হোলি আসছে। রঙের উৎসব, আনন্দের উৎসব।
দেশজুড়ে উৎসবের বাতাস বইছে। বিশেষ করে মথুরা ও বৃন্দাবন–এ এখন থেকেই আকাশে বাতাসে রঙের আবেশ।
তবু মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
হোলিকা দহন কবে? আর রঙের হোলি কবে?
প্রায় প্রতি উৎসবেই এমন বিভ্রান্তি দেখা যায়। কেউ একদিন বলে, কেউ আরেকদিন। পঞ্জিকা ভেদে মতভেদ। তবে সত্যি বলতে কি, শাস্ত্রের নিয়ম বুঝলে আর কোনো দ্বিধা থাকে না।
দেখ, হোলিকা দহন হয় ফাল্গুন পূর্ণিমায়। কিন্তু পূর্ণিমার প্রথম অর্ধাংশে থাকে “ভদ্রা”। আর শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে—ভদ্রার সময় হোলিকা দহন করা নিষেধ। নির্ণয় সিন্ধু, মদন রত্ন এবং পুরাণসমূহে বলা হয়েছে—ভদ্রার সময় হোলিকা জ্বালালে অশুভ ফল হয়। এমনকি দেশ বা নগরের অকল্যাণও হতে পারে। তাই নিয়ম একটাই—
ভদ্রা শেষ না হলে হোলিকা দহন করা যাবে না।
যদি ফাল্গুনী পূর্ণিমায় ভদ্রা থাকে, বিশেষ করে যদি ভদ্রা রাতের সময় পড়ে, তাহলে ভদ্রার মধ্যে হোলিকা দহন করা উচিত নয়। ভদ্রা শেষ হওয়ার পরেই হোলিকা দহন করতে হবে।
শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে— পূর্ণিমার রাতে যতক্ষণ ভদ্রা থাকে, ততক্ষণ হোলিকা জ্বালানো নিষিদ্ধ। এ বছর ২ তারিখ সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে। আর ভদ্রা থাকবে ভোর ৪টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। তাই ২ ও ৩ তারিখের মাঝের ভোরে, অর্থাৎ ৩ তারিখ ভোর ৪টা ৫৬ থেকে ৫টা ৩০–৪৫ মিনিটের মধ্যে হোলিকা দহন করা হবে।
২ তারিখ সন্ধ্যার পর রাত ১২টা বাজলেই ৩ তারিখ শুরু হবে। আর ৩ তারিখ ভোরেই নির্দিষ্ট সময়ে হোলিকা জ্বালাতে হবে। কাশীর ঋষিকেশ পঞ্চাং-ও একই কথা বলেছে। তাদের গণনার ভিত্তিতেই এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও সন্দেহ থাকলে ঋষিকেশ পঞ্চাং দেখে নিতে পারেন।
আবার এ বছর ৩ তারিখেই চন্দ্রগ্রহণ রয়েছে।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
যদি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয়, তবে গ্রহণের আগে এবং ভদ্রা শেষ হওয়ার পর হোলিকা দহন করতে হবে।
তাই ৩ তারিখ ভোরেই হোলিকা দহন সম্পন্ন হবে। যেহেতু এদিন সুতক পালন করতে হচ্ছে না তাই এদিন পূর্ণিমা থাকতেই ঠাকুরকে রঙ্গন আবীর দেয়া যাবে।
এরপর ৪ তারিখ সাধারণভাবে রঙের হোলি পালন করা হবে।
এবার আসি সুতক নিয়ে। এই বিষয়ে সূতক ও মন্দিরের নিয়ম নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। অনেকে বলছেন, গ্রহণে ১২ ঘণ্টার সূতক লাগবে।
কিন্তু এ বছর গ্রহণটি “গ্রস্তোদিত” চন্দ্রগ্রহণ।
অর্থাৎ, চাঁদ যখন উঠবে তখনই তা গ্রস্ত অবস্থায় থাকবে। ভারতে গ্রহণ দৃশ্যমান থাকবে মাত্র কিছুক্ষণ। কাশীর বিদ্বানদের মতে, এমন ক্ষেত্রে যতক্ষণ গ্রহণ দৃশ্যমান থাকবে, ততক্ষণই মন্দিরে পূজা বন্ধ থাকবে।
যেমন—
বাঁকে বিহারী মন্দির,
রাম মন্দির–এ
শুধু গ্রহণের সময়টুকুই পূজা স্থগিত থাকবে। পরে আবার নিয়মমত শুরু হবে। তাই ১২ ঘণ্টার সূতক এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
গ্রহণের সময় বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তাদের উচিত—
গ্রহণ না দেখা।
গ্রহণের আগে গরুর গোবর বা হলুদের গুঁড়ো দিয়ে ছোট বল তৈরি করে সাতবার পেটের চারদিকে ঘুরিয়ে আলাদা রাখা
গ্রহণ শেষে তা জলে বিসর্জন দেওয়া
গ্রহণকালে না ঘুমানোই ভাল। কাঁচি বা ছুরি ব্যবহার করবে না। ঈশ্বরের নাম জপ করবে—রাম, কৃষ্ণ, হরি, শিব—যে কোনো নাম।
ধর্মীয় চিন্তায় মন রাখলে কোনো অশুভ প্রভাব পড়বে না—না মায়ের উপর, না গর্ভস্থ সন্তানের উপর।
তবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বাস আর শাস্ত্রের নিয়ম মেনে চললে উৎসবই আশীর্বাদ হয়ে ওঠে।
#চন্দ্রগ্রহণ
#রাশিফল
#জ্যোতিষ
#Astrology
#LunarEclipse
#ZodiacSigns
#CosmicEnergy
#SpiritualLife
#PositiveEnergy
#MantraPower
#IndiaAstrology
#BanglaContent
#tarashis_gangopadhyay
No comments:
Post a Comment