"অস্ত মঙ্গল কি আপনার জীবনকে নীরবে ধ্বংস করছে? রাগ, দুর্ঘটনা, নেশা, মামলা আর ব্যর্থতার আসল কারণ কী—শিষ্যের জিজ্ঞাসায় গুরুদেবের এই ব্যাখ্যা শেষ পর্যন্ত পড়ুন।"
তৃতীয় ভাগ - অস্ত মঙ্গল ও তার প্রতিকার
- তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
শিষ্য: এবার আসা যাক মঙ্গল গ্রহের কথায়। জন্মকুণ্ডলীতে গুরুদেব, অস্ত মঙ্গল বলতে ঠিক কী বোঝায়?
গুরুদেব: প্রথমেই এটা জেনে রাখ, মঙ্গল ক্রোধ ও পরাক্রমের কারক গ্রহ। যে ব্যক্তি সাহসী, শৌর্যবান, যোদ্ধার মতো মানসিকতার অধিকারী, তার মঙ্গল সাধারণত শক্তিশালী হয়।
আর যে ব্যক্তি ভীরু, দুর্বলচিত্ত বা কাপুরুষ, তার মঙ্গল দুর্বল বলে ধরা হয়।
তবে মঙ্গল যদি অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে যায়, তখন মানুষ অতিরিক্ত দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। সে আইনকানুনের তোয়াক্কা করে না, নিজের জীবনেরও মূল্য দেয় না; মাথায় যা আসে তাই করে ফেলে।
এর একটি লক্ষণ হাতের বুড়ো আঙুলেও দেখা যায় বলে বলা হয়।বুড়ো আঙুলে তিনটি অংশ থাকে—নিচের অংশ কামশক্তির, মাঝের অংশ ইচ্ছাশক্তির, আর উপরের অংশ তর্কশক্তির প্রতীক। যদি মাঝের অংশ বেশি বড় হয় আর উপরের অংশ ছোট হয়, তবে এমন ব্যক্তির মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ও হিংস্রতা দেখা দিতে পারে।
যার বুড়ো আঙুলের উপরের অংশ ছোট, গোলাকার এবং পেছনের দিকে সামান্যও বাঁকানো নয়, তাকে কঠোর ও হিংস্র প্রকৃতির বলা হয়।
এই লক্ষণগুলোকে মঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়।
তাই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সময় তার স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত।
কুণ্ডলীতে অস্ত মঙ্গল থাকলে, বিশেষ করে তার অন্তর্দশায়, মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত রাগ, স্নায়বিক ব্যথা, রক্তদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ ও সুগারের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হয়।
অস্ত মঙ্গলের উপর রাহু বা কেতুর প্রভাব থাকলে দুর্ঘটনা, মামলা-মোকদ্দমা বা দীর্ঘস্থায়ী রোগের আশঙ্কা বাড়ে।
মঙ্গল যদি ষষ্ঠ ভাবের অশুভ প্রভাবে থাকে, তবে ব্যক্তি অসুস্থ, রক্তসংক্রান্ত জটিলতা বা আঘাতের শিকার হতে পারে। মঙ্গল তার মৃত্যুভাবের অধিপতি হয়ে অশুভ প্রভাবে থাকলে মানুষ দুর্নীতি বা প্রতারণামূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে।
দ্বাদশ ভাবের সঙ্গে অশুভ যোগ থাকলে নেশার দিকে ঝোঁক বাড়তে পারে।
দ্বিতীয় ভাবের উপর অশুভ দৃষ্টি থাকলে অল্প বয়স থেকেই ধূমপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে।
শিষ্য : এর কি কোন প্রতিকার আছে?
গুরুদেব: অবশ্যই আছে। এবার প্রতিকারের কথা বলা যাক।
যদি মঙ্গল তোমার কুণ্ডলীতে লগ্ন, পঞ্চম, নবম বা চতুর্থ-নবম ভাবের অধিপতি হয়, তবে সোনা বসানো দেশি প্রবাল (মুঙ্গা) ডান হাতের অনামিকায় মঙ্গলবার শুক্লপক্ষে ধারণ করা যেতে পারে।
কিন্তু মঙ্গল যদি এই শুভ ভাবগুলির অধিপতি না হয়, তবে প্রবাল ধারণ করা উচিত নয়।
যতটা সম্ভব হনুমান চালিশা, বজরং বান, হনুমানাষ্টক ও সুন্দরকাণ্ড পাঠ করতে বলা হয়। ‘ওঁ হং হনুমতায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করাও শুভ বলে মনে করা হয়।
মঙ্গলবার হনুমানজীর পূজা, মিষ্টি নিবেদন, কলা, ডালিম বা কেশরের লাড্ডু অর্পণ করার কথাও বলা হয়।
ভাই, শালা, জামাইবাবুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখাও দরকার।
বানরকে গুড় ও ভাজা ছোলা খাওয়ানো, রক্তদান করা এবং রোগীদের ওষুধ দান করাও শুভকর্ম হিসেবে ধরা হয়।
এদের প্রতিদিন বাড়িতে রামায়ণ পাঠ করা শুভ হয়।
মঙ্গলবার মাটি কেনা বা গোবর দিয়ে লেপন না করার কথাও বলা হয়।
আরও একটি ধ্যানপদ্ধতির কথা বলা হয়েছে—চোখ বন্ধ করে নাভির উপর বা প্রয়োজনে মুলাধারের অঞ্চলে লাল বর্ণের গোলাকার এক গ্রহ কল্পনা করে ‘ওঁ অং অঙ্গারকায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করা ভাল।এই ধ্যান সকাল-সন্ধ্যা ২৪ মিনিট করে করলে হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ভীরুতা ও মানসিক দুর্বলতা কমতে পারে—এমন বলা হয়।
শিষ্য: গুরুদেব, তাহলে কি মঙ্গলকে খুব ভীতিকারক নয়?
গুরু: না। কোন গ্রহকে ভয় নয়, বুঝতে শেখ। সৎকর্ম, সংযম, সাহস ও ঈশ্বরস্মরণ—এই চারটিই মানুষের প্রকৃত রক্ষাকবচ। এই কয়টির সাথে গ্রহের প্রতিকার ঠিকমত করলে কোন গ্রহকেই ভয়ের কারণ নেই।
(ক্রমশ)
#CombustMars
#MarsInAstrology
#VedicAstrology
#AstrologyTips
#Kundli
#HanumanBlessings
#SpiritualWisdom
No comments:
Post a Comment