Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Thursday, 9 July 2026

হনুমান মন্ত্রের মাহাত্ম্য — তৃতীয় ও শেষ ভাগ the importance of the mantras of Hanumanji

 

হনুমান মন্ত্রের মাহাত্ম্য — তৃতীয় ও শেষ ভাগ
- তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

আজ আমি এমন কয়েকটি হনুমান মন্ত্রের কথা বলব, যেগুলি শুধু শাস্ত্রেই উল্লেখিত নয়, বহু যুগ ধরে ভক্তদের সাধনায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তবে তার আগে একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই—শুধু মন্ত্র মুখস্থ করলেই হবে না। মন্ত্রের সঙ্গে যদি চরিত্র, ভক্তি, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস যুক্ত না হয়, তাহলে তার প্রকৃত ফল অনুভব করা কঠিন।

প্রথমেই আসি হনুমান গায়ত্রী মন্ত্রে।
॥ ॐ आञ्जनेयाय विद्महे वायुपुत्राय धीमहि तन्नो हनुमान् प्रचोदयात् ॥
বাংলা উচ্চারণঃ
"ওঁ আঞ্জনেয়ায় বিদ্মহে। বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমান প্রচোদয়াত্॥"
এই মন্ত্র বহু ভক্ত সন্তানের মঙ্গল, মনোবল বৃদ্ধি এবং জীবনের বাধা অতিক্রমের প্রার্থনায় জপ করে থাকেন। বিশেষ করে যাঁরা শনির সাড়ে-সাতি, ঢাইয়া বা জীবনের নানা প্রতিকূল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছেও এই মন্ত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আমি বরাবরই মনে করি, সনাতন জীবনের কিছু নিয়ম যদি আমরা প্রতিদিন পালন করি, তাহলে তার সুফল আমাদের মন, শরীর ও আত্মা—তিন ক্ষেত্রেই অনুভব করা যায়। ভোরে জেগে ওঠা, স্নান করা, সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়া, প্রাণায়াম করা, গায়ত্রী মন্ত্র জপ করা এবং যাঁদের পক্ষে সম্ভব অগ্নিহোত্র করা—এসব শুধু ধর্মীয় আচরণ নয়, বরং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের ভিত্তি।

এবার আসি আঞ্জনেয় মন্ত্রে—
॥ श्री वज्रदेहाय रामभक्ताय वायुपुत्राय नमोऽस्तुते ॥
এই মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমার মনে পড়ে যায় হনুমানজীর সেই অনন্য চরিত্রের কথা।
তিনি যখন সীতামাতার সন্ধানে সমুদ্র পার হওয়ার পথে চলেছেন, তখন মৈনাক পর্বত উঠে এসে তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলেছিল। কিন্তু হনুমানজী বলেছিলেন, "राम काज कीन्हे बिना मोहि कहाँ विश्राम।"
অর্থাৎ—"প্রভুর কাজ সম্পূর্ণ না করে আমার বিশ্রাম কোথায়?"
এই একটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের এক অমূল্য শিক্ষা।
আমরা প্রায়ই কাজ শুরু করি, কিন্তু মাঝপথে ক্লান্ত হয়ে থেমে যাই। হনুমানজী শেখান—যে কাজ শুরু করবে, তা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অলসতা বা বিশ্রাম যেন তোমাকে স্পর্শ না করে।

এরপর যে শ্লোকটির কথা বলব, তা প্রায় প্রতিটি ভক্তেরই পরিচিত—
॥ मनोजवं मारुततुल्यवेगं जितेन्द्रियं बुद्धिमतां वरिष्ठम्। वातात्मजं वानरयूथमुख्यं श्रीरामदूतं शरणं प्रपद्ये ॥
বাংলা উচ্চারণঃ
"মনোজবং মারুততুল্যবেগং। জিতেন্দ্রিয়ং বুদ্ধিমতাং বরিষ্ঠম্। বাতাত্মজং বানরযূথমুখ্যং। শ্রীরামদূতং শরণং প্রপদ্যে॥"
এই শ্লোক নিয়মিত পাঠ করলে মন ধীরে ধীরে স্থির হয়, অযথা ভয় কমে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে এবং অহংকারও অনেকটাই প্রশমিত হয়। মানুষের হৃদয় ও বুদ্ধির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, এই প্রার্থনা সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র রয়েছে, যা সীতামাতার স্মরণের সঙ্গে যুক্ত—
॥ त्वमस्मिन् कार्यनिर्वाहे प्रमाणं हरिसत्तम। हनुमन् यत्नमास्थाय दुःखक्षयकरो भव ॥
যাঁদের বহুদিন ধরে কোনও কাজ আটকে রয়েছে, যাঁরা বিরোধিতা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছেন, তাঁরা এই মন্ত্র জপ করে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে পারেন।

এরপর আসে মঙ্গলের জন্য এক সুন্দর প্রার্থনা—
॥ अञ्जनीगर्भसम्भूतं कपीन्द्रसचिवोत्तमम्। रामप्रियं नमस्तुभ्यं हनुमन् रक्ष सर्वदा ॥
অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন, এই মন্ত্র জপ করলে মঙ্গলের অশুভ প্রভাব প্রশমিত হয়, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও অকারণ ভয়ও অনেকটাই কমে আসে।

এরপর যে মন্ত্রটির কথা বলছি, সেটি হল—
॥ ॐ नमो भगवते आञ्जनेयाय महाबलाय स्वाहा ॥
অনেক সাধক এই মন্ত্রে ১০৮ আহুতি দিয়ে হোম করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে গৃহের নেতিবাচক পরিবেশ দূর হয় এবং মনেও এক বিশেষ শান্তির সঞ্চার ঘটে। এমনকি অনেকে বলেন, এই মন্ত্র শুধু জপ নয়, শ্রবণ করলেও মন অনেকটা প্রশান্ত হয় এবং ঘুমও ভালো আসে।

আরও একটি প্রসিদ্ধ মন্ত্র হল—
॥ ॐ नमो हनुमते रुद्रावताराय सर्वशत्रुसंहारणाय सर्वरोगहराय रामदूताय स्वाहा ॥
এই মন্ত্র বহু ভক্ত রোগমুক্তি, সাহস এবং জীবনের প্রতিকূলতার সময় ঈশ্বরের কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে জপ করেন।

এবার আসি মন্ত্রজপের নিয়মে।
আমি সবসময় বলি—অনেকগুলো মন্ত্র একসঙ্গে জপ করার চেয়ে একটি মন্ত্র বেছে নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে জপ করা অনেক বেশি ফলদায়ক।

ভোরে উঠে স্নান করে শুচি হয়ে, সূর্যকে অর্ঘ্য দিয়ে, প্রাণায়াম করার পর পরিষ্কার আসনে পূর্বমুখে অথবা উত্তরমুখে বসুন। প্রথমে হনুমানজীর ধ্যান করুন। তারপর একটি মন্ত্র নির্বাচন করে অন্তত চব্বিশ মিনিট একাগ্রচিত্তে জপ করুন।

রুদ্রাক্ষ, তুলসী অথবা প্রবালের (মূঙ্গা) মালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
জপের সময় সাত্ত্বিক আহার, সংযম এবং পবিত্র জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ সাধনার ক্ষেত্রে ব্রহ্মচর্যের কথাও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

আর একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন—মন্ত্র কখনও উচ্চস্বরে নয়; মৃদুস্বরে বা মানসিকভাবে জপ করাই অধিক প্রশস্ত।

জপের সময় যতটা সম্ভব সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করুন। বিশেষ সাধনার ক্ষেত্রে ব্রহ্মচর্য পালন করার কথাও শাস্ত্রে বলা হয়েছে। আর মন্ত্র কখনও উচ্চস্বরে নয়—মৃদুস্বরে বা মানসিকভাবে জপ করাই অধিক ফলদায়ক।

সবশেষে আমি আবারও সেই কথাটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা আমার কাছে হনুমানজীর উপাসনার মূলমন্ত্র। শুধু মন্ত্র মুখস্থ করলেই হবে না। হনুমানজীর বিনয়কে গ্রহণ করতে হবে। তাঁর নিঃস্বার্থ সেবাভাবকে জীবনে আনতে হবে। তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা, তাঁর নির্ভীকতা, তাঁর আত্মসমর্পণ এবং শ্রীরামের প্রতি অটল ভক্তিকে নিজের চরিত্রের অংশ করে তুলতে হবে।
কারণ মন্ত্র আমাদের ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়, কিন্তু চরিত্রই আমাদের ঈশ্বরের কৃপা গ্রহণের যোগ্য করে তোলে।

এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, যে মানুষ হনুমানজীর গুণগুলোকে নিজের জীবনে ধারণ করতে পারে, তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় বাধাও একদিন ছোট হয়ে যায়।
জয় শ্রী রাম।
জয় বজরংবলী।
জয় হনুমানজী।

পুরো লেখাটি পড়ে ভাল লাগলে লেখাটি অবশ্যই শেয়ার করে ছড়িয়ে দেবেন বন্ধুদের মাঝে আর কমেন্ট সেকশনে লিখবেন "জয় বজরংবলী।"
#হনুমানজী

#HanumanJi
#হনুমানমন্ত্র
#HanumanMantra
#SanatanDharma
#RamNaam
#SpiritualWisdom
#AstrologyIndia

No comments:

Post a Comment