Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Wednesday, 8 July 2026

দ্বিতীয় ভাগ - হনুমানজীর বীজমন্ত্র ও তার মহিমা - beejmantra of Hanumanji

 দ্বিতীয় ভাগ - হনুমানজীর বীজমন্ত্র ও তার মহিমা


দ্বিতীয় ভাগ - হনুমানজীর বীজমন্ত্র ও তার মহিমা
আপনারা কি জানেন, হনুমানজীর এমন একটি বীজমন্ত্র আছে যা সাহস, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক শক্তি জাগিয়ে তোলে? কেন মাত্র ২৪ মিনিট হনুমানজীর এই মন্ত্র জপ করার কথা বলা হয়? এর পেছনের আধ্যাত্মিক রহস্য শুনলে অবাক হবেন।
আজ প্রথমেই আসুন, হনুমানজীর বীজমন্ত্র নিয়ে কথা বলি। অনেকেই জানতে চান, হনুমানজীর প্রকৃত বীজমন্ত্র কী? কেন এই মন্ত্র জপ করা উচিত? আর কীভাবেই বা জপ করলে তার প্রকৃত ফল লাভ করা যায়?
________________________

আমি যে কথাগুলি এখন বলছি, সেগুলি মন দিয়ে শুনুন।

হনুমানজীর বীজমন্ত্র হল—
"हं" (হং)
যেমন—
সরস্বতীর বীজমন্ত্র — ऐं (ঐং)
দুর্গার বীজমন্ত্র — ह्रीं (হ্রীং)
কালীর বীজমন্ত্র — क्लीं (ক্লীং)
শিবের বীজমন্ত্র — हौं (হৌঁ)
গণেশের বীজমন্ত্র — गं (গং)
অগ্নির বীজমন্ত্র — रं (রং)

ঠিক তেমনই হনুমানজীর বীজ হল "হং"।
এবার আসি হনুমানজীর প্রধান বীজমন্ত্রে। ॐ हं हनुमते नमः
বাংলা উচ্চারণ—
"ওঁ হং হনুমতয়ে নমঃ"

এই মন্ত্র যদি নিয়মিত জপ করা যায়, তাহলে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক শক্তি বাড়ে। শরীরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। সহনশক্তি বাড়ে। নেতিবাচক শক্তি দূরে থাকে। বিশেষ করে যাঁদের শনির সাড়ে-সাতি, ঢাইয়া অথবা শনির মহাদশা চলছে, তাঁরা যদি আন্তরিকভাবে হনুমানজীর উপাসনা করেন, তাহলে শনির অশুভ প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হয়। তবে সিদ্ধ গুরুর থেকে না নিয়ে এই মন্ত্র জপে ফল আসে না।
অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন—এই মন্ত্র কখন জপ করা উচিত?
আমি বলি, সূর্যোদয়ের সময় এই মন্ত্র জপ করা সর্বোত্তম। পূর্বদিকে মুখ করে প্রতিদিন ১০৮ বার জপ করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল দুর্বল, যাঁরা অকারণ ভয় পান, অন্ধকারে একা যেতে পারেন না, কিংবা সব সময় অজানা আশঙ্কায় ভোগেন—তাঁদের জন্য এই মন্ত্র অত্যন্ত উপকারী। কারণ মঙ্গল সাহস, পরাক্রম ও আত্মবিশ্বাসের কারক গ্রহ। আর হনুমানজী মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা।

এবার আর-একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রের কথা বলি।
শ্রী হনুমতয়ে নমঃ
"श्री हनुमते नमः"
এই মন্ত্র জীবনের নানা বাধা দূর করতে সাহায্য করে।
যদি বারবার ব্যর্থতা আসে, কাজে বাধা পড়ে, সংসারে অশান্তি থাকে, চাকরি বা ব্যবসায় সমস্যা হয়, পড়াশোনায় মন না বসে, অথবা শারীরিক কিংবা মানসিক কষ্ট থাকে—তাহলে এই মন্ত্র জপ করা যেতে পারে। অবশ্যই কোন গুরুর থেকে নিয়ে। 
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।
অনেকে মনে করেন, এক মালা জপ করলেই অলৌকিক ফল মিলবে। কিন্তু বাস্তব বিষয়টি তা নয়। যে কোনও মন্ত্র কমপক্ষে চব্বিশ মিনিট একাগ্রচিত্তে জপ করতে হবে। এর কম সময় জপ করলে মনের স্থিরতাই আসে না। চব্বিশ মিনিট ধরে নিরবচ্ছিন্ন জপ করলে শরীরের বাহাত্তর হাজার নাড়িতে ইতিবাচক স্পন্দন সৃষ্টি হয়। আটচল্লিশ মিনিট জপ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। ষাট মিনিট হলে তার থেকেও উত্তম। আর তারও বেশী সময় জপ করতে পারলে কল্যাণ আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে শুধু জপ করলেই হবে না। রোখ চাই। পার্বতী মা শিবকে লাভ করার জন্য বারো হাজার বছর তপস্যা করেছিলেন। শুকনো বেলপাতা খেয়ে জীবন কাটিয়েছেন। তারপরও তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, "কোটি জন্ম লাগলেও শিবকেই স্বামীরূপে লাভ করব, নইলে অবিবাহিতই থাকব।"
তাহলে আমরা যদি ভাবি—একশো আটবার মন্ত্র জপ করেই সবকিছু পেয়ে যাব, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। সাধনায় দরকার—ধৈর্য, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সমর্পণ।
এবার শনিদেব ও হনুমানজীর একটি সুন্দর পৌরাণিক কাহিনি শোনাই।
রাবণ ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বহু বরপ্রাপ্ত। তাঁর পুত্র ইন্দ্রজিৎ জন্মানোর সময় তিনি সমস্ত গ্রহকে নিজের পায়ের নীচে চেপে রেখেছিলেন, যাতে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ যোগ নিয়ে জন্মায়।
দেবতারা তখন গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন। সেই সময় শনিদেব বললেন, "আমি চাইলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারি।"

সেই পরিকল্পনা অনুসারে দেবর্ষি নারদ তখন রাবণের কাছে গিয়ে বললেন,
"তুমি গ্রহদের পিঠে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছো—এতে কী গৌরব? সত্যিকারের বিজয়ী হলে তাদের বুকের ওপর প রেখে দাঁড়াও।"
রাবণ অহংকারে সেই কথাই মেনে নিলেন। তিনি গ্রহদের উল্টে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে শনিদেব তাঁর দৃষ্টি রাবণের মুখে নিক্ষেপ করলেন। সেই থেকেই রাবণের দুর্ভাগ্যের সূচনা হল। অবশ্য ক্রুদ্ধ রাবণ সঙ্গে সঙ্গে শনিদেবকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করকেন।
পরে যখন হনুমানজী সীতামাতার সন্ধানে লঙ্কায় প্রবেশ করেন, তখন সেই কারাগার থেকে শনিদেবের আর্তনাদ তাঁর কানে আসে।
তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি। কারাগার ভেঙে শনিদেবকে মুক্ত করেছিলেন।
আরেকটি প্রাচীন কাহিনিতে বলা হয়, হনুমানজী শনিদেবকে এমনভাবে মুক্ত করেন যে, তাঁর দৃষ্টি লঙ্কার দিকে পড়ে। শনিদেবের দৃষ্টি পড়তেই লঙ্কা ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়। তাই 
মুক্তি পাওয়ার পর শনিদেব কৃতজ্ঞ চিত্তে হনুমানজীকে বললেন, "আজ থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করছি, তোমার সত্যিকারের ভক্তদের অকারণে কষ্ট দেব না।"
এই কারণেই আজও বিশ্বাস করা হয়, শনিদেবের কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য হনুমানজীর উপাসনা বিশেষ ফলদায়ক।

পরবর্তী ও শেষ পর্বে আমি আলোচনা করব—হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র, অঞ্জনেয় মন্ত্র,  বিভিন্ন বিশেষ মন্ত্র, লাঙ্গুল স্তোত্র এবং মন্ত্রজপের সম্পূর্ণ বিধি। যাঁরা আগ্রহী সঙ্গে থাকবেন।
(ক্রমশ)
#হনুমানজী
#HanumanJi
#হনুমানমন্ত্র
#HanumanMantra
#SanatanDharma
#RamNaam
#SpiritualWisdom
#AstrologyIndia
উপরের পোস্টটি যাঁরা পড়েছেন পোস্টটি ভাল লাগল শেয়ার করবেন আর কমেন্টে লিখবেন 
"জয় শ্রীরাম, জয় হনুমানজী।

10 comments:

  1. জয় জয় সীতারাম,জয় রাম ভক্ত হনুমানজীর জয়।

    ReplyDelete
  2. 🙏😇, siyavar ramchandra ki jay. Pavansut hanuman ki jay🙏

    ReplyDelete
  3. বাহ্ জেনে খুউব ভালো লাগলো

    ReplyDelete
  4. জয় শ্রীরাম জয় hanumanji

    ReplyDelete
  5. জয় হনুমান জী 🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
  6. Apnar sob lekhai pore khub somriddho hoy.

    ReplyDelete
  7. আমি রোজ Hanuman chalisa পড়ি. pronam neben

    ReplyDelete
  8. ধন্যবাদ দাদা, শ্রী হনুমতয়ে নমঃ 🙏

    ReplyDelete