আমি তারাশিস বলছি
আমি তারাশিস বলছি
Friday, 10 July 2026
অস্ত গ্রহের রহস্য — গুরু ও শিষ্যের সংলাপ (প্রথম পর্ব) mystery of the combust planets
"আপনার কুণ্ডলীতে কি এমন কোনও অস্ত গ্রহ আছে, যা নীরবে আপনার চাকরি, অর্থ, বিবাহ আর ভাগ্যকে আটকে রেখেছে? লেখক আজ জানাচ্ছেন সেই গোপন রহস্য ও তার কার্যকর প্রতিকার!"
অস্ত গ্রহের রহস্য — গুরু ও শিষ্যের সংলাপ
Thursday, 9 July 2026
হনুমান মন্ত্রের মাহাত্ম্য — তৃতীয় ও শেষ ভাগ the importance of the mantras of Hanumanji
হনুমান মন্ত্রের মাহাত্ম্য — তৃতীয় ও শেষ ভাগ
- তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
প্রথমেই আসি হনুমান গায়ত্রী মন্ত্রে।
॥ ॐ आञ्जनेयाय विद्महे वायुपुत्राय धीमहि तन्नो हनुमान् प्रचोदयात् ॥
বাংলা উচ্চারণঃ
"ওঁ আঞ্জনেয়ায় বিদ্মহে। বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমান প্রচোদয়াত্॥"
এই মন্ত্র বহু ভক্ত সন্তানের মঙ্গল, মনোবল বৃদ্ধি এবং জীবনের বাধা অতিক্রমের প্রার্থনায় জপ করে থাকেন। বিশেষ করে যাঁরা শনির সাড়ে-সাতি, ঢাইয়া বা জীবনের নানা প্রতিকূল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছেও এই মন্ত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আমি বরাবরই মনে করি, সনাতন জীবনের কিছু নিয়ম যদি আমরা প্রতিদিন পালন করি, তাহলে তার সুফল আমাদের মন, শরীর ও আত্মা—তিন ক্ষেত্রেই অনুভব করা যায়। ভোরে জেগে ওঠা, স্নান করা, সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়া, প্রাণায়াম করা, গায়ত্রী মন্ত্র জপ করা এবং যাঁদের পক্ষে সম্ভব অগ্নিহোত্র করা—এসব শুধু ধর্মীয় আচরণ নয়, বরং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের ভিত্তি।
॥ श्री वज्रदेहाय रामभक्ताय वायुपुत्राय नमोऽस्तुते ॥
এই মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমার মনে পড়ে যায় হনুমানজীর সেই অনন্য চরিত্রের কথা।
তিনি যখন সীতামাতার সন্ধানে সমুদ্র পার হওয়ার পথে চলেছেন, তখন মৈনাক পর্বত উঠে এসে তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলেছিল। কিন্তু হনুমানজী বলেছিলেন, "राम काज कीन्हे बिना मोहि कहाँ विश्राम।"
অর্থাৎ—"প্রভুর কাজ সম্পূর্ণ না করে আমার বিশ্রাম কোথায়?"
এই একটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের এক অমূল্য শিক্ষা।
আমরা প্রায়ই কাজ শুরু করি, কিন্তু মাঝপথে ক্লান্ত হয়ে থেমে যাই। হনুমানজী শেখান—যে কাজ শুরু করবে, তা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অলসতা বা বিশ্রাম যেন তোমাকে স্পর্শ না করে।
॥ मनोजवं मारुततुल्यवेगं जितेन्द्रियं बुद्धिमतां वरिष्ठम्। वातात्मजं वानरयूथमुख्यं श्रीरामदूतं शरणं प्रपद्ये ॥
বাংলা উচ্চারণঃ
"মনোজবং মারুততুল্যবেগং। জিতেন্দ্রিয়ং বুদ্ধিমতাং বরিষ্ঠম্। বাতাত্মজং বানরযূথমুখ্যং। শ্রীরামদূতং শরণং প্রপদ্যে॥"
এই শ্লোক নিয়মিত পাঠ করলে মন ধীরে ধীরে স্থির হয়, অযথা ভয় কমে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে এবং অহংকারও অনেকটাই প্রশমিত হয়। মানুষের হৃদয় ও বুদ্ধির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, এই প্রার্থনা সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
॥ त्वमस्मिन् कार्यनिर्वाहे प्रमाणं हरिसत्तम। हनुमन् यत्नमास्थाय दुःखक्षयकरो भव ॥
যাঁদের বহুদিন ধরে কোনও কাজ আটকে রয়েছে, যাঁরা বিরোধিতা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছেন, তাঁরা এই মন্ত্র জপ করে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে পারেন।
॥ अञ्जनीगर्भसम्भूतं कपीन्द्रसचिवोत्तमम्। रामप्रियं नमस्तुभ्यं हनुमन् रक्ष सर्वदा ॥
অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন, এই মন্ত্র জপ করলে মঙ্গলের অশুভ প্রভাব প্রশমিত হয়, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও অকারণ ভয়ও অনেকটাই কমে আসে।
॥ ॐ नमो भगवते आञ्जनेयाय महाबलाय स्वाहा ॥
অনেক সাধক এই মন্ত্রে ১০৮ আহুতি দিয়ে হোম করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে গৃহের নেতিবাচক পরিবেশ দূর হয় এবং মনেও এক বিশেষ শান্তির সঞ্চার ঘটে। এমনকি অনেকে বলেন, এই মন্ত্র শুধু জপ নয়, শ্রবণ করলেও মন অনেকটা প্রশান্ত হয় এবং ঘুমও ভালো আসে।
॥ ॐ नमो हनुमते रुद्रावताराय सर्वशत्रुसंहारणाय सर्वरोगहराय रामदूताय स्वाहा ॥
এই মন্ত্র বহু ভক্ত রোগমুক্তি, সাহস এবং জীবনের প্রতিকূলতার সময় ঈশ্বরের কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে জপ করেন।
আমি সবসময় বলি—অনেকগুলো মন্ত্র একসঙ্গে জপ করার চেয়ে একটি মন্ত্র বেছে নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে জপ করা অনেক বেশি ফলদায়ক।
জপের সময় সাত্ত্বিক আহার, সংযম এবং পবিত্র জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ সাধনার ক্ষেত্রে ব্রহ্মচর্যের কথাও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
কারণ মন্ত্র আমাদের ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়, কিন্তু চরিত্রই আমাদের ঈশ্বরের কৃপা গ্রহণের যোগ্য করে তোলে।
জয় শ্রী রাম।
জয় বজরংবলী।
জয় হনুমানজী।
পুরো লেখাটি পড়ে ভাল লাগলে লেখাটি অবশ্যই শেয়ার করে ছড়িয়ে দেবেন বন্ধুদের মাঝে আর কমেন্ট সেকশনে লিখবেন "জয় বজরংবলী।"
#হনুমানজী
#HanumanJi
#হনুমানমন্ত্র
#HanumanMantra
#SanatanDharma
#RamNaam
#SpiritualWisdom
#AstrologyIndia
Wednesday, 8 July 2026
দ্বিতীয় ভাগ - হনুমানজীর বীজমন্ত্র ও তার মহিমা - beejmantra of Hanumanji
দ্বিতীয় ভাগ - হনুমানজীর বীজমন্ত্র ও তার মহিমা
আপনারা কি জানেন, হনুমানজীর এমন একটি বীজমন্ত্র আছে যা সাহস, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক শক্তি জাগিয়ে তোলে? কেন মাত্র ২৪ মিনিট হনুমানজীর এই মন্ত্র জপ করার কথা বলা হয়? এর পেছনের আধ্যাত্মিক রহস্য শুনলে অবাক হবেন।
আজ প্রথমেই আসুন, হনুমানজীর বীজমন্ত্র নিয়ে কথা বলি। অনেকেই জানতে চান, হনুমানজীর প্রকৃত বীজমন্ত্র কী? কেন এই মন্ত্র জপ করা উচিত? আর কীভাবেই বা জপ করলে তার প্রকৃত ফল লাভ করা যায়?
________________________
আমি যে কথাগুলি এখন বলছি, সেগুলি মন দিয়ে শুনুন।
হনুমানজীর বীজমন্ত্র হল—
"हं" (হং)
যেমন—
সরস্বতীর বীজমন্ত্র — ऐं (ঐং)
দুর্গার বীজমন্ত্র — ह्रीं (হ্রীং)
কালীর বীজমন্ত্র — क्लीं (ক্লীং)
শিবের বীজমন্ত্র — हौं (হৌঁ)
গণেশের বীজমন্ত্র — गं (গং)
অগ্নির বীজমন্ত্র — रं (রং)
ঠিক তেমনই হনুমানজীর বীজ হল "হং"।
এবার আসি হনুমানজীর প্রধান বীজমন্ত্রে। ॐ हं हनुमते नमः
বাংলা উচ্চারণ—
"ওঁ হং হনুমতয়ে নমঃ"
অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন—এই মন্ত্র কখন জপ করা উচিত?
আমি বলি, সূর্যোদয়ের সময় এই মন্ত্র জপ করা সর্বোত্তম। পূর্বদিকে মুখ করে প্রতিদিন ১০৮ বার জপ করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল দুর্বল, যাঁরা অকারণ ভয় পান, অন্ধকারে একা যেতে পারেন না, কিংবা সব সময় অজানা আশঙ্কায় ভোগেন—তাঁদের জন্য এই মন্ত্র অত্যন্ত উপকারী। কারণ মঙ্গল সাহস, পরাক্রম ও আত্মবিশ্বাসের কারক গ্রহ। আর হনুমানজী মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা।
শ্রী হনুমতয়ে নমঃ
"श्री हनुमते नमः"
এই মন্ত্র জীবনের নানা বাধা দূর করতে সাহায্য করে।
যদি বারবার ব্যর্থতা আসে, কাজে বাধা পড়ে, সংসারে অশান্তি থাকে, চাকরি বা ব্যবসায় সমস্যা হয়, পড়াশোনায় মন না বসে, অথবা শারীরিক কিংবা মানসিক কষ্ট থাকে—তাহলে এই মন্ত্র জপ করা যেতে পারে। অবশ্যই কোন গুরুর থেকে নিয়ে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।
অনেকে মনে করেন, এক মালা জপ করলেই অলৌকিক ফল মিলবে। কিন্তু বাস্তব বিষয়টি তা নয়। যে কোনও মন্ত্র কমপক্ষে চব্বিশ মিনিট একাগ্রচিত্তে জপ করতে হবে। এর কম সময় জপ করলে মনের স্থিরতাই আসে না। চব্বিশ মিনিট ধরে নিরবচ্ছিন্ন জপ করলে শরীরের বাহাত্তর হাজার নাড়িতে ইতিবাচক স্পন্দন সৃষ্টি হয়। আটচল্লিশ মিনিট জপ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। ষাট মিনিট হলে তার থেকেও উত্তম। আর তারও বেশী সময় জপ করতে পারলে কল্যাণ আরও বৃদ্ধি পায়।
তবে শুধু জপ করলেই হবে না। রোখ চাই। পার্বতী মা শিবকে লাভ করার জন্য বারো হাজার বছর তপস্যা করেছিলেন। শুকনো বেলপাতা খেয়ে জীবন কাটিয়েছেন। তারপরও তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, "কোটি জন্ম লাগলেও শিবকেই স্বামীরূপে লাভ করব, নইলে অবিবাহিতই থাকব।"
তাহলে আমরা যদি ভাবি—একশো আটবার মন্ত্র জপ করেই সবকিছু পেয়ে যাব, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। সাধনায় দরকার—ধৈর্য, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সমর্পণ।
এবার শনিদেব ও হনুমানজীর একটি সুন্দর পৌরাণিক কাহিনি শোনাই।
রাবণ ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বহু বরপ্রাপ্ত। তাঁর পুত্র ইন্দ্রজিৎ জন্মানোর সময় তিনি সমস্ত গ্রহকে নিজের পায়ের নীচে চেপে রেখেছিলেন, যাতে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ যোগ নিয়ে জন্মায়।
দেবতারা তখন গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন। সেই সময় শনিদেব বললেন, "আমি চাইলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারি।"
সেই পরিকল্পনা অনুসারে দেবর্ষি নারদ তখন রাবণের কাছে গিয়ে বললেন,
"তুমি গ্রহদের পিঠে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছো—এতে কী গৌরব? সত্যিকারের বিজয়ী হলে তাদের বুকের ওপর প রেখে দাঁড়াও।"
রাবণ অহংকারে সেই কথাই মেনে নিলেন। তিনি গ্রহদের উল্টে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে শনিদেব তাঁর দৃষ্টি রাবণের মুখে নিক্ষেপ করলেন। সেই থেকেই রাবণের দুর্ভাগ্যের সূচনা হল। অবশ্য ক্রুদ্ধ রাবণ সঙ্গে সঙ্গে শনিদেবকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করকেন।
পরে যখন হনুমানজী সীতামাতার সন্ধানে লঙ্কায় প্রবেশ করেন, তখন সেই কারাগার থেকে শনিদেবের আর্তনাদ তাঁর কানে আসে।
তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি। কারাগার ভেঙে শনিদেবকে মুক্ত করেছিলেন।
আরেকটি প্রাচীন কাহিনিতে বলা হয়, হনুমানজী শনিদেবকে এমনভাবে মুক্ত করেন যে, তাঁর দৃষ্টি লঙ্কার দিকে পড়ে। শনিদেবের দৃষ্টি পড়তেই লঙ্কা ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়। তাই
মুক্তি পাওয়ার পর শনিদেব কৃতজ্ঞ চিত্তে হনুমানজীকে বললেন, "আজ থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করছি, তোমার সত্যিকারের ভক্তদের অকারণে কষ্ট দেব না।"
এই কারণেই আজও বিশ্বাস করা হয়, শনিদেবের কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য হনুমানজীর উপাসনা বিশেষ ফলদায়ক।
পরবর্তী ও শেষ পর্বে আমি আলোচনা করব—হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র, অঞ্জনেয় মন্ত্র, বিভিন্ন বিশেষ মন্ত্র, লাঙ্গুল স্তোত্র এবং মন্ত্রজপের সম্পূর্ণ বিধি। যাঁরা আগ্রহী সঙ্গে থাকবেন।
(ক্রমশ)
#হনুমানজী
#HanumanJi
#হনুমানমন্ত্র
#HanumanMantra
#SanatanDharma
#RamNaam
#SpiritualWisdom
#AstrologyIndia
উপরের পোস্টটি যাঁরা পড়েছেন পোস্টটি ভাল লাগল শেয়ার করবেন আর কমেন্টে লিখবেন
"জয় শ্রীরাম, জয় হনুমানজী।
শ্রীহনুমানজীর কৃপা আজও ঘটে তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় - Hanumanjir kripa aajo ghore part 1
" জানেন কি শুধু 'রাম' নাম উচ্চারণ করলেই হনুমানজী আপনার পাশে এসে দাঁড়ান? জানেন কি কোন মন্ত্রে দূর হয় ভয়, শনি দোষ ও জীবনের বাধা? শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যা ও বিরল কাহিনি জানুন এই বিশেষ আলোচনায়।"
_____________________
শ্রীহনুমানজীর কৃপা আজও ঘটে
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
আমি প্রায়ই একটি কথা বলি—ভারতবর্ষে প্রতিদিন হনুমানজী তাঁর ভক্তদের সাহায্য করতে আবির্ভূত হন। কথাটা শুনে অনেকেরই বিস্ময় জাগবে। কিন্তু একটু নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে দেখুন তো। হয়তো কোনও একদিন আপনি ভীষণ বিপদে পড়েছিলেন। চারপাশে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। ঠিক সেই সময় কোথা থেকে যেন একজন বৃদ্ধ এসে আপনাকে সাহায্য করলেন। কখনও হয়তো একজন যুবক, কখনও বা একেবারেই অচেনা কোনও মহিলা। আপনার কাজ শেষ হতেই তিনি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন। আপনি আর তাঁকে খুঁজে পেলেন না।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, অথচ আমরা বুঝতেই পারি না—তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং হনুমানজীই অন্য কোনও রূপ ধারণ করে আমাদের সাহায্য করে চলে গেছেন। বিশেষ করে যদি কখনও নির্জন স্থানে, অসহায় অবস্থায়, হৃদয়ের সমস্ত আকুতি দিয়ে আপনি হনুমানজীকে ডাকেন, তাহলে তাঁর কৃপা কোনও না কোনও রূপে আপনার কাছে পৌঁছবেই। তিনি কীভাবে আসবেন, কোন রূপে আসবেন, তা আমরা জানি না। কিন্তু তাঁর কৃপা কখনও ব্যর্থ হয় না।
এই প্রসঙ্গে আমি একটি কাহিনী বলছি আজ। ঘটনাটি জড়িয়ে আছে গোস্বামী তুলসীদাসজীর জীবনের সঙ্গে।
যখন গোস্বামী তুলসীদাসজী সাতাত্তর বছর বয়সে রামচরিতমানস রচনা করেছিলেন, সেই সময় একদিন তিনি ভক্তদের সামনে শ্রীরামকথা বলছিলেন। অসংখ্য মানুষ মুগ্ধ হয়ে তাঁর মুখ থেকে শ্রীরামের লীলা শুনছিলেন। চারদিকে এক অপূর্ব ভক্তিময় পরিবেশ।
হঠাৎ সেই সময় এক অত্যন্ত সুন্দরী নারী ঘোড়ার গাড়ি থেকে নেমে এসে সকলের সামনে উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, “পণ্ডিতজী! এতদিন কোথায় ছিলেন? অনেকদিন আমাদের কোঠায় আসছেন না!”
কথাটি শুনে উপস্থিত মানুষের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। অনেকে মনে মনে ভাবল—তাহলে তুলসীদাসজী বুঝি পতিতালয়েও যেতেন! মুহূর্তের মধ্যেই অর্ধেক শ্রোতা সভা ছেড়ে চলে গেলেন।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তুলসীদাসজীর মুখে কোনও পরিবর্তন এল না। তিনি যেন কিছুই শোনেননি। সম্পূর্ণ নির্বিকারভাবে তিনি শ্রীরামকথা বলে যেতে লাগলেন।
পরের দিনও যথারীতি তিনি শ্রীরামকথা বলতে বসেছেন। ভক্তরাও আবার জড়ো হয়েছেন। এমন সময় একজন মদ বিক্রেতা সেখানে এসে তাঁকে প্রণাম করে বলল,
“মহারাজ, আজকাল আর আমাদের দোকানে আসেন না কেন? আপনার কাছে এখনও কিছু টাকা পাওনাও আছে।”
এই কথা শুনে আরও অনেকের মনে সন্দেহ জন্মাল। তারা ভাবল—তাহলে ইনি মদও পান করেন! আরও অনেক মানুষ সভা ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু তুলসীদাসজী তখনও নির্বিকার। তাঁর কণ্ঠে শুধু রামকথার ধারা প্রবাহিত হতে লাগল।
তৃতীয় দিনের ঘটনাটি আরও আশ্চর্য। সেদিনও তিনি যথারীতি রামকথা বলছেন। ঠিক তখনই একজন ব্যক্তি কয়েকটি ছাগল নিয়ে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তুলসীদাসজীকে দেখে সে হেসে বলল, “মহারাজ, অনেকদিন হলো আপনি আর মাংস নেন না। আপনার সেবা করার সুযোগই হচ্ছে না!”
এবার উপস্থিত প্রায় সবাই এক সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেল। তারা ভাবল—এই ব্যক্তি তো পতিতালয়ে যায়, মদও খায়, আবার মাংসও খায়! একে একে সবাই সভা ছেড়ে চলে গেল।
শেষ পর্যন্ত সভায় মাত্র একজন মানুষ বসে রইলেন।তুলসীদাসজী শান্তভাবে তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন,“সবাই চলে গেল, আপনি এখনও বসে আছেন কেন? আপনিও যান।”
লোকটি মৃদু হেসে বলল, “আমি কেন যাব? এই কাহিনি তো আমার জন্যই হচ্ছে।”
তুলসীদাসজী বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর সেই ব্যক্তি নিজের প্রকৃত পরিচয় দিলেন। তিনি বললেন, “আমি শ্রীরামভক্ত হনুমান।”
এরপর তিনি তুলসীদাসজীকে বললেন, “এগুলো ছিল কলিযুগের তিনটি রূপ—কাম, মদ ও ভোগের মোহ। আজ আমি তোমাকে একটি বর দিচ্ছি। যেখানে তোমার শ্রীরামকথা হবে, সেখানে কলিযুগ কখনও প্রবেশ করতে পারবে না।”
এই কারণেই আজও বিশ্বাস করা হয়, যেখানে ভক্তিভরে শ্রীরামকথা হয়, সেখানে হনুমানজী স্বয়ং উপস্থিত থাকেন এবং কোনও অশুভ শক্তি সেই স্থানে প্রবেশ করতে পারে না।
হনুমানজী মন্ত্রের জন্য ততটা ব্যাকুল নন, তার থেকেও অনেক বেশি ব্যাকুল শ্রীরামের নাম শোনার জন্য। আপনি যদি একান্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শুধু বলেন—“রাম... রাম...” তাহলেই হনুমানজী আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। যেমন “রাধা রাধা” শুনলে শ্রীকৃষ্ণ ছুটে আসেন, তেমনই “রাম রাম” শুনলে হনুমানজী ছুটে আসেন।
তবুও শাস্ত্রে হনুমানজীর বহু শক্তিশালী মন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি প্রধান বীজমন্ত্র হল—
ॐ हं हनुमते नमः
বাংলা উচ্চারণ—
“ওঁ হং হনুমতয়ে নমঃ।”
এই মন্ত্র যদি নিয়মিত জপ করা যায়, তাহলে মানুষের জীবনে বহু পরিবর্তন আসে। জীবনে বিনয় আসে। সাহস বৃদ্ধি পায়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিজয়ী হওয়ার শক্তি লাভ হয়। ভূত-প্রেত, অশুভ শক্তি এবং নেতিবাচক চিন্তা দূরে সরে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শরীরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ে। দীর্ঘায়ু লাভ হয়। শনি, রাহু, মঙ্গল ও কেতুর অশুভ প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হয়। ঋণ, কষ্ট এবং মানসিক দুশ্চিন্তাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
তবে এখানে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে। শুধু মন্ত্র জপ করলেই হবে না। হনুমানজীর উপাসনা করতে হলে নিজের চরিত্রও শুদ্ধ রাখতে হবে।
আমি বলছি না যে আপনাকে সংসার ছেড়ে সন্ন্যাস নিতে হবে। আমি শুধু বলছি, সংসারে থেকেই যদি শাস্ত্রসম্মত, নৈতিক এবং সংযমী জীবনযাপন করতে পারেন, তাহলে হনুমানজীর কৃপা সর্বদা আপনার ওপর বিরাজ করবে। তিনি গৃহত্যাগ চান না। তিনি চান—সৎ চরিত্র, সত্যবাদিতা, সংযম এবং শ্রীরামের প্রতি অটল ভক্তি।
এই চারটি গুণ যদি জীবনে ধারণ করতে পারেন, তাহলে বিশ্বাস রাখুন, হনুমানজীর কৃপা কোনও না কোনও রূপে আপনার জীবনকে স্পর্শ করবেই।
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট সেকশনে লিখবেন -- "জয় হনুমানজী।" আর মন চাইলে ভক্ত বন্ধুদের জন্যে শেয়ার করতে পারেন)
ক্রমশ
(পরের ভাগে থাকবে—হনুমানজীর বীজমন্ত্রের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, সূর্যোদয়ে জপের নিয়ম, মূল মন্ত্র "শ্রী হনুমতয়ে নমঃ" ২৪ মিনিট জপের গুরুত্ব এবং শনিদেব ও হনুমানজীর বিখ্যাত কাহিনি।)
#HanumanJi
#JaiShriRam
#হনুমানমন্ত্র
#Bajrangbali
#SanatanDharma
#SpiritualWisdom
#Bhakti
#তারাশিসগঙ্গোপাধ্যায়
Monday, 6 July 2026
সিরাজ: সিংহাসন ও সত্যের মাঝখানে।Siraj between the facts and truth.
"সিরাজ: সিংহাসন ও সত্যের মাঝখানে"
একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও এক সাংবাদিকের সংলাপ
(উত্তর কলকাতার এক প্রাচীন বাড়ির ছায়াঘেরা বারান্দায়। পাশে রেকর্ডার রেখে বসে আছে তরুণ সাংবাদিক রোহন। তার সামনে বসে আছেন প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী আনন্দ চন্দ্র—যাঁর চোখে ধরা আছে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং স্বাধীনতার পরের বিভ্রান্ত সময়ের স্মৃতি।)
সাংবাদিক (রোহন):
দাদু, ইদানীং সামাজিক মাধ্যমে সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে প্রবল বিতর্ক চলছে। অনেকে বলছেন, তাঁকে আমরা যেভাবে বীর হিসেবে জেনেছি, তিনি আদৌ তেমন ছিলেন না। তাঁরা বিদ্যাসাগর, গোলাম হোসেন, এমনকি ফরাসি লেখক জ্যাঁ ল'-এর মতো সমসাময়িকদের উদ্ধৃতি দিচ্ছেন। আপনার কী মত? সিরাজ কি সত্যিই দেশপ্রেমিক ছিলেন, নাকি আর পাঁচজন অত্যাচারী শাসকের মতোই একজন শাসক?
স্বাধীনতা সংগ্রামী (আনন্দ চন্দ্র):
(ধীরে হেলান দিয়ে)
ইতিহাস, বাবা, যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু পরে ফেলে যাওয়া এক রণক্ষেত্রের মতো—ধোঁয়া তখনও পুরো কাটে না। যে যেমন দেখতে চায়, তেমনই দেখে। তবে এটুকু বলতে পারি, স্কুলে আমরা যে ইতিহাস পড়েছি, তা পুরো সত্য ছিল না।
রোহন:
তাহলে... আপনি বলতে চাইছেন, পাঠ্যবই আমাদের ভুল শিখিয়েছে?
আনন্দ চন্দ্র:
ভুল নয়—সরলীকরণ করেছে। আমাদের যৌবনে অধিকাংশ ইতিহাসই ব্রিটিশদের লেখা ছিল। পরে জাতীয়তাবাদী ইতিহাসকাররা বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে কিছু বীরের সন্ধান করলেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক তরুণ নবাব—সিরাজ—তাই হয়ে উঠলেন উপযুক্ত প্রতীক। কিন্তু সেই প্রতীকের আড়ালে যে মানুষটি ছিলেন, তিনি মোটেও আদর্শ ছিলেন না।
রোহন:
আপনি কি বিদ্যাসাগরের বর্ণনার কথা বলছেন?
আনন্দ চন্দ্র:
হ্যাঁ। বিদ্যাসাগর লিখেছিলেন, সিরাজ তাঁর দাদার বিশ্বস্ত কর্মচারীদের অপসারণ করে চারপাশে চাটুকার ও দুর্নীতিবাজদের জড়ো করেছিলেন। তাঁর শাসনে মানুষের সম্পদ ও সম্মান কোনোটাই নিরাপদ ছিল না। এমনকি গঙ্গায় স্নান করতে যাওয়া নারীরাও তাঁর কুদৃষ্টির ভয়ে আতঙ্কিত থাকতেন। এমন শাসককে আদর্শ বলা কঠিন।
রোহন:
তাহলে আজও অনেকে তাঁকে বীর বলে কেন?
আনন্দ চন্দ্র:
কারণ আমরা বিভ্রান্ত উত্তরাধিকার বহন করছি। উপনিবেশিক অপমানের ক্ষত আমাদের এমন কিছু প্রতীক খুঁজতে বাধ্য করেছিল, যাদের ঘিরে আত্মমর্যাদা গড়ে তোলা যায়। তাই অনেক সময় নিষ্ঠুর মানুষকেও দেশপ্রেমের রঙে রাঙানো হয়েছে। কিন্তু বিভ্রমের ওপর দাঁড়ানো গৌরব কখনও স্থায়ী হয় না।
রোহন:
(দ্রুত নোট নিতে নিতে)
গোলাম হোসেন তাঁর সিয়ার-উল-মুতাখখিরীন গ্রন্থেও সিরাজকে নিষ্ঠুর ও নারীলোলুপ বলেছেন, তাই না?
আনন্দ চন্দ্র:
হ্যাঁ। তাঁর সমসাময়িকদের অনেকেই—যেমন গোলাম হোসেন—সিরাজকে লোভী, নিষ্ঠুর ও কামুক শাসক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রোহন:
কিন্তু আমরা তো ছোটবেলা থেকে শুনেছি, তিনি ছিলেন প্রজাদরদী নবাব!
আনন্দ চন্দ্র:
সেই ধারণাটাই দীর্ঘদিন প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু সমসাময়িক বিবরণে দেখা যায়, তাঁর নিষ্ঠুরতার ভয়ে অনেক দরবারীও আতঙ্কে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কারণ ছাড়াই মানুষের সম্পদ কেড়ে নিতেন এবং নারীদের ওপর জোরজবরদস্তি করতেন। ব্রিটিশ কামান গর্জে ওঠার আগেই বাংলার সমাজ নানা সংকটে জর্জরিত ছিল।
রোহন:
মোহনলালের বোন—মাধবীকে নিয়ে একটা কাহিনি পড়েছিলাম...
আনন্দ চন্দ্র:
হ্যাঁ, এমন একটি কাহিনি বিভিন্ন পরবর্তী লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মোহনলালের বোন মাধবী (কোথাও হীরা নামেও উল্লেখিত) সিরাজের দ্বারা নির্যাতিত হন। তবে এই ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে, এবং নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক প্রমাণও সীমিত। তাই এ ধরনের বর্ণনা সতর্কতার সঙ্গে বিচার করা উচিত।
রোহন:
রানি ভবানীর আত্মীয়া তারাসুন্দরী সম্পর্কেও কিছু লেখা আছে...
আনন্দ চন্দ্র:
হ্যাঁ, এমন কাহিনিও প্রচলিত আছে যে সিরাজ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে অনুসরণ করান। তবে এই ঘটনাটিও বিতর্কিত এবং ইতিহাসবিদদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত নয়। ইতিহাসে লোককথা, পরবর্তী রচনা ও সমসাময়িক নথির মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।
রোহন:
তবুও তাঁকে বাংলার শহীদ বলা হয়!
আনন্দ চন্দ্র:
(মৃদু হাসি)
কোনো শাসক বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছেন বলেই তাঁর সব কাজ ন্যায়সঙ্গত হয়ে যায় না। আবার ব্যক্তিগত ত্রুটি থাকলেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ অস্বীকারও করা যায় না। ইতিহাস এতটা সাদা-কালো নয়।
রোহন:
গঙ্গা থেকে নারীদের ধরে এনে নবাবের সামনে হাজির করার গল্পও কি আছে?
আনন্দ চন্দ্র:
ফরাসি কর্মকর্তা জ্যাঁ ল'-এর স্মৃতিকথায় সিরাজ সম্পর্কে নানা সমালোচনামূলক মন্তব্য রয়েছে। তবে তাঁর বিবরণও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সমসাময়িক গুজবের প্রভাবমুক্ত ছিল না—এ কথাও মনে রাখতে হবে। তাই একক কোনো সূত্রকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরা উচিত নয়।
রোহন:
এত কিছু যদি লেখা থাকে, তাহলে আমাদের পড়ানো হয়নি কেন?
আনন্দ চন্দ্র:
কারণ ইতিহাস প্রায়ই সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়। কখনও নায়ক তৈরি হয়, কখনও খলনায়ক। কিন্তু একজন সত্যসন্ধানীর কাজ হলো—বিভিন্ন সূত্র পড়া, তাদের তুলনা করা এবং প্রমাণের ওজন বিচার করা।
রোহন:
তাহলে যখন আমরা বলি, মীর জাফর বাংলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন...
আনন্দ চন্দ্র:
(ধীরে থামিয়ে দিয়ে)
মীর জাফরের ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসে নানা ব্যাখ্যা আছে। কেউ তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলেন, কেউ বলেন তিনি নিজের স্বার্থ দেখেছিলেন, আবার কেউ বলেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। ইতিহাসকে এক বাক্যে বিচার করা কঠিন।
রোহন:
তাহলে পলাশীর যুদ্ধ কি শুধু পরাধীনতার শুরু ছিল না?
আনন্দ চন্দ্র:
পলাশীর যুদ্ধ ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তার ফলেই ধীরে ধীরে ব্রিটিশ প্রভাব ও শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাও সেই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
রোহন:
ভাবতে কষ্ট হয়।
আনন্দ চন্দ্র:
কষ্টের হলেও সত্যের সন্ধান সেখানেই। স্বাধীনতা শুধু বিদেশি শাসনের অবসান নয়—নিজেদের ইতিহাসকে সততার সঙ্গে দেখার ক্ষমতাও স্বাধীনতার অংশ।
রোহন:
তাহলে নতুন প্রজন্মের কী করা উচিত?
আনন্দ চন্দ্র:
শুধু অনুমোদিত ইতিহাস নয়—বিভিন্ন মত পড়ো। প্রশ্ন করো। তোমার পাঠ্যবইকে প্রশ্ন করো, আমাকেও প্রশ্ন করো। তবেই ইতিহাসের কুয়াশা কিছুটা সরবে।
রোহন:
(কিছুক্ষণ নীরব থেকে)
তাহলে সিরাজ না সম্পূর্ণ নায়ক, না সম্পূর্ণ খলনায়ক—বরং তাঁর সময়েরই এক প্রতিচ্ছবি?
আনন্দ চন্দ্র:
ঠিক তাই। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, নৈতিক অবক্ষয় ও রাজনৈতিক বিভাজন একটি দেশকে বাইরের শক্তির কাছে দুর্বল করে তোলে।
রোহন:
(ধীরে নোটবুক বন্ধ করে)
ধন্যবাদ, দাদু। আপনি আমাকে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি দিলেন, যা কোনো পাঠ্যবই দেয়নি।
আনন্দ চন্দ্র:
(মৃদু হাসলেন)
তাহলে সত্যনিষ্ঠভাবেই লিখো, রোহন। ইতিহাসকে ভালোবাসতে হলে তাকে প্রশ্ন করতে জানতে হয়। কোনো মানুষকে অন্ধভাবে পূজা বা ঘৃণা নয়—প্রমাণের আলোয় বিচার করাই ইতিহাসচর্চার আসল পথ।
Gosaiteertha Shantipur o Babla
গোঁসাইতীর্থ শান্তিপুর ও বাবলা শ্রীপাট দর্শন ও সাধুসঙ্গ
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
আমি বলতে থাকি,
"অবশেষে আকাশগঙ্গা পাহাড়ে দেখা হল তাঁর ইষ্টনির্দিষ্ট গুরু ব্রহ্মানন্দ স্বামীর সাথে। পরমহংসজী নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন সাধনমহলে। তিনিই শ্রীবিজয়কৃষ্ণকে দীক্ষা দেন। আর তাঁর কৃপাতেই সিদ্ধিলাভ করেন শ্রীবিজয়কৃষ্ণ। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে গোস্বামীজী বা গোঁসাইজী নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন জনমানসে। তখন আকাশগঙ্গা পাহাড়ের একটি গুহাতেই তিনি নিবিষ্ট হয়ে থাকতেন কঠোর সাধনায়।
গোস্বামীজী যোগীদের অলৌকিক শক্তি বা যোগবিভূতিতে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু পরমহংসজীর যৌগিক বিভূতি দেখে তাঁরও প্রত্যয় হল। আর তারপরই তিনি মনোনিবেশ করলেন যোগে। কঠোর সাধনায় লাভ করলেন অষ্টসিদ্ধি।
শ্রীত্রৈলঙ্গস্বামী, শ্রীভোলাগিরি মহারাজ, শ্রীরঘুবরদাস বাবাজী, শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, শ্রীভাষ্করানন্দ, শ্রীবিশুদ্ধানন্দ পরমহংস, শ্রীদ্বারকানাথ বাবাজী প্রভৃতি মহাত্মারা সকলেই ছিলেন তাঁর প্রশংসায় পঞ্চ মুখ। অতএব ধীরে ধীরে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। শিষ্যভক্তও হয় প্রচুর। মূলতঃ তাঁদের উৎসাহেই গড়ে ওঠে গোস্বামীজীর গেণ্ডারিয়ার আশ্রম। সেই আশ্রমকে কেন্দ্র করে দিকে দিকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মতই অকাতরে প্রেম বিলিয়ে যেতে থাকেন গোস্বামীজী। তাঁর হরিসংকীর্তন ও জীবে প্রেম স্বয়ং শ্রীচৈতন্যের মতই বিরাট আলোড়ন তোলে ভক্তজনমানসে।
বৃন্দাবনে গোস্বামীজীর একটি অপার্থিব অভিজ্ঞতার কথা বলছি। একদিন তিনি গিরি গোবর্দ্ধনে থাকাকালীন সহসা একটি গুহার সামনে একটি কংকালমূর্তিকে দেখতে পেলেন। দীর্ঘ এই কংকালমূর্তির দেহে কোথাও কোন রক্তমাংস নেই; কেবলমাত্র চোখের কোটরে আছে দুটি উজ্জ্বল চোখ ও মুখের মধ্যে জিভমাত্র। গোস্বামীজী কাছে যেতেই কংকালটি তাঁকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলেন এবং বললেন, 'ভগবানের লীলা দর্শন ও হরিনাম করিবার বাসনা এখনও আছে। সেইজন্য চক্ষু ও জিহ্বা রহিয়াছে, ভগবান যশোদানন্দনের কৃপায় অদ্য আমার একটি বাসনা পূর্ণ হইল।' তিনি আরো জানালেন যে তাঁর বয়স চারশো বছরেরও বেশী। তিনি এই বৃন্দাবনে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকেও দর্শন করেছেন। এবার মহাপ্রভুর এই নবতম রূপকেও দর্শন করলেন।
সাধনজগতে কথিত আছে- ভগবানের এক অবতার থেকে আরেক অবতার হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ অবতারের একজন করে লীলা পার্ষদ সেই দেহেই বিরাজ করেন। যেমন ত্রেতায় শ্রীরামচন্দ্রের মুখ্য পার্ষদ মহাবীর হনুমানজী শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেছেন দ্বাপরে, আবার দ্বাপরে শ্রীকৃষ্ণের সখা শ্রীদাম শ্রীচৈতন্যের মরলোকে আগমন পর্যন্ত ভাণ্ডীর বনে একটি গুহায় সমাধিস্থ ছিলেন এবং শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাবের পর নবদ্বীপে গিয়ে শ্রীচৈতন্যদেবকে দর্শন করে এসেছেন। তেমনভাবেই এই কংকালরূপী মহাত্মাও শ্রীচৈতন্যদেবের নব কলেবররূপী মহাত্মা শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীজীকে দর্শন করলেন। পরবর্তীকালে মহাত্মা অর্জুন দাসও গোস্বামীজীর সম্বন্ধে বলেছেন, 'সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু হ্যায়।'
গোস্বামীজী অনেক তীর্থদর্শনও করেছেন। মূলতঃ কাশী, বৃন্দাবন প্রভৃতি মহাতীর্থে অপার্থিব সব উপলব্ধি অর্জনের পর অবশেষে তিনি আসেন নীলাচলে। দারুব্রহ্ম জগন্নাথদেবকে দর্শনের পর তিনি প্রেমের মোহন আবেশে আবিষ্ট হয়ে যান। তাঁর কীর্তনের মাধ্যমে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মধ্যে আবার প্রেমভক্তির বান দেখা যায়। কৌপীনধারী, জটাজুটসমন্বিত এই মহাত্মাকে উৎকলবাসীরা 'জটিয়া বাবা' নামে ডাকতে থাকে। ধীরে ধীরে বছর খানেকের মধ্যেই স্থানীয় ভক্তসমাজের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন তিনি।
ভক্তজনমানসে গোস্বামীজীর প্রতিপত্তি দেখে স্থানীয় পাণ্ডাগণ এবং কিছু বৈষ্ণব মঠের মোহন্ত ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। তারপর তাঁরাই তৎপর হয়ে ওঠেন গোস্বামীজীর প্রাণনাশের জন্য। একদিন ভোরবেলায় গোস্বামীজী অন্য ভক্তদের নিয়ে বসে আছেন ভক্ত নীলমণি বর্মণের বাড়িতে। এমন সময়ে জগন্নাথদেবের প্রসাদী নাড়ুর ঝাঁপি নিয়ে কিছু পাণ্ডা এসে দাঁড়ালেন তাঁর সামনে। বললেন, 'জগন্নাথ মহাপ্রভুর মহাপ্রসাদ এনেছি আপনার জন্য।' তারপর গোস্বামীজীর হাতে তুলে দিলেন সেই নাড়ু। অষ্টসিদ্ধি সম্পন্ন গোস্বামীজী দিব্যদৃষ্টিতে জগন্নাথদেবের কৃপায় স্পষ্ট দেখলেন এতে বিষ মেশানো আছে। কিন্তু গোস্বামীজী তাসত্বেও সেই প্রসাদী নাড়ু ফেলতে পারলেন না। এ যে মহাপ্রসাদ। অতএব জেনে বুঝেও সেই বিষ তিনি খেলেন মহাপ্রসাদের সম্মানরক্ষার জন্য। তারপরই তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের চেষ্টায় যদিও বা জ্ঞান ফিরল কিন্তু শরীর বিধবস্ত হয়ে গেল। যে বিষপান করলে মানুষ তৎক্ষণাৎ মারা যায় সেই বিষ তাঁকে মারতে পারল না ঠিকই কিন্তু মাসখানেক ধরে তাঁর শরীরের উপর এই ভয়ংকর বিষের ক্রিয়া চলতে লাগল। দীর্ঘ এক মাস ধরে এই বিষের যন্ত্রণায় জ্বলতে হল তাঁকে।
শোনা যায় - অষ্টসিদ্ধিসম্পন্ন গোস্বামীজী প্রায়ই এই অবস্থায় বিষের দহনজ্বালা থেকে ক্ষণিকের নিস্তারের জন্য স্থূলদেহ ছেড়ে রেখে সূক্ষ্মদেহে ঊর্দ্ধলোকে ভ্রমণ করতেন। কিন্তু তাও তিনি নিজের যোগবিভূতি কখনো ব্যবহার করেননি নিজের যন্ত্রণা নিরাময়ের জন্য। আসলে যোগবিভূতি যে পার্থিব কারণে ব্যয় করতে নেই। এই ঐশ্বর্য্য ধরে রেখে অগ্রসর হতে হয় সাধনপথে। নাহলে শক্তি নাশ হয়ে যায় আর তাতেই ঘটে যোগীর পতন। তাই গোস্বামীজীও এই বিষয়ে সেই সনাতন পন্থাই অনুসরণ করেছেন।
অবশেষে বাংলা ১৩০৬ সালের ২২শে জ্যৈষ্ঠ বিষে জর্জরিত এই স্থূলশরীর ত্যাগ করে গোস্বামীজী চলে যান অমৃতলোকে। কিন্তু তাঁর মহাজীবনী ও মহাবাণী তিনি রেখে গেছেন আমাদের আলোর পথ দেখানোর জন্য। এবার সেই মহাত্মার গৃহদেবতা শ্যামসুন্দরের মন্দিরেই আমরা যাব।"
দেখতে দেখতে আমাদের গাড়ি এসে থামল একটি বড় বাড়ির সামনে। বুঝলাম আমরা এসে গেছি সেই সদাজাগ্রত শ্যামসুন্দরের মন্দিরের সামনে। তাই সানন্দেই আমরা গাড়ি থেকে নামলাম। এক সময়ে এখানে আতাবন ছিল বলে এই বাড়ির নাম আতাবুনিয়া গোঁসাই বাড়ি। গেরুয়া সাদায় মেলানো এই বাড়ির রঙ। বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলাম ভিতরে। ঢুকতেই সবুজ ঘাসের গালিচা দেয়া আঙিনা। ডানদিকে গেরুয়া রঙের একতলা ঘর, আর সামনে শ্বেতশুভ্র একতলা মন্দির। তবে মন্দিরের উপরে কোন চূড়া নেই- রয়েছে বসতবাড়ির একতলা ছাদ। মন্দিরের বারান্দায় একটি দোলনাও আছে। গর্ভগৃহে শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু পুজিত শ্যামসুন্দর ও রাধারাণী বিরাজ করছেন। সানন্দে তাঁদের দর্শন করলাম। আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বা শেষভাগে বলরাম মিশ্রের চতুর্থ পুত্র শ্রীদেবকীনন্দন গোস্বামী এই শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্যামসুন্দরের কি অপূর্ব রূপ! যে রূপের বাহার একদিন গোস্বামীপ্রভুকে ভুলিয়ে নাস্তির দুনিয়া থেকে অস্তির জগতে নিয়ে এসেছিল সেই রূপ দর্শন করে আমরাও ধন্য হয়ে গেলাম। একপাশে রয়েছে শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী প্রভুর বিরাট প্রতিকৃতি আর অন্যপাশে রয়েছে শ্যামসুন্দর ও রাধারাণীর শয্যা। শ্যামসুন্দরের ঠিক পাশে হাসিমুখে উপবিষ্ট ছোট্ট গোপালসোনা। সবাইকেই আমরা জানালাম প্রাণের প্রণতি।
(ক্রমশ)
#spiritual #আধ্যাত্মিক #bijaykrishnogoswami #Gosai #bookstagram #booksbooksbooks
Sunday, 5 July 2026
জুলাই মাসে গ্রহের চলাচল, বিশেষ তিথি ও শুভদিন। Transit of planets in July 2026
আজ আমরা জানব জুলাই মাসে কোন গ্রহ আপনার জন্য শুভ ফল দেবে, আর কোন গ্রহ আপনার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে—কোন কোন গ্রহের কৃপায় আপনি সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারেন—আবার কোন গ্রহ আপনাকে আকাশচুম্বী অবস্থান থেকে মাটিতে নামিয়ে আনতে পারে—জুলাই মাসে কোন রাশির ওপর কোন গ্রহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে, এবং কোন রাশি সবচেয়ে ভাগ্যবান হবে—এসব নিয়ে আলোচনা করব এখন।
তাহলে দেখা যাক জুলাই মাসে গ্রহদের সামগ্রিক অবস্থান কেমন থাকবে। জুলাই মাসে কোন গ্রহ রাশি পরিবর্তন করবে? কোন কোন গ্রহের যুগলবন্দী তৈরি হবে? এবং কোন কোন বিপজ্জনক যোগ সৃষ্টি হতে চলেছে?
দেখুন, জুলাই মাসে গ্রহদের চলাচল খুবই সক্রিয় থাকবে।
৪ জুলাই শুক্র সিংহ রাশিতে প্রবেশ করবে।
৭ জুলাই বক্রী বুধ মিথুন রাশিতে প্রবেশ করবে।
১৬ জুলাই সূর্যদেব কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবেন।
২৪ জুলাই বুধ বক্রী অবস্থা থেকে মার্গী হয়ে যাবে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত বুধ অস্ত থাকবে।
২৭ জুলাই শনি মীন রাশিতে বক্রী হয়ে যাবে।
মঙ্গল আগে থেকেই বৃষ রাশিতে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতি আগে থেকেই কর্কট রাশিতে অবস্থান করছে।
তবে ১৫ জুলাই থেকে টানা ২৮ দিনের জন্য বৃহস্পতি অস্ত থাকবে।
শনি এ বছর রাশি পরিবর্তন করছে না। কিন্তু ২৭ জুলাই থেকে টানা ১৩৮ দিনের জন্য শনি বক্রী হয়ে যাবে।
এবার জেনে নেওয়া যাক জুলাই মাসের ব্রত ও উৎসবগুলো। এর মধ্যে ১০ জুলাই, শুক্রবার—যোগিনী একাদশী।
১২ জুলাই, রবিবার—রোহিণী ব্রত এবং রবি প্রদোষ ব্রত।
১৪ জুলাই, মঙ্গলবার—আষাঢ় অমাবস্যা।
১৫ জুলাই, বুধবার থেকে গুপ্ত নবরাত্রি শুরু হবে।
১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার—সূর্য কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবেন।
সেদিন কর্কট সংক্রান্তিও হবে।
একই দিনে জগন্নাথদেবের রথযাত্রারও সূচনা হবে।
১৯ জুলাই, রবিবার—স্কন্দ ষষ্ঠী।
২৫ জুলাই, শনিবার—দেবশয়নী একাদশী। এই দিন থেকেই ভগবান শ্রীহরি বিষ্ণু যোগনিদ্রায় প্রবেশ করেন।
২৬ জুলাই, রবিবার—রবি প্রদোষ ব্রত।
২৯ জুলাই, বুধবার—গুরু পূর্ণিমা।
৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার—শ্রাবণ মাসের সূচনা হবে।
এবার জেনে নেওয়া যাক জুলাই মাসের বিভিন্ন শুভ মুহূর্ত। যদি আপনি বাগদান, বিবাহ, গৃহপ্রবেশ করতে চান—
অথবা গাড়ি, জমি বা সোনা কিনতে চান—তাহলে কোন দিনটি আপনার জন্য সবচেয়ে শুভ হবে?
এর মধ্যে গাড়ি কেনার জন্য শুভ দিন—
২, ৩, ৫, ৮, ১২, ১৯, ২৪, ২৯ ও ৩০ জুলাই।
বিবাহের জন্য শুভ দিন—
১, ৬, ৭, ১১ ও ১২ জুলাই।
সম্পত্তি কেনার জন্য শুভ দিন—
১৬, ১৭, ২৩ ও ২৪ জুলাই।
গৃহপ্রবেশের জন্য শুভ দিন—
১, ২ ও ৬ জুলাই।
নামকরণ অনুষ্ঠানের জন্য শুভ দিন—
৩, ৭, ১১, ১৪, ১৭, ২১, ২৫ ও ২৯ জুলাই।
নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য শুভ দিন—
১০, ১৬ ও ২৩ জুলাই।
মুণ্ডন সংস্কারের জন্য শুভ দিন—
২, ৩, ৯, ১৫ ও ২০ জুলাই।
অন্নপ্রাশনের জন্য শুভ দিন —
১৫, ২০, ২৪ ও ২৯ জুলাই।
উপনয়ন অনুষ্ঠানের জন্য শুভ দিন—
১, ২, ৪, ৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২৪, ২৬, ৩০ ও ৩১ জুলাই।
এরপরের পোস্টে আসা যাবে মেষ রাশি প্রসঙ্গে।
ক্রমশ