড়ে, বৎস। বুধ অশুভ বা অস্ত হলে শরীরে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। শরীরে খিঁচুনি হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে অ্যালার্জি, ফোড়া হওয়া, এমনকি লিভারের সিরোসিসের মতো জটিল সমস্যারও সম্ভাবনা তৈরি হয়। কারণ বুধই ত্বকের প্রধান কারক গ্রহ। আবার যদি বুধ মৃত্যুভাবে অবস্থান করে এবং পাপগ্রহের প্রভাবে পড়ে, তবে মানুষ হাঁপানিতে আক্রান্ত হতে পারে, গভীর মানসিক অবসাদে ভুগতে পারে এবং আপনজনের মৃত্যুশোক দীর্ঘদিন ধরে বহন করতে হয়। আর যদি বুধ দ্বাদশ ভাব বা দ্বাদশেশের অশুভ প্রভাবে থাকে, তবে সে নেশার কবলে পড়তে পারে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে।


শিষ্য: গুরুদেব, তাহলে এই অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির কোন উপায় কি শাস্ত্রে বলা আছে?


গুরু: নিশ্চয়ই আছে। আমাদের শাস্ত্রে বুধকে শুভ করার বহু প্রতিকার উল্লেখ রয়েছে। নিষ্ঠা, বিশ্বাস ও নিয়ম মেনে সেই প্রতিকারগুলি পালন করলে অবশ্যই উপকার লাভ করা যায়। এবার আমি তোমাকে সেই উপায়গুলিই একে একে বলছি। 


গুরু: শোন বৎস, এবার আমরা অস্ত বুধ নিয়ে আলোচনা করব। জন্মকুণ্ডলীতে যদি বুধগ্রহ অস্ত হয়ে যায় এবং সেই সময় তার অন্তর্দশাও চলে, তাহলে মানুষের জীবনে নানা ধরনের মানসিক, শারীরিক ও ব্যবহারিক সমস্যা দেখা দেয়। প্রথম লক্ষণই হলো—নিজের উপর বিশ্বাস কমে যায়। মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ছোট ছোট বিষয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ভাবতে থাকে, অথচ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না। মনে রেখ, বুধ হল বুদ্ধি, বাকশক্তি, যুক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং যোগাযোগের কারক গ্রহ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—“বুধেন বুদ্ধি।” অর্থাৎ বুধের সঙ্গেই মানুষের প্রখর বুদ্ধি ও বিচারশক্তির যোগ রয়েছে। তাই যখন জন্মকুণ্ডলীতে বুধ ও বৃহস্পতি উভয়েই শক্তিশালী অবস্থায় থাকে, তখন তাকে প্রগল্ভ যোগ বলা হয়। এমন ব্যক্তি যখন কথা বলেন, তখন সভার সকলেই নীরবে তাঁর কথা শোনে। তাঁর যুক্তি, জ্ঞান ও বাকচাতুর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। 


কিন্তু যদি বুধ অস্ত হয়ে যায়, তখন ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটে। মানুষ সবকিছু জেনেও নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে না। তার অনুভূতি মুখে আসে না, বাকশক্তি তাকে সহযোগিতা করে না। সে ধীরে ধীরে অন্তর্মুখী হয়ে যায়, নিজের মধ্যেই গুটিয়ে থাকে, অকারণ মানসিক চাপে ভোগে এবং সমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে শুরু করে।


শিষ্য: গুরুদেব, শুধু মানসিক সমস্যাই কি হয়, নাকি শরীরেও তার প্রভাব পড়ে?


গুরু: অবশ্যই পড়ে, বৎস। বুধ শরীরের ত্বক, স্নায়ু, শ্বাসপ্রশ্বাস ও সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রধান কারক। তাই বুধ দুর্বল বা অস্ত হলে শরীরে টান ধরা, স্নায়ুর অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ত্বকে অ্যালার্জি, চর্মরোগ, এমনকি লিভারের সিরোসিসের মতো রোগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। যদি অস্ত বুধ অষ্টমভাব বা মৃত্যুভাবের অশুভ প্রভাবে অবস্থান করে, তাহলে ব্যক্তি হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরোগ এবং মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হতে পারে। জীবনে প্রিয়জনের মৃত্যুশোকও তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আবার যদি বুধ দ্বাদশভাবের প্রভাবে পড়ে, তাহলে মানুষ নেশায় আসক্ত হতে পারে অথবা দীর্ঘস্থায়ী রোগের কবলেও পড়তে পারে। তাই সময়মতো বুধের দোষের প্রতিকার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমি এখন তোমাকে এমন কিছু উপায় বলব, যা শাস্ত্রে বহুদিন ধরে পরীক্ষিত এবং যথাযথভাবে পালন করলে অবশ্যই তার সুফল পাওয়া যায়।


শিষ্য: গুরুদেব, তাহলে সেই প্রতিকারগুলো আমাকে দয়া করে বিস্তারিতভাবে বলুন।


গুরু: মন দিয়ে শোন। বুধবার ভিজিয়ে রাখা গোটা মুগ পাখিদের খাওয়াবে। নিজের কাছে একটি সবুজ রঙের রুমাল রাখবে। বুধবার গরুকে গুড় মিশিয়ে রুটি খাওয়াবে। সেই দিন মা দুর্গার মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে পূজা করবে। জীবনে কখনও পিসি, বোন, কন্যা বা গুরুমার প্রতি অন্যায় করবে না। 


সুযোগ থাকলে দুর্গাসপ্তশতী পাঠ করবে। বাড়ির পূজাঘরে রূপোর তৈরি মা দুর্গা, মা লক্ষ্মী ও গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করবে। মায়ের জাগরণ আয়োজন করবে অথবা সেই জাগরণে সেবার মাধ্যমে অংশ নেবে। 


বুধবার ফিটকিরি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা শুভ বলে মানা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে বাম নাসিকা ছিদ্র করানোও শাস্ত্রে বুধের শুভতার জন্য উপকারী বলা হয়েছে।


শিষ্য: গুরুদেব, এর থেকেও কি আরও শক্তিশালী কোন প্রতিকার আছে?


গুরু: আছে, এবং এটিকে আমি সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার বলে মনে করি। গণেশ চতুর্থীর দিনে সাদা রঙের শ্রীগণেশের একটি মূর্তি বাড়িতে এনে বৈদিক নিয়মে পূজা করবে। 


এক বা দুইজন ব্রাহ্মণকে আহ্বান করবে। তারপর এক হাজারটি লাড্ডু এবং এক হাজারটি দুর্বা ঘাসের অগ্রভাগ প্রস্তুত রাখবে। একটি পিতলের বড় পাত্রের সামনে শ্রীগণেশকে প্রতিষ্ঠা করে তাঁর এক-একটি নাম উচ্চারণের সঙ্গে এক-একটি লাড্ডু ও এক-একটি দুর্বা নিবেদন করবে। এভাবে এক হাজার নামের সঙ্গে এক হাজার লাড্ডু ও এক হাজার দুর্বা অর্পণ করবে। বছরে মাত্র একবার এই সাধনা নিয়ম করে করলে ছাত্রজীবন, ব্যবসা, চাকরি বা জীবনের যে ক্ষেত্রেই থাকো না কেন, আশ্চর্য পরিবর্তন অনুভব করবে। যেমন শরীরে বিঁধে থাকা কাঁটা বেরিয়ে গেলে মুহূর্তে স্বস্তি আসে, তেমনি এই উপায়ও জীবনের বহু বাধা দূর করে দেয়। পরে সেই লাড্ডুগুলো আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করবে।


শিষ্য: গুরুদেব, যদি কারও পক্ষে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব না হয়?


গুরু: তাহলেও হতাশ হবে না। মনে রেখ, রোগ যেমন ভিন্ন ভিন্ন হয়, ওষুধও তেমন ভিন্ন হয়। সাধারণ জ্বরের ওষুধে যেমন ক্যান্সার ভালো হয় না, তেমনি বড় কর্মদোষের জন্য বড় সাধনাও প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মানুষ ছোটখাটো প্রতিকার করে ফল না পেয়ে দেবদেবীর উপরই সন্দেহ করতে শুরু করে। কিন্তু প্রকৃত ফল তখনই আসে, যখন নিজের প্রারব্ধ অনুযায়ী নিষ্ঠা ও বিশ্বাস নিয়ে সাধনা করা হয়। যদি বড় আয়োজনের সামর্থ্য না থাকে, তবে প্রতিদিন সকাল পাঁচবার ও সন্ধ্যায় পাঁচবার রামরক্ষা স্তোত্র পাঠ করবে এবং শ্রীরাম দরবারের নিয়মিত পূজা করবে। এই সাধনা ছয় মাস নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে জীবনেও শুভ পরিবর্তন আসতে শুরু করবে। 


(ক্রমশ)


#astrology  #astrologyposts  #জ্যোতিষ 

#astrologer

Saturday, 11 July 2026

সাধুসঙ্গ তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় sadhusanga by Tarashis Gangopadhyay

 সাধুসঙ্গ
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)


সন্ধ্যা তখন ধীরে ধীরে মন্দাকিনীর স্বচ্ছ জলে নেমে এসেছে। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা শীতল বাতাস নদীর বুক ছুঁয়ে  ন্ন্যাসীর সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। নদীর কলকল ধ্বনির সঙ্গে মিলেমিশে দূরে কোথাও ভেসে আসছে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি। বিশাল এক শিলাখণ্ডের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন এক বৃদ্ধ সাধু। তাঁর চোখে গভীর প্রশান্তি, মুখে এক অদ্ভুত করুণা।

হঠাৎ এক মধ্যবয়স্কা মহিলা কাঁদতে কাঁদতে এসে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।
“বাবা,” কাঁপা গলায় তিনি বললেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে বড় কষ্টে আছি। সে ভুল পথে চলে গেছে। কোনো কথা শোনে না। সংসারে শান্তি নেই। আপনি পথ দেখান।”

সাধু কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। যেন নদীর প্রবাহের ভেতরেই তিনি উত্তর খুঁজছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
"প্রথমেই বলব মায়ের কাছে প্রার্থনা করুন যেন আপনার ছেলে সৎবুদ্ধি লাভ করে। মায়ের সৎ প্রার্থনা সবসময়ই সন্তানের মঙ্গল করে। সেইসাথে একটা উপায় বলছি। আপনি যদি এই উপায় শুরু করেন, তাহলে আমার পূর্ণ বিশ্বাস—প্রায় ১২৫ দিনের মধ্যে এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করবে এবং ছয় মাসের মধ্যে আপনার ছেলে সম্পূর্ণ সঠিক পথে ফিরে আসবে।

দেখুন, আমাদের সন্তান যদি বিপথে যায়, অকর্মণ্য হয়ে পড়ে বা কর্তব্যের পথ থেকে সরে যায়, তাহলে তার জন্য শুধু সন্তানের সংস্কারই দায়ী নয়। এর সঙ্গে তার বাবা মায়ের নিজের কর্মসংস্কারও জড়িত থাকে।

পূর্বজন্মে বাবা মা যেমন পুণ্য ও পাপ করেছে, সেই অনুযায়ী সুখ বা দুঃখ দেওয়ার জন্যই সন্তান জন্মগ্রহণ করে। কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই আপনার পুণ্য দুর্বল হয়েছে। তাই এরকম অবস্থা হয়েছে। আরেকটা জিনিস জানবেন -- কিছু সন্তান আসে সুখ দেওয়ার জন্য, আবার কিছু আসে দুঃখ দেওয়ার জন্য।

মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "বাবা, কেন এমন হয়?"

সন্ন্যাসী বললেন, "যদি পূর্বজন্মের তপস্যা ভাল থাকে, তবে সন্তান সুখের কারণ হয়।
আর যদি তপস্যা কোন কারণে কলুষিত হয়, তবে সে দুঃখের কারণ হয়ে আসে।
আমি একটা ঘটনার কথা বলছি।

একবার দুজন যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে মুম্বই গিয়েছিল। দুজনে মিলে সেখানে ছোটখাটো কাজ শুরু করল। দুজনেই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমান ছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা একটি রেস্তোরাঁ খুলল। তারপর একটি কারখানাও গড়ে তুলল।

কিন্তু তখনই একজনের মনে লোভ জন্মাল। সে নিজের সঙ্গীকেই হত্যা করল। তারপর মৃতদেহ কোন এক গোপন জায়গায় সমাধিস্থ করে দিল। কেউ আর তার খোঁজ পেল না।
এরপর সে নিজের ব্যবসার আর বিস্তার ঘটাল। অনেক জমি কিনল, বাড়ি বানাল, মুম্বইতেও তার বিরাট নামডাক হল। 

তার উন্নতি দেখে সমাজের এক সম্মানিত ব্যক্তি নিজের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিলেন। কিছুদিন পরে তাদের একটি অত্যন্ত সুন্দর পুত্রসন্তান জন্মাল। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, ছেলেটির বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর, তখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ল।
 
সে তার সন্তানকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসত। তাই সে ছেলের ভাল চিকিৎসা শুরু করল। দুই বছর ধরে ছেলের চিকিৎসা করাতে করাতে তার জমি বিক্রি হয়ে গেল। বাড়ি বিক্রি হয়ে গেল। মুম্বইয়ের রেস্তোরাঁ আর কারখানাও বিক্রি হয়ে গেল। এমনকি সবার র এক কোটি টাকারও বেশি ঋণ হয়ে গেল। কিন্তু তাও ছেলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে প্রায় ঢলে পড়ল।

ছেলের মৃত্যুশয্যায় বসে তখন বাবা ছেলেকে কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল,
“বাবা, আজ তোর চিকিৎসার জন্যও আমার কাছে টাকা নেই। সব টাকা আমার শেষ হয়ে গেছে। তোকে বাঁচানোর জন্যে আমার আর কিছুই করার নেই রে বাবা।”
তখন সাত বছরের সেই ছেলে ক্লান্ত চোখে শুধু একটি কথাই বলল, “অথচ বন্ধু, এই টাকার জন্যই তো তুমি একদিন আমার প্রাণ নিয়েছিলে। আজ আমিও রইলাম না। টাকাও রইল না।” এইটুকু বলেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। অর্থাৎ, যাকে সে হত্যা করেছিল, সেই বন্ধুই এই জন্মে তার ছেলে হয়ে ফিরে এসেছিল প্রতিশোধ নিতে।

তাই আমি বলি—যাদের সন্তান নিয়ে সমস্যা আছে, তারা যেন ভগবান শ্রীরামের শরণ নেন এবং প্রতিদিন সংকল্প করেন যে ১০৮ ‘সীতারাম’ নাম জপ না ক
রে আহার করবেন না। একমাত্র তাহলে তাদের জীবনে ভাল কোন পরিবর্তন আসতে পারে।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যদি নিয়ম করে জপ করেন, তবে পূর্বজন্মের বহু কর্মফল ক্ষয় হতে শুরু করবে। যখন শুভ প্রারব্ধের উদয় হবে, তখন সন্তানের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেবে। তাই আপনিও প্রতিদিন ভোরে উঠে নিয়ম করে ‘সীতারাম’ নাম জপ করুন। কর গুণে বা মালা দিয়েও জপ করতে পারেন।

তবে অবশ্যই এই অনুশীলন শুরু করুন।  প্রায় একশো দিনের মধ্যে পরিবর্তন অনুভব করবেন।
আর ষোলো মাস পরে আপনার জীবনই বদলে যেতে পারে।"

ভদ্রমহিলা সন্ন্যাসীর কথা শুনে অনেকটাই আশ্বস্ত হলেন। সন্ন্যাসীকে প্রণাম করে ধরলেন ফেরার পথ।
ক্রমশ
#Sitaram
#SpiritualStory
#Mandakini
#SanatanDharma
#GuruVani
#BhaktiKatha

Saturday, 30 April 2016

বৃন্দাবনের ডাক -১

  বৃন্দাবনের ডাক  -১

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

আজকাল অনেকেই দেখি বলেন - বয়েস হলে বৃন্দাবন যাব,বয়েস হলে নবদ্বীপ যাব। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো -বয়সটাই যদি না আসে সেখানে যাবার? আমরা শ্বাসের ঘরে বাস করি। স্বাস ফুরালেই জীবন শেষ। যারা ভেবে রাখেন শেষ বয়সে তীর্থ করবেন ,তারা শেষ বয়সটা যে দেখে যাবেন তার কি গ্যারান্টি আছে? স্বাস যেকোন মুহুর্তেই শেষ হয়ে যেতে পারে। আর যদি বা তারা শেষ বয়সে যেতে পারেন তাহলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হবেনা। আমি তো বলব -সময় থাকতেই এবং বয়স থাকতেই কাজের কাজ সাধনা ও তীর্থ দর্শন করে নেয়া উচিত। শেষ বয়সে কোমরে জোর থাকবে না তীর্থে যাবার জন্য আর সারা জীবন ভোগ করে তখন তীর্থে যদি যাওয়াও যায় তবু কাজের কাজ কিছু হবে না। তীর্থে যাবার মূল কারণ হল নিজ মনের উত্তরণ ঘটিয়ে সাধনায় মনোনিবেশ। শেষ বয়সে তীর্থে গিয়ে মনের উত্তরণ হলেও সাধনা কি আর করার অবকাশ মিলবে? তখন শুধু একটাই বোধ হবে -জীবনটা হেলায় কাটালাম আর ওই আক্ষেপ নিয়েই উপরে যেতে হবে। তাই যারা আধ্যাত্মিক জগতে যেতে চান তাদের অল্পবয়স থাকতে থাকতেই তীর্থ পরিব্রাজন সেরে সাধনায় ডুব দেয়া উচিত।
ভালো থাকবেন ..
শুভেচ্ছাসহ
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়


বৃন্দাবনের ডাক -২



                                              বৃন্দাবনের ডাক  -২

"গোঠের রাখল বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন" গানটা শুনতে শুনতে যেন হারিয়ে যাই হৃদি বৃন্দাবনে। কখনো কেশীঘাটে ,কখনো নিধুবনে ,কখনো বাঁকে বিহারিজীর দরবারে। জানি সর্বত্রই আছেন তিনি ,আছেন আমার হৃদয়েই - কিন্তু তাও হৃদয়ের তাঁকে অনুভব করতে হলে যে বৃন্দাবন ধামেও যেতে হয় -সেখানকার রজ মাখতে হয় গায়ে,সেখানকার রাধে রাধে নামে মন ভরাতে হয়,সেখানকার যমুনার জল মাথায় দিতে হয়,একাত্ম্য হয়ে যেতে হয় সেখানকার আকাশ বাতাসের সাথে। তবেই না অন্তর বাহিরে আসে একই সামঞ্জস্য।.পয়ার ছন্দে মিলে যায় অন্তরঙ্গ,বহিরঙ্গ। কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রকট হয়ে ওঠে হৃদয়ে। 
ভালো থাকবেন .. 
শুভেচ্ছাসহ 
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/