"আপনার কুণ্ডলীতে কি এমন কোনও অস্ত গ্রহ আছে, যা নীরবে আপনার চাকরি, অর্থ, বিবাহ আর ভাগ্যকে আটকে রেখেছে? লেখক আজ জানাচ্ছেন সেই গোপন রহস্য ও তার কার্যকর প্রতিকার!"
________________________
অস্ত গ্রহের রহস্য — গুরু ও শিষ্যের সংলাপ
(প্রথম পর্ব)
- তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
ভোরের নীরবতা তখনও পুরোপুরি ভাঙেনি। আশ্রমের প্রাচীন অশ্বত্থ গাছের নিচে আসন গ্রহণ করে বসে আছেন গুরুদেব। তাঁর মুখে প্রশান্তির আভা। পায়ের কাছে বসে আছে একজন শিষ্য। শিষ্যের মনে উদয় হয়েছে কিছু প্রশ্ন।
শিষ্য: গুরুদেব, বহু মানুষের জীবনেই দেখি অশান্তি লেগেই থাকে। অর্থের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করতে হয়, কর্মজীবনে স্থিতি আসে না, ব্যবসা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, বিয়ে হতে চায় না, একের পর এক রোগ-ব্যাধি পিছু ছাড়ে না। অনেকে বলেন, এর পেছনে কুণ্ডলীর অস্ত গ্রহ দায়ী। সত্যিই কি একটি অস্ত গ্রহ মানুষের জীবনকে এত গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে?
গুরুদেব: অবশ্যই পারে। বড় বড় শুভ গ্রহও যদি অস্ত হয়ে যায়, তাহলে তারা নিজের স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে জীবনের বহু ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ প্রতিকারও আছে, আর সেই প্রতিকার সঠিকভাবে করলে অনেকটাই উপকার পাওয়া সম্ভব।
শিষ্য: গুরুদেব, প্রথমেই জানতে চাই—অস্ত গ্রহ বলতে ঠিক কী বোঝায়? এর অর্থ কী? কেন এর কারণে মানুষের জীবনে এত সমস্যা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়?
গুরুদেব: দেখ, সূর্য, রাহু ও কেতুকে বাদ দিলে প্রায় সব গ্রহই অস্ত হয়। সূর্যের খুব কাছে এলে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট ডিগ্রির মধ্যে প্রবেশ করলে গ্রহ নিজের শক্তি হারায়।
বুধকে নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন মত আছে। অনেক বিদ্বান বলেন, বুধ কেবল তখনই অস্ত হয় যখন সে সূর্যের একেবারে সমান ডিগ্রিতে চলে আসে। কিন্তু বর্তমানে যে জ্যোতিষ সফটওয়্যারগুলি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো সূর্য থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যেই বুধকে অস্ত দেখায়।
তবে বাস্তব ফল বিচার করলে দেখা যায়, বুধ সবসময় সেইভাবে ফল দেয় না। প্রকৃত অর্থে সূর্যের সঙ্গে প্রায় এক জায়গায় চলে এলে তবেই বুধ অস্তের পূর্ণ ফল দেয়।
যেমন অমাবস্যার দিনে চন্দ্র অস্ত থাকে। অমাবস্যা ও শুক্লপক্ষের প্রতিপদে চন্দ্র সূর্যের খুব কাছে অবস্থান করে। সূর্য ও চন্দ্রের ডিগ্রি সমান হয়ে গেলে অমাবস্যা শেষ হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রে এই অবস্থাকে অধম যোগ বলা হয়।
এই যোগে জন্ম নেওয়া মানুষ যতই পরিশ্রমী, মেধাবী, সাহসী বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হোক না কেন, সে শতভাগ পরিশ্রম করলেও ফল সাধারণত পঁচাত্তর শতাংশের বেশি পায় না।
এইভাবেই চন্দ্র অস্ত হয়, মঙ্গল অস্ত হয়, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনি—সব গ্রহই অস্ত হতে পারে। শুধু সূর্য, রাহু ও কেতু এর ব্যতিক্রম।
'লগ্ন চন্দ্রিকা' নামে একটি প্রামাণ্য জ্যোতিষ গ্রন্থে বলা হয়েছে—
“যার কুণ্ডলীতে তিনটি গ্রহ স্বরাশিতে থাকে, সে মন্ত্রীর পদ পায়। তিনটি গ্রহ উচ্চে থাকলে সে রাজসম মর্যাদা লাভ করে। তিনটি গ্রহ নীচস্থ হলে সে অন্যের সেবা করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর তিনটি গ্রহ যদি অস্ত থাকে, তবে সেই ব্যক্তি জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে পড়ে।”
অর্থাৎ তার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে যায়। এর প্রভাব জীবনের সর্বত্র পড়ে।
তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি—যদি সঠিক উপায়ে প্রতিকার করা যায়, তাহলে শতভাগ নয়, কিন্তু নিরানব্বই শতাংশ ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া সম্ভব।
এই প্রতিকার নদীতে কিছু ভাসিয়ে দেওয়া, দান করা বা অন্য কোনও বাহ্যিক আচার নয়। আমার মতে আসল প্রতিকার হল মন্ত্রজপের মাধ্যমে শব্দশক্তিকে জাগ্রত করা।
যদি নিজের শরীরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রহের শক্তিকে জাগিয়ে তোলা যায়, তাহলে অস্ত গ্রহের দুর্বলতাও অনেকটাই দূর হতে পারে।
শিষ্য: গুরুদেব, প্রত্যেক অস্ত গ্রহ কি শুধু অশুভ ফলই দেয়?
গুরুদেব: অস্ত মানে শক্তিহীন। যেমন একজন মানুষ মারা গেলে তার কাছ থেকে আর কোনও কাজের আশা করা যায় না, তেমনি অস্ত গ্রহও নিজের স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে ফেলে।
ধর কারও শুক্র অস্ত হয়েছে। তুমি জানো, শুক্র বিলাসিতা, দাম্পত্য, সৌন্দর্য, যৌনজীবন ও বৈবাহিক সুখের কারক।
তাই শুক্র অস্ত হলে এই ক্ষেত্রগুলিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বিয়েই দেরিতে হয়।
যদি পুরুষের কুণ্ডলীতে শুক্র অত্যন্ত দুর্বলভাবে অস্ত হয়, তবে শুক্রাণুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। নারীর ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন ও প্রজননক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একইভাবে বৃহস্পতি অস্ত হলে শিক্ষা, ধর্মবোধ ও জ্ঞানলাভে বাধা আসে।
মঙ্গল অস্ত হলে মানুষ ভীরু, ভীতু ও হীনমন্য হয়ে পড়ে।
চন্দ্র অস্ত হলে পরিকল্পনা করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। এমন মানুষ একটি সাধারণ জামা কিনতেও বারবার অন্যের মতামত জানতে চায়। কারণ তার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা থাকে না।
শনি অস্ত হলে চাকরি, কর্মজীবন ও সেবার সুখে বাধা আসে। তাই গ্রহের অস্ত হওয়া নিঃসন্দেহে শুভ নয়।
কিন্তু ভয়েরও কিছু নেই।
সঠিক সাধনা ও উপায়ের মাধ্যমে এই গ্রহগুলিকে আবার সক্রিয় করা সম্ভব।
আমি তো বলি, যদি মানুষ নিষ্ঠার সঙ্গে এই উপায়গুলো পালন করে, তাহলে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই তার কুণ্ডলীর অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
আগামী পর্বে আলোচনা করা হবে সেই উপায়। পরের লেখাটি যাঁরা পেতে আগ্রহী এখানে কমেন্ট সেকশনে জানাবেন কেমন লাগল।
(ক্রমশ)
#অস্ত_গ্রহ
#গুরুদেবের_উপদেশ
#জ্যোতিষশাস্ত্র
#কুণ্ডলী_বিশ্লেষণ
#SpiritualWisdom
#AstrologyTips
#VedicAstrology
#BanglaSpiritual
Anek na jana jinis jante parchi...dhannobad...parer parber janno wait kore aachi
ReplyDeleteঅনবদ্য। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
ReplyDeleteKhub valo laglo
ReplyDeleteভালো ।
ReplyDeleteপরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষা করছি।
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম দাদা
ReplyDeleteবেশ ভালো লাগলো। পরবর্তী অংশের অপেক্ষায় রইলাম।
ReplyDeleteপরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
ReplyDeleteপরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম দাদা। 🙏
ReplyDelete