সাধুসঙ্গ
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
সন্ধ্যা তখন ধীরে ধীরে মন্দাকিনীর স্বচ্ছ জলে নেমে এসেছে। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা শীতল বাতাস নদীর বুক ছুঁয়ে ন্ন্যাসীর সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। নদীর কলকল ধ্বনির সঙ্গে মিলেমিশে দূরে কোথাও ভেসে আসছে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি। বিশাল এক শিলাখণ্ডের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন এক বৃদ্ধ সাধু। তাঁর চোখে গভীর প্রশান্তি, মুখে এক অদ্ভুত করুণা।
হঠাৎ এক মধ্যবয়স্কা মহিলা কাঁদতে কাঁদতে এসে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।
“বাবা,” কাঁপা গলায় তিনি বললেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে বড় কষ্টে আছি। সে ভুল পথে চলে গেছে। কোনো কথা শোনে না। সংসারে শান্তি নেই। আপনি পথ দেখান।”
“বাবা,” কাঁপা গলায় তিনি বললেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে বড় কষ্টে আছি। সে ভুল পথে চলে গেছে। কোনো কথা শোনে না। সংসারে শান্তি নেই। আপনি পথ দেখান।”
সাধু কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। যেন নদীর প্রবাহের ভেতরেই তিনি উত্তর খুঁজছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
"প্রথমেই বলব মায়ের কাছে প্রার্থনা করুন যেন আপনার ছেলে সৎবুদ্ধি লাভ করে। মায়ের সৎ প্রার্থনা সবসময়ই সন্তানের মঙ্গল করে। সেইসাথে একটা উপায় বলছি। আপনি যদি এই উপায় শুরু করেন, তাহলে আমার পূর্ণ বিশ্বাস—প্রায় ১২৫ দিনের মধ্যে এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করবে এবং ছয় মাসের মধ্যে আপনার ছেলে সম্পূর্ণ সঠিক পথে ফিরে আসবে।
"প্রথমেই বলব মায়ের কাছে প্রার্থনা করুন যেন আপনার ছেলে সৎবুদ্ধি লাভ করে। মায়ের সৎ প্রার্থনা সবসময়ই সন্তানের মঙ্গল করে। সেইসাথে একটা উপায় বলছি। আপনি যদি এই উপায় শুরু করেন, তাহলে আমার পূর্ণ বিশ্বাস—প্রায় ১২৫ দিনের মধ্যে এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করবে এবং ছয় মাসের মধ্যে আপনার ছেলে সম্পূর্ণ সঠিক পথে ফিরে আসবে।
দেখুন, আমাদের সন্তান যদি বিপথে যায়, অকর্মণ্য হয়ে পড়ে বা কর্তব্যের পথ থেকে সরে যায়, তাহলে তার জন্য শুধু সন্তানের সংস্কারই দায়ী নয়। এর সঙ্গে তার বাবা মায়ের নিজের কর্মসংস্কারও জড়িত থাকে।
পূর্বজন্মে বাবা মা যেমন পুণ্য ও পাপ করেছে, সেই অনুযায়ী সুখ বা দুঃখ দেওয়ার জন্যই সন্তান জন্মগ্রহণ করে। কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই আপনার পুণ্য দুর্বল হয়েছে। তাই এরকম অবস্থা হয়েছে। আরেকটা জিনিস জানবেন -- কিছু সন্তান আসে সুখ দেওয়ার জন্য, আবার কিছু আসে দুঃখ দেওয়ার জন্য।
মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "বাবা, কেন এমন হয়?"
সন্ন্যাসী বললেন, "যদি পূর্বজন্মের তপস্যা ভাল থাকে, তবে সন্তান সুখের কারণ হয়।
আর যদি তপস্যা কোন কারণে কলুষিত হয়, তবে সে দুঃখের কারণ হয়ে আসে।
আমি একটা ঘটনার কথা বলছি।
আর যদি তপস্যা কোন কারণে কলুষিত হয়, তবে সে দুঃখের কারণ হয়ে আসে।
আমি একটা ঘটনার কথা বলছি।
একবার দুজন যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে মুম্বই গিয়েছিল। দুজনে মিলে সেখানে ছোটখাটো কাজ শুরু করল। দুজনেই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমান ছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা একটি রেস্তোরাঁ খুলল। তারপর একটি কারখানাও গড়ে তুলল।
কিন্তু তখনই একজনের মনে লোভ জন্মাল। সে নিজের সঙ্গীকেই হত্যা করল। তারপর মৃতদেহ কোন এক গোপন জায়গায় সমাধিস্থ করে দিল। কেউ আর তার খোঁজ পেল না।
এরপর সে নিজের ব্যবসার আর বিস্তার ঘটাল। অনেক জমি কিনল, বাড়ি বানাল, মুম্বইতেও তার বিরাট নামডাক হল।
তার উন্নতি দেখে সমাজের এক সম্মানিত ব্যক্তি নিজের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিলেন। কিছুদিন পরে তাদের একটি অত্যন্ত সুন্দর পুত্রসন্তান জন্মাল। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, ছেলেটির বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর, তখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ল।
সে তার সন্তানকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসত। তাই সে ছেলের ভাল চিকিৎসা শুরু করল। দুই বছর ধরে ছেলের চিকিৎসা করাতে করাতে তার জমি বিক্রি হয়ে গেল। বাড়ি বিক্রি হয়ে গেল। মুম্বইয়ের রেস্তোরাঁ আর কারখানাও বিক্রি হয়ে গেল। এমনকি সবার র এক কোটি টাকারও বেশি ঋণ হয়ে গেল। কিন্তু তাও ছেলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে প্রায় ঢলে পড়ল।
ছেলের মৃত্যুশয্যায় বসে তখন বাবা ছেলেকে কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল,
“বাবা, আজ তোর চিকিৎসার জন্যও আমার কাছে টাকা নেই। সব টাকা আমার শেষ হয়ে গেছে। তোকে বাঁচানোর জন্যে আমার আর কিছুই করার নেই রে বাবা।”
তখন সাত বছরের সেই ছেলে ক্লান্ত চোখে শুধু একটি কথাই বলল, “অথচ বন্ধু, এই টাকার জন্যই তো তুমি একদিন আমার প্রাণ নিয়েছিলে। আজ আমিও রইলাম না। টাকাও রইল না।” এইটুকু বলেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। অর্থাৎ, যাকে সে হত্যা করেছিল, সেই বন্ধুই এই জন্মে তার ছেলে হয়ে ফিরে এসেছিল প্রতিশোধ নিতে।
তাই আমি বলি—যাদের সন্তান নিয়ে সমস্যা আছে, তারা যেন ভগবান শ্রীরামের শরণ নেন এবং প্রতিদিন সংকল্প করেন যে ১০৮ ‘সীতারাম’ নাম জপ না ক
রে আহার করবেন না। একমাত্র তাহলে তাদের জীবনে ভাল কোন পরিবর্তন আসতে পারে।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যদি নিয়ম করে জপ করেন, তবে পূর্বজন্মের বহু কর্মফল ক্ষয় হতে শুরু করবে। যখন শুভ প্রারব্ধের উদয় হবে, তখন সন্তানের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেবে। তাই আপনিও প্রতিদিন ভোরে উঠে নিয়ম করে ‘সীতারাম’ নাম জপ করুন। কর গুণে বা মালা দিয়েও জপ করতে পারেন।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যদি নিয়ম করে জপ করেন, তবে পূর্বজন্মের বহু কর্মফল ক্ষয় হতে শুরু করবে। যখন শুভ প্রারব্ধের উদয় হবে, তখন সন্তানের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেবে। তাই আপনিও প্রতিদিন ভোরে উঠে নিয়ম করে ‘সীতারাম’ নাম জপ করুন। কর গুণে বা মালা দিয়েও জপ করতে পারেন।
তবে অবশ্যই এই অনুশীলন শুরু করুন। প্রায় একশো দিনের মধ্যে পরিবর্তন অনুভব করবেন।
আর ষোলো মাস পরে আপনার জীবনই বদলে যেতে পারে।"
ভদ্রমহিলা সন্ন্যাসীর কথা শুনে অনেকটাই আশ্বস্ত হলেন। সন্ন্যাসীকে প্রণাম করে ধরলেন ফেরার পথ।
ক্রমশ
#Sitaram
#SpiritualStory
#Mandakini
#SanatanDharma
#GuruVani
#BhaktiKatha
আধ্যাত্মিক এই সাধুসঙ্গ লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল।
ReplyDeleteমানুষ তার কৃত কর্মের ফলই ভোগ করে। পাপ যদি বেশি হয় তবে পরের জন্মেও ভোগ হয়।
জয় সীতারাম। জয় রাধে শ্যাম।