Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Saturday, 28 February 2026

চন্দ্রগ্রহণ মার্চ ২০২৬। কি করবেন আর কি করবেন না? বলছেন তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।

৩রা মার্চ হতে চলেছে বছরের প্রথম দৃশ্যমান চন্দ্রগ্রহণ। অনেকেই প্রশ্ন করছেন - এই গ্রহণ কোন সময়ে লাগবে? সূতককাল কখন থেকে শুরু হবে? গ্রহণের সময় ও পরে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক গ্রহণের সময়সূচি, সূতককাল এবং গ্রহণের সময় কী কী সতর্কতা প্রয়োজন।

আমরা জানি—গ্রহণ মানে হল যখন সূর্য বা চন্দ্র রাহু-কেতুর দ্বারা পীড়িত হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী রাহু দেবতাদের মাঝে বসে অমৃত পান করেছিল। সূর্যদেব ও চন্দ্রদেব বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাঁরা ইঙ্গিত দেন ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে। তখন বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর মাথা কেটে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অমৃত শরীরে পৌঁছে গিয়েছিল, তাই রাহুর দেহ দুই ভাগ হয়ে যায়—এক ভাগ কেতু, অন্য ভাগ রাহু।

জ্যোতিষ মতে, জন্মকুণ্ডলীতে সূর্য বা চন্দ্র যদি রাহু বা কেতুর সঙ্গে একই ডিগ্রিতে অবস্থান করে—অমাবস্যা বা পূর্ণিমার দিনে—তখনই গ্রহণ ঘটে।

২০২৬ সালের ৩রা মার্চ চন্দ্রগ্রহণ হবে সিংহ রাশি ও পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে। মোট সময় হবে ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট—দুপুর ৩টা ২১ থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ পর্যন্ত। তবে ভারতে এটি মাত্র ২০ মিনিট ২৮ সেকেন্ড দেখা যাবে, কারণ চন্দ্রোদয়ের সময় গ্রহণ প্রায় শেষের দিকে থাকবে।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সূতক শুরু হবে ৩রা মার্চ সকাল ৬টা ২১ থেকে।
এখন জেনে নেয়া যাক গ্রহণের সময় কী কী সতর্কতা ও করণীয়।

সাধারণভাবে সূতক লাগতেই মন্দির ও ধর্মস্থানগুলির দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মূর্তি স্পর্শ করা নিষিদ্ধ থাকে। তবে মূর্তি ছাড়া পূজা, জপ, প্রার্থনা করা যায়।
স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সূতকের ১২ ঘণ্টায় খাওয়া-দাওয়া না করাই ভালো। তবে বৃদ্ধ, শিশু বা অসুস্থরা স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে পারেন।

গৃহিণীদের উচিত সূতক শুরুর আগে চাল, ডাল, আটা, সবজি—সব খাবারে একটি করে তুলসী পাতা রাখা, যাতে গ্রহণের পরও তা ব্যবহারযোগ্য থাকে।

গ্রহণের সময় বাইরে না গিয়ে ঘরে বসে জপ বা মানসিক প্রার্থনা করা শ্রেয়। গ্রহণ শেষে স্নান করে চিনি, চাল, কাপড় ইত্যাদি দান করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।

চন্দ্রগ্রহণের সম্পর্ক মানুষের মন, আবেগ ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই এটি আধ্যাত্মিক ও মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে তাই জপ করা খুব ভাল।

অনেকেই বলবেন—গ্রহণের সময় কেন মন্ত্রজপ করতে বলছি? কারণ এই সময়ে সুস্থ মানুষের শরীরে সুষুম্না নাড়ির প্রবাহ সক্রিয় থাকে। 

এখন প্রশ্ন করতেই পারেন—সুষুম্না নাড়ি কী?

তাহলে একটু সহজ করে বলি। জানেন তো, মানুষের নাকে দুটি ছিদ্র থাকে। বাম নাসারন্ধ্রকে বলা হয় ইড়া নাড়ি, আর ডান নাসারন্ধ্রকে বলা হয় পিঙ্গলা নাড়ি। সাধারণত এক সময় একটিই নাড়ি সক্রিয় থাকে; দুটো একসাথে খুব কমই সক্রিয় হয়।

যখন বাম নাক দিয়ে শ্বাস চলে, তাকে গঙ্গা নাড়ি বা ইড়া নাড়ি চলতে থাকে। যখন ডান নাক দিয়ে শ্বাস চলে, তাকে যমুনা নাড়ি বা পিঙ্গলা নাড়ি চলতে থাকে। আর যখন দুই নাক দিয়েই সমানভাবে শ্বাস চলতে থাকে, তখন বলা হয় সরস্বতী নাড়ি বা সুষুম্না নাড়ি চলছে।

আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন, ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করলে মোক্ষ লাভ হয়, পাপ ধুয়ে যায়। সঙ্গম মানে কি? গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর মিলন। যেমন প্রয়াগরাজে গঙ্গা ও যমুনার জল মিলিত হয়—সেই মিলনক্ষেত্রকে সঙ্গম বলা হয় এবং মানুষ সেখানে স্নান করে নিজেকে ধন্য মনে করে।
ঠিক তেমনই শরীরের ভিতরেও একটি সূক্ষ্ম সঙ্গম আছে। যখন ইড়া ও পিঙ্গলা সমানভাবে প্রবাহিত হয়, তখন সুষুম্না সক্রিয় হয়—এটাই শরীরের সূক্ষ্ম সঙ্গম। সেই অবস্থায় যদি কেউ ধ্যান করে, সমাধিতে বসে বা গভীর মনসংযোগে থাকে—সেই অবস্থাই মোক্ষের পথ। তবে দেখা যাচ্ছে যে দেহের বাইরের 
স্থূল সঙ্গম যেমন প্রয়াগরাজে, তেমন দেহের ভিতরের সূক্ষ্ম সঙ্গম মানুষের শরীরে।

মনে করে দেখুন, প্রাচীনকালে ঋষি-মুনি বা দেবতারা যখন কাউকে আশীর্বাদ বা অভিশাপ দিতেন, তখন দুটি বিশেষ মানসিক অবস্থায় দিতেন—অত্যন্ত প্রসন্ন অবস্থায় আশীর্বাদ, আর প্রবল ক্রোধে অভিশাপ। এই দুই অবস্থাতেই সুষুম্না নাড়ি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় হয়ে যায়। কোনও সাধারণ মানুষও যদি খুব বেশি আনন্দিত হয় বা ক্রুদ্ধ হয়, তার সুষুম্না সক্রিয় হতে পারে। তাই সুষুম্না সক্রিয় অবস্থায় বলা কথা শক্তিশালী হয়—আশীর্বাদও সত্য হয়, অভিশাপও সত্য হয়। তবে এই আশীর্বাদ ও অভিশাপ সত্য হওয়ার জন্যে একটা শর্ত আছে। একজন সাধু বলেছিলেন—অন্যের অন্ন খেলে জিভ অপবিত্র হয় আর অন্যের অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ স্পর্শ করলে হাত অপবিত্র হয়। অথচ আশীর্বাদ ও অভিশাপ—এই হাত ও জিভ দিয়েই দেওয়া হয়। তাই এই দুইয়ের ক্ষেত্রেই দেহের পবিত্রতা রাখা জরুরি।

সুষুম্না সক্রিয় অবস্থায় সাধারণ সংসারিক কাজ করা ঠিক নয়। যেমন—কোন নতুন ভ্রমণ শুরু করা, বাড়ি তৈরি করা, গাড়ি কেনা, বা গর্ভধারণ—এগুলো করলে অশুভ ফল হতে পারে বলে শাস্ত্রে বলা হয়েছে।

শাস্ত্র অনুযায়ী দিনে চারবার স্বাভাবিকভাবে সুষুম্না সক্রিয় হয়—
১. ব্রাহ্মমুহূর্তে (ভোর ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে)।
২. দিনের এক বিশেষ সময়ে (প্রায় পৌনে ৫টার কাছাকাছি)।
৩. সূর্যাস্তের ১৫ মিনিট আগে ও পরে।
৪. মধ্যরাতে ১২টার ১৫ মিনিট আগে ও পরে।
এই সময়গুলোতে প্রায় কয়েক মিনিটের জন্য সুষুম্না প্রবাহিত হয়। তাই এসব সময়ে  সাংসারিক কাজ নিষেধ করা হয়েছে।

চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সময় সুষুম্না সক্রিয় থাকে বলে মনে করা হয়। তাই এই সময়ে মন্ত্রজপ করলে তা দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং জীবনে ফল দেয়। এই কারণে গ্রহণকে এক অর্থে আশীর্বাদও বলা হয়—যদি সময়ের সদ্ব্যবহার করা যায়।
আজকের যুগ অর্থকেন্দ্রিক হলেও ভারতে এখনও ঈশ্বরবিশ্বাস আছে, মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝে। তাই যদি এই সময় ধ্যান, সাধনা ও ঈশ্বরস্মরণে ব্যবহার করা যায়—তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?

 আগামীকাল রবিবার। আমার বইয়ের লেখার দিন। সোমবার থেকে লিখব এই গ্রহণ বিভিন্ন রাশিতে কি ফল দেবে। যাঁরা যাঁরা পড়বেন তাঁরা জানাবেন তাঁদের কি রাশি।
   (ক্রমশ)

#আধ্যাত্মিকতা
#ধর্মকথা
#জীবনেরসত্য
#আত্মজাগরণ
#গুরুবচন
#সৎসঙ্গ
#ভক্তি
#SpiritualAwakening
#InnerPeace
#SanatanDharma
#SpiritualWisdom
#SoulJourney
#MeditationLife
#DivinePath
#BhaktiYoga
#SeekTheTruth
#HigherConsciousness
#Enlightenment

No comments:

Post a Comment