Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Monday, 13 July 2026

অস্ত বৃহস্পতি কি ফল দেয়? আর কি তার প্রতিকার ? Effects of combust jupiter

 পঞ্চম ভাগ: অস্ত বৃহস্পতি কি ফল দেয়? আর কি তার প্রতিকার ?
  তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

________________________


শিষ্য: গুরুদেব, এবার  নবগ্রহের মধ্যে সর্বাধিক শুভ, কল্যাণদায়ক ও সুখপ্রদ গ্রহ—বৃহস্পতি (গুরু) সম্পর্কে জানতে চাইব। যদি জন্মকুণ্ডলীতে বৃহস্পতি অস্ত হয়ে যায়, তাহলে মানুষের জীবনে কী কী দুঃখ, বাধা ও রোগ আসতে পারে, তা একটু বলুন। গুরুদেব, বৃহস্পতিকে কেন  শুভ গ্রহ বলা হয়?


গুরু: জ্যোতিষশাস্ত্রে বৃহস্পতিকে ‘জীব’ বলা হয়। কারণ তিনিই জীবন, প্রাণশক্তি, জ্ঞান, ধর্ম ও সুখের প্রধান কারক। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—“যস্য কেন্দ্রে বৃহস্পতি, কিম্ কুর্বন্তি অন্যে গ্রহাঃ।” অর্থাৎ যার কুণ্ডলীর কেন্দ্রস্থানে শক্তিশালী বৃহস্পতি অবস্থান করেন, তার অন্য অশুভ গ্রহরাও খুব বেশি ক্ষতি করতে পারে না। এতটাই কল্যাণময় এই গ্রহ।

শিষ্য: গুরুদেব, যদি সেই বৃহস্পতিই অস্ত হয়ে যায়?

গুরু: তখন সমস্যার শুরু হয়। সূর্যের অতিরিক্ত নিকটে এসে যদি বৃহস্পতি অস্ত হয়ে যায় এবং তার দশা বা অন্তর্দশা চলতে থাকে, তবে মানুষ লিভারের গুরুতর রোগ, লিভার সিরোসিস, পেটে জল জমে যাওয়ার মতো কঠিন অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। এমন রোগ অনেক সময় মানুষকে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পর্যন্ত নিয়ে যায়।

শিষ্য: ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেও কি এর প্রভাব পড়ে?

গুরু: অবশ্যই। কোনো ছাত্রের কুণ্ডলীতে যদি বৃহস্পতি অস্ত থাকে, তবে তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। শিক্ষা, ধর্ম, পূজা-পাঠ, সৎকর্ম—সবই তার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। স্বার্থপরতা বাড়ে, উচ্চ আদর্শের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।

শিষ্য: গুরুদেব, আর কী কী সমস্যা দেখা দেয়?

গুরু: অস্ত বৃহস্পতি ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে, সাইনাসের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। অস্বাভাবিক স্থূলতা দেখা দেয়—মানুষ শুধু মোটা হয় না, প্রায় হাতির মতো ভারী হয়ে পড়ে। আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। সমাজে সম্মান কমে যায়, নিজের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। অনেক সময় পরিবারের কোনো প্রবীণ সদস্যের মৃত্যুও ঘটতে পারে। এমনকি বিয়ের পরেও অনৈতিক সম্পর্কের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

শিষ্য: গুরুদেব, এই অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির উপায় কী?
গুরু: আমার মতে, সর্বোত্তম উপায় হল ভগবান শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের উপাসনায় সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করা। যদি নিষ্ঠার সঙ্গে “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” এই মহামন্ত্রের ১২ লক্ষ জপ সম্পূর্ণ করতে পারো, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি—জীবন, সুখ কিংবা ধর্ম নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না।

শিষ্য: গুরুদেব, বারো লক্ষ জপ তো অনেক কঠিন!

গুরু: তাহলে আরেকটি সহজ পথ বলছি। প্রতিদিন “ওঁ ব্রীং বৃহস্পতয়ে নমঃ” এই মন্ত্র ১০,০০০ বার জপ করতে শুরু করো। চার মাসের মধ্যেই ১২ লক্ষ জপ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টারও কম সময় লাগবে। আমি এমন কোন উপায় বলছি না, যার জন্য তোমাকে হিমালয়ে গিয়ে সঞ্জীবনী আনতে হবে। আমি এমন সাধনার কথাই বলছি, যা তুমি ঘরে বসেই করতে পারবে, আর যা সত্যিই তোমার জীবন বদলে দিতে পারে। 

শিষ্য: গুরুদেব, আর কী কী প্রতিকার করা উচিত?

গুরু: প্রতি বৃহস্পতিবার ছোলার ডাল ও কলা লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে নিবেদন করবে। বিষ্ণু চালিসা, নারায়ণ কবচ এবং বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করতে পারো। নিজের কাছে একটি হলুদ রঙের রুমাল রাখবে। কপাল, নাভি ও জিহ্বায় কেশরের তিলক পরবে। প্রতিদিন কোন না কোন ধর্মস্থানে যাবে। অশ্বত্থ  গাছের নীচে প্রদীপ জ্বালাবে। বৃহস্পতিবার চুল বা কাপড় ধোবে না। ধর্মীয় স্থানে ভ্রমণ করবে। কখনও মিথ্যা বলবে না এবং মাংসাহার সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করবে।

শিষ্য: গুরুদেব, বৃহস্পতিকে আরও শক্তিশালী করার বিশেষ উপায় কি আছে?

গুরু: আছে। পাঁচমুখী রুদ্রাক্ষের সম্পূর্ণ একটি মালা ধারণ করতে পারো। যদি সেটি সোনায় মুড়ে ধারণ করা যায়, তবে তার শুভফল আরও বৃদ্ধি পায়। তবে যদি সত্যিই বৃহস্পতির অলৌকিক কৃপা পেতে চাও, তাহলে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ২৪ মিনিট চোখ বন্ধ করে বাম চোখের উপরে হলুদ বর্ণের জ্যোতির্ময় বৃহস্পতিকে ধ্যান করবে এবং “ওঁ ব্রং বৃহস্পতয়ে নমঃ” মন্ত্র জপ করবে। এই সাধনা ছয় মাস নিষ্ঠার সঙ্গে করলে নিজের জীবনেই তার বিস্ময়কর পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করবে।

শিষ্য: প্রণাম গুরুদেব। আজ আমি বুঝতে পারলাম, বৃহস্পতি শুধু ধন বা জ্ঞানের গ্রহ নন, তিনিই জীবন, ধর্ম, সুখ ও ঈশ্বরীয় কৃপা লাভের অন্যতম প্রধান আশ্রয়।

গুরু: আশীর্বাদ রইল। চেষ্টা করে যাও।


(ক্রমশ)


#Jupiter #jupitercombust 
#astrology  #astrologer  #astrologyposts  #জ্যোতিষ


1 comment:

  1. লেখাটা খুব সুন্দর হয়েছে দাদা। কত কিছু রোজ জানতে পারি তোমার এই লেখাগুলোর জন্যে।

    ReplyDelete