Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Tuesday, 8 October 2013

একটি ঘোষণা ​

                 একটি ঘোষণা ​

বন্ধুগণ, বাংলা রেডিও-র ৯১.৫ এফ.এম.চ্যানেলে  আগামী ১১ অক্টোবর সপ্তমীতে,১২ অক্টোবর অষ্টমীতে এবং ১৪ অক্টোবর দশমীতে ভোরবেলায় ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বিশিষ্ট ভক্ত সঙ্গীতশিল্পী ​তৃষা বোস গুপ্ত মহাশয়ার  বিখ্যাত অনুষ্ঠান "ভাবসাগরের তীরে"-তে পূজার আলাপচারিতায় বিখ্যাত শিল্পী শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ও কাবেরী গুহর সাথে থাকছি আমি -আপনাদের প্রিয় তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। আলোচনা হবে পূজার বিষয়ে -আমার আধ্যাত্মিক পথে আসা,তন্ত্র,কুলকুন্দলিনী,দুর্গাপূজার থেমে প্রভৃতি অনেক বিষয়ে। কথা হবে সবার 
 সাথে পূজার বিভিন্ন দিক নিয়ে।সাথে থাকছে অনবদ্য ভক্তিসঙ্গীতের 
 ডালি। দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সবাইকে জানায় আমার শারদীয়া শুভেচ্ছা।

Friday, 4 October 2013

মহাভারত রূপকের আলোয়

                                 মহাভারত রূপকের আলোয় 


   মহাভারত মহাগ্রন্থ আমাদের কাছে দ্বাপর যুগের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু মহাভারত লেখা হয়েছে একইসাথে সাধকদের জন্যে এবং সমাজের জন্যে।আমরা মহাভারতকে যদি বিশ্লেষণ করি তবে জানতে পারব - এর ভিতর দিয়ে কিভাবে সাধনার সংকেত দেয়া রয়েছে। এখানে দ্রৌপদী বা কৃষ্ণা হলেন দেহের রূপক।পঞ্চপান্ডব হলেন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের প্রতীক।দেহের সাথে পাঁচ ইন্দ্রিয়র বিবাহ দিয়ে শুরু জীবনের যাত্রাপথ।যখনই জীবাত্মা জীবশরীর ধারণ করে তখনই পঞ্চ ইন্দ্রিয় জেগে ওঠে তার মধ্যে।দ্রৌপদীর সাথে পাঁচ পান্ডবের বিয়ে সেই তত্বটি তুলে ধরেছে।এবার আসা যাক পান্ডবদের জন্ম প্রসঙ্গে। কোন পান্ডব কিন্তু সাধারনভাবে জন্মায়নি। তারা কুন্তি বা পৃথার পুত্র। এই পৃথা হলো পৃথিবীর প্রতীক। এবং প্রত্যেকেরই জন্মদাতা কোন না কোনো দেবতা।তার মানেটা কি দাঁড়ায় ? পাঁচ ইন্দ্রিয় তথা পঞ্চপ্রাণ জন্ম নেয় পৃথিবী ও দেবতার মিলনের ফলে। অর্থাত মাটি থেকে পাওয়া দেহ এবং তার ভিতরে পরমাত্মা থেকে জন্ম নেয়া জীবাত্মা যখন একত্র হয় তখনই পঞ্চপ্রাণ তথা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের জন্ম।   
    এরপর আসি কৌরবদের কথায়। পান্ডবদের সাথে কৌরবদের সবসময়ে বিরোধ।এই কৌরবদের সংখ্যা ১০০ ।  ১০০ কৌরব হচ্ছে মনের প্রবণতা যা শতধা বিভক্ত।মহাভারতে আছে - যুধিষ্ঠির ছিলেন পাশা খেলায় দক্ষ। তিনি ভাবতেন - তিনি পাশা খেলে কৌরবদের পরাস্ত করতে পারবেন। ঠিক যেমনভাবে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি  মনের নানারকম প্রবণতার সাথে জুয়া খেলে জিততে চায়। কিন্তু সেই জুয়া তাকে পতনের দিকেই নিয়ে যায়। ঠিক যেমন পান্ডবরা এই জুয়ার ফলেই জীবনের সবকিছু সুখ হারিয়ে বাধ্য হয়েছে বনবাসে যেতে। 
   
    এবার আসা যাক ধৃতরাষ্ট্রের প্রসঙ্গে।ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ তার সন্তানদের স্নেহে। ধৃতরাষ্ট্র হল আমাদের মনের প্রতীক। মনের সন্তান হল সকল প্রবণতা। অর্থাত আমাদের মন সবসময়ে নিজ প্রবণতার প্রতি অপত্যস্নেহে ডুবে থাকে। গান্ধারী হল অন্ধভাবে মনকে অনুসরণ করার প্রতীক। আমরা অনেকসময়েই জানি - কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা তবু আমরা চোখ বন্ধ করে রাখি এবং অন্যায়কে মেনে নেই। আমাদের সেই ভাবের প্রতীক হল গান্ধারী। আর মন যখন নিজের প্রবনতার প্রতি অন্ধ থাকে এবং নিজের বোধ বুদ্ধি থাকলেও নিজের দৃষ্টিকে আবৃত রাখে তখনই মনের এই আপোষমূলক মনোভাবের প্রতীকের ভাই  সর্বনাশের আবির্ভাব হয়। ঠিক যেমন মহাভারতে এভাবেই গান্ধারীর ভাই শকুনীর প্রবেশ ঘটেছিল।এই শকুনী হল মনের ভিতরের সেই কুটিল ভাবের প্রতীক যা আমাদের মনে আসে যখন মন বিবেচনা শক্তি হারিয়ে সবকিছুর সাথে আপোষ করতে চায়। আর এই কুটিল ভাব মানুষের মনের সকল শান্তি নষ্ট করে তাকে নিয়ে যায় সর্বনাশের পথে।

 কৌরব আর পান্ডবদের মাঝে রয়েছেন কর্ণ। মহাভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই কর্ণ হলেন ইগো বা অহমিকার প্রতীক। তার রয়েছে কবচ কুণ্ডল যার ফলে তিনি অবধ্য।আমাদের এই ইগোও অবোধ্য। তাকে বধ করতে না পারলে জীবনের যুদ্ধে জয় অসম্ভব। তাকে বধ করতে হলে এই কবচ কুণ্ডল কেড়ে নিতে হয়। একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই পারেন সেই কবচ কুণ্ডল কেড়ে নিতে।অর্থাত আত্মা যখন বিবেককে গুরু করে এই অহমিকার কবচ কুণ্ডল কেড়ে নেয় তখনি ইগোকে বোধ করা সম্ভব। যেমন মহাভারতে পান্ডবদের জয়ের শেষ বড় কাঁটা ছিলেন কর্ণ তেমনি জীবের মুক্তির সবচেয়ে বড় কাঁটা এই ইগো। এর বধ একান্ত প্রয়োজন। 
   
   পান্ডবদের বনবাসের শেষে এল কুরুক্ষেত্র। কুরুক্ষেত্র কি? যে জগতে আমরা রয়েছি সেই হল কুরুক্ষেত্র।এই কুরুক্ষেত্র হল সেই জগত যেখানে নিয়ত চলছে ইন্দ্রিয় এবং মনের শতধা বিভক্ত প্রবণতার মধ্যে যুদ্ধ।  এখানে সমানে ভালো এবং মন্দের লড়াই চলে। এখানে পান্ডবপক্ষের পরামর্শদাতা শ্রীকৃষ্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন অর্জুনকে বিপক্ষের ভালো মন্দ সবাইকে বধ করতে। কৌরবপক্ষে ভালো মন্দ দুই ছিল। কিন্তু তাও কৃষ্ণ তাদের সবাইকেই বধ করতে বলেছেন। কারণ - সকল প্রকার প্রবণতাই বধ করতে হয় মনকে নির্বিকল্প সমাধীর স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।তাই যেসব অসত প্রবণতা বা শুভ প্রবণতা মনে জাগে সবেরই বধ আশু প্রয়োজন। যথার্থ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে গেলে ভালো মন্দ দুইকেই পেরিয়ে যেতে হবে। গীতায় শ্রী কৃষ্ণ বলছেন - এখানে শত্রু মিত্র কারোরই কোন অস্তিত্ব নেই। তুমি এদের কি বধ করবে?আগে থেকেই এরা বধ হয়ে আছে। তুমি নিমিত্ত হও।খানে প্রবণতাগুলির কোন অস্তিত্ব নেই। আমরা এদের যেভাবে জন্ম দিই এরা সেভাবেই বড় হয়। এরা মূলত মৃত। সব প্রবণতা অস্তিত্বহীন।এদের আমরা বাঁচিয়ে রাখি আমাদের কর্মের দ্বারা। মুক্তি পেতে গেলে এই সব প্রবণতা বধ করতে হবে। 

  লেখাটি ক্রমশ বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই শ্রীকৃষ্ণের প্রসঙ্গ টেনেই আজকের মত ব্লগ শেষ করছি। শ্রী কৃষ্ণ হলেন জীবাত্মার প্রতীক যিনি পরমাত্মার অংশ । তাঁর গায়ের রং ঘন নীল যা অনন্তের প্রতীক যেমন নীল আকাশ বা নীল সমুদ্র। তাঁর জ্ঞান হল অনন্ত।তাঁর লীলাও অসীম। তিনি পীতাম্বর।হলুদ বস্ত্র পরেন। এই হলুদ হল পৃথিবীর প্রতীক। অর্থাত অসীম অনন্ত পরমাত্মার প্রতীক পার্থিব দেহ ধারণ করে এসেছেন। অর্থাত বাইরে পার্থিব দেহ,ভিতরে অনন্ত আত্মা। শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতের যুদ্ধে ছিলেন দ্রষ্টা। জীবাত্মাও দ্রষ্টা। কিন্তু বিবেকের রূপে তিনি তার বাণী শুনিয়ে দেন পঞ্চপ্রাণ তথা পঞ্চইন্দ্রিয়কে। সেই কথা শুনে তারা যদি তাঁর কথা মেনে নেয় তবেই জয়যুক্ত হয় জীবনের কুরুক্ষেত্রে। পান্ডবদের জয় সেই রূপক বহন করছে।  

Monday, 23 September 2013

সাত্ত্বিক ব্যক্তি ও তার বৈশিষ্ট্য

        সাত্ত্বিক ব্যক্তি ও তার বৈশিষ্ট্য 

    ইতিপূর্বে বলেছি রাজসিক ও তামসিক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে। এবার লিখছি  সাত্ত্বিক মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।
   সাত্ত্বিক মানুষদের মধ্যে কোনো কাজের প্রতি আসক্তি বা কর্ম করার জন্যে অহংকার থাকে না। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে  তাঁদের সব কাজ ঈশ্বরের মাধ্যমেই সংগঠিত হয় আর তাই সে কাজের কর্তৃত্ব নেয়াও অন্যায়। এমনকি তাঁরা ত্যাগ করতে অভ্যস্ত হলেও,অহংকার এড়িয়ে চললেও এবং কামনারহিত হলেও কখনো ভাবেন না যে তারা ত্যাগী,নিরহংকারী বা নিষ্কাম ব্যক্তি।
    সাত্ত্বিক মানুষ কখনো মনে করেন না যে তিনি শ্রেষ্ঠ বা তাঁর মত কাজ কেউ করতে পারেন না। তিনি যা বলেন অন্তর থেকে ,যা করেন বিবেকের প্রেরণায়। তাঁর মধ্যে কোন মন আর মুখের প্রভেদ থাকেনা। তাঁর মধ্যে থাকে অসীম ধৈর্য। মানুষের জীবনে নানারকম বাধা বিঘ্ন আসে -সাত্ত্বিক মানুষ কিন্তু সকল বাধাবিঘ্ন সত্বেও শান্তভাবে ধৈর্য অবলম্বন করে থাকতে পারেন। সাফল্যে ভেসে যান না আবার দুঃখেও ভেঙ্গে পরেন না। জীবনের সবকিছুতে সমদৃষ্টি থাকায় আধ্যাত্মিক মানুষের বৈশিষ্ট্য।
   সাত্ত্বিক মানুষরা সবসময়ে সত্য কথা বলেন,মানুষের ভালোর জন্যে ভাবেন এবং নিজেদের সঁপে দেন সবার ভালোর জন্যে।
   আধ্যাত্মিক পথে এগোতে হলে এই সাত্ত্বিক গুন অবলম্বন একান্ত প্রয়োজন। 

Sunday, 22 September 2013

তামসিক মানুষ ও তার বৈশিষ্ট্য

                 তামসিক মানুষ ও তার বৈশিষ্ট্য

গতকাল লিখেছিলাম রাজসিক মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে। আজকে লিখছি তমগুণসম্পন্ন মানুষদের সম্বন্ধে। 
তামসিক মানুষের থাকে আটটি বৈশিষ্ট্য। 
১)এদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হল নির্বুধ্ধিতা। এরা বুঝতে পারে না কি কাজ করা উচিত এবং কি কাজ করলে নিজেদের ক্ষতি হতে পারে। ফলে এরা কর্তব্য বা অকর্তব্যের মধ্যে ফারাক বুঝতে পারে না। 
২) এদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল অভদ্রতা। তারা শাস্ত্রপথ ও সত্সঙ্গ না করে তাদের ব্যবহার শিক্ষারহিত হয়ে থাকে। কাদের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে এরা বোঝেনা। 
৩) এদের মধ্যে থাকে অনম্রতা। এদের শরীর,মন ও বাক্য হয় উদ্ধত। 
৪) এরা জেদী হয়। অন্যের সুচিন্তিত মতামত কখনো গ্রহণ করে না। আর নিজের সিদ্ধান্তকেই  সঠিক বলে মনে করে। শত প্রমাণ দিয়েও তাদের কিছু বোঝানো যায় না। 
৫) এরা অন্যের থেকে উপকার পেলেও কখনো তার উপকার করতে চায়না। বরং অপরের ক্ষতির জন্যে নিবেদিত প্রাণ থাকে। 
৬) এরা অলস হয়। নিজের কর্ম করার পরিবর্তে শুয়ে শুয়ে অনর্থক চিন্তা করতেই ভালবাসে। 
৭) তাদের মধ্যে একটা বিষাদবোধ কাজ করে। যেহেতু তারা কোন ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকেনা তাই তাদের মধ্যে একটা অবসন্নতা বোধ ও বিষাদবোধ কাজ করে। আর সেই বিষাদবোধ হয় অহেতুক। নেই কাজ তো খই ভাজ ধাচের। 
৮) এদের মধ্যে একটা দীর্ঘসুত্রিতা কাজ করে। যে কাজ স্বল্পসময়ে শেষ করা যায় তারা সেটিকে ঝুলিয়ে রেখে দায়। কোন কাজ সুচারুভাবে শেষ করতে চায় না। এমনকি সহজ কাজও সহজে শেষ করতে চায় না। 
  যারা সত্বগুন্সম্পন্ন হতে চান তাদের এই তামসিক বৈশিষ্ট্যগুলো এড়িয়ে চলা খুব প্রয়োজন। 


Saturday, 21 September 2013

রাজসিক মানুষ ও তার বৈশিষ্ট্য

                     রাজসিক মানুষ ও তার বৈশিষ্ট্য

আজকে আমার একজন ভক্ত আমাকে লিখতে বলছিলেন রাজসিক ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে লেখার জন্যে। তাই আজকে তার অনুরোধেই লেখা ধরছি রজগুণের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে । যার মধ্যে রজগুণ প্রবল থাকে তার মধ্যে ৬টি বৈশিষ্ট্য  দেখা যায়- 
১) তার মধ্যে থাকে খুব বিষয়ের প্রতি আসক্তি। আসক্তি রজগুণের লক্ষণ। 
২) তার আসক্তি থাকে কর্মফলে। সে যে কাজই করুক তার ফল কামনা করে। কর্ম থেকে ইহলোকে যশ খ্যাতি এবং দেহান্তে স্বর্গে সুখভোগ কামনা করে। 
৩) তার থাকে বেশী লোভ। সে যতটুকু পায় তাতে কখনো সন্তুষ্ট হয় না। সে চায় আরও বেশী।
৪) তার মধ্যে থাকে হিংসা। এই হিংসা তামসিক মানুষের মধ্যেও থাকে কিন্তু রাজসিকদের হিংসার প্রকৃতি অন্যরকম। তামসিক মানুষরা হিংসা করে নিজেদের অজ্ঞানের জন্যে কিন্তু রাজসিক ব্যক্তিরা হিংসা করে তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে। নিজের লাভের জন্যে সে অপরের ক্ষতির পরোয়া করে না। এদের স্বভাবটাই হয় হিংসাত্বক। 
৫) তার মধ্যে থাকে অশুচিতা। অর্থাত সে বস্তু সংগ্রহ করে ভোগের জন্যে। আর তাই তার সকল বস্তুই ভরে থাকে অশুচিতে। এদের দেহ -অস্থি -মজ্জা সব অশুচি হয়ে থাকে। যে স্থানে এই রাজসিক ব্যক্তিরা থাকে তাদের এই অশুচিতে কলুষিত হয়ে থাকে সেখানকার বায়ুমন্ডল। ফলে এইসব লোকেরা যখন মারা যায় অতিরিক্ত আসক্তির জন্যে পৃথিবীর অশুচি স্থানেই এদের বাস করতে হয় সুক্ষ্মদেহে। 
৬) রাজসিক ব্যক্তির আরেকটি বৈশিষ্ট্য  হল - তার জীবনের সফলতা ও বিফলতার সাথে আবেগ পরিবর্তন। তারা সুখে বেশী আনন্দিত হয় আর দুঃখে বেশী কাতর হয়। 
  যারা সত্বগুণে সমৃধ্ধ হতে চান তাদের এই ৬টি রাজসিক বৈশিষ্ট্য ত্যাগ অত্যন্ত জরুরি।

Friday, 20 September 2013

অশান্তি থেকে উদ্ধারের পথ

                                                            অশান্তি থেকে উদ্ধারের পথ 
      মানুষের জীবনে অশান্তির কারণ সংসার .. সংসারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হলেই মন অশান্ত হয়ে পড়ে .. মনকে শান্ত করার জন্যে ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণ তিনটি পথ বলেছেন - কর্মযোগ , জ্ঞানযোগ ও  ভক্তিযোগ.. 
        প্রথমে আসি কর্মযোগের কথায় .. কর্মযোগ হল ফলের আশা না করা ও কর্তৃত্বের অভিমান ত্যাগ করে নির্লিপ্তভাবে কর্ম করা..এতে সংসার থেকে আসক্তি চলে যায়..ফলে মনে শান্তি ও আনন্দ আসে..যাদের যোগবুদ্ধি আছে তারা কর্মফল পরিত্যাগ করে জন্মবন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেন..
       দ্বিতীয়তঃ আসছে জ্ঞানযোগ..জ্ঞানযোগ দিয়ে আত্মস্বরুপে স্থিত হওয়া যায়..এবং তাতে লাভ হয় অনন্ত আনন্দ .. যে মানুষ অন্তরাত্মাতেই সুখযুক্ত  এবং আত্মাতেই জ্ঞানযুক্ত সেই জ্ঞানযোগী নির্বাণ ব্রহ্ম লাভ করেন ..
       তৃতীয়তঃ  আসছে ভক্তিযোগ .. এতে ভগবানের সঙ্গে অভিন্ন সম্পর্ক স্থাপন হয় .. তাতে লাভ হয় প্রেম বা অনন্ত আনন্দ..
      জ্ঞানমার্গের পথিকরা ভগবানের দর্শন চান না .. তাঁরা  আত্মস্বরুপ জেনে এবং তাতে প্রবিষ্ট হয়ে খুশী থাকেন .. তাই তাঁদের আর ভগবান দর্শন হয় না .. কিন্তু ভক্তিমার্গের পথিকদের আত্মস্বরূপ জ্ঞান হয় এবং তাঁরা  আত্মস্বরুপে অধিষ্ঠিতও হতে পারেন আর সেইসাথে তাঁদের ইষ্টদর্শন হয় .. লাভ হয় অনন্ত প্রেম .. তখন ভক্ত আর ভগবান প্রেমিক আর প্রেমাস্পদের মত এক হয়ে যান .. এ প্রসঙ্গে শ্রী রাধার কথা বলা যায় .. তিনি বলেছিলেন - শ্রীকৃষ্ণ  দর্শনের আগেই তাঁর শ্রী কৃষ্ণে প্রীতি হয়েছিল এবং দৃষ্টি বিনিময় হওয়ার পর সেই অঙ্কুরিত অনুরাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে দিনের পর দিন ধরে .. দেখতে দেখতে সেই প্রেম যেন দুজনের মনকে পেষণ করে অভিন্ন করে তুলেছে .. ফলে শ্রীরাধা তখন আর রমনী স্বরূপে আবদ্ধ ছিলেন না .. শ্রী কৃষ্ণও আবদ্ধ ছিলেন না রমণ স্বরূপে .. দুজনে একে অপরের সাথে মিশে এক হয়ে গেছিলেন ভক্ত ও ভগবান রূপে .. এই তো প্রেমের শ্রেষ্ঠ উপহার .. ভক্তিয়োগের পরম নিদর্শন ..
        তাইতো  বলি - প্রথমে কর্ময়োগের মাধ্যমে নিজেকে সংসারের প্রতি নির্লিপ্ত কর আর তারপরে ঝাঁপ দাও ভক্তির সাগরে .. জ্ঞানের সাগরেও ঝাঁপ দিতে পারো ..তবে ভক্তিতে পাবে তাঁর লীলার আস্বাদ যা জ্ঞানে নেই .. জ্ঞানী তো ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা জেনে আত্মস্বরুপে স্থির হয়ে থাকেন পরম আনন্দে ..ভক্ত সেইসাথে তাঁর পরম প্রেমিকের লীলার রসও আস্বাদ করেন .. 
        তাইতো  ভক্তি যোগের চেয়ে বড় পথ হয় না ..
   

Wednesday, 18 September 2013

ক্রোধ

                        ক্রোধ 

অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন - ক্রোধ বলতে ঠিক কি বোঝানো হয়? শাস্ত্রে বলে - ক্রোধ হল চন্ডাল। এক মুহুর্তের ক্রোধ শেষ করে দিতে পারে এক ফল। তা এহেন ক্রোধ বস্তুটি কি?
      এর উত্তরে বলি - মানুষের যখন কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণে বাধা আসে,অর্থাত কামনাপুরণে বাধা আসে তখন মনের ভিতরে যে জ্বালার অনুভুতি হয় তাকে বলে ক্রোধ। এই সময়ে অপরের অনিষ্টের চিন্তায় মনের ভিতরে যে জ্বালার সৃষ্টি হয় তাকেই ক্রোধ বলে ।
      অনেক ছেলেমেয়েরা আমাকে বলে ," জানো, আমার বাবা বা মা খুব রাগী।আমাদের উপরে খুব রাগ করে।" এই রাগকে কিন্তু ক্রোধ বলে না,এটা হলো ক্ষোভ। কারণ বাবা বা মা মুখে যতই কটু বাক্য ব্যবহার করুন তার উদ্যেশ্য তো সন্তানের মঙ্গল।তাই তাকে ক্রোধ বলে না। কিন্তু যখন উত্তেজিত হয়ে অপরের ক্ষতি করা হয় এবং তাদের দুঃখ দিয়ে যখন মনে আনন্দ অনুভব করা হয় তাকে বলে ক্রোধ। তবে এই ক্রোধী ব্যক্তিরা কিন্তু এক অর্থে মানুষের মঙ্গল করে। এরা অন্যের মনে আঘাত দিয়ে নিজের অপকার করে পাপ সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিন্তু সে যার অপকার করে তার পাপক্ষয় হয়ে যায়।
      অর্থাত যারা আধ্যাত্মিক পথে এগোতে চান তাদের কিন্তু ক্রোধ সম্পর্কে খুব সতর্ক থাকতে হয়। গীতায়  ভগবান বলেছেন - এই ক্রোধ হল মানুষের প্রথম শত্রু যা দেহে অবস্থান করে দেহেরই বিনাশ সাধন করে। যেমন কাষ্ঠস্থিত অগ্নি কাঠকে জ্বালিয়ে দেয় তেমনই দেহে অবস্থিত ক্রোধরূপী অগ্নি দেহকেই ভস্মীভূত করে। তাই ক্রোধ সম্পর্কে সাবধান।

Wednesday, 21 August 2013

প্রারব্ধের থেকে আত্মরক্ষা

                     প্রারব্ধের থেকে আত্মরক্ষা 

আমরা যখনই কারোর কাছ থেকে কোনো উপকার লাভ করি তখনই সেইসাথে তার কিছু প্রারব্ধও চলে আসে আমাদের মধ্যে। এটি প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাবা,মা বন্ধুবান্ধব সবার উপকারের সাথেই তার কিছুটা প্রারব্ধ এসে যায় আমাদের মধ্যে। এই পৃথিবীতে কোনকিছুই বিনামূল্যে মেলেনা। আমরা যখন অপরের দান গ্রহণ করি তার সাথে এই প্রারব্ধও  টেনে নেই। এইজন্যে কখনো কারোর থেকে কোনো উপকার পেলে চেষ্টা করবে তার আরও বেশি উপকার করতে। সাধকরা বলেন -দিয়েই আনন্দ,নিয়ে নয়। তার কারণ এটিই। তাই আমাদের উচিত সবসময়ে খেয়াল রাখা যাতে ভুলেও কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আর পাতলেও তা যথাসম্ভব দ্রুত সুদ-আসলে শোধ করে দিতে। এইজন্যেই যুধিষ্ঠির বলেছিলেন - সেই সবচেয়ে সুখী যার কোনো ঋণ নেই। তাই সবসময়ে চেষ্টা করবে মানুষকে দিতে ,আর্তের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে,সাধু সন্যাসীর সেবা করতে - এর মধ্যে দিয়ে তোমার প্রারব্ধ অনেকাংশে কেটে যাবে। আর চেষ্টা করবে কারো কাছ থেকে কিছু না নিতে,অপরের থেকে পাওয়া উপকার এড়িয়ে যেতে।তাহলে অনেক অযাচিত প্রারব্ধের থেকে মুক্তি পাবে।

Saturday, 17 August 2013

নিন্দা হল বন্ধুর কাজ

             নিন্দা হল বন্ধুর কাজ 
    আমার স্নেহের বোন মালা আমায় এক অধিবেশনে প্রশ্ন করেছিল : দাদা,কলকাতার একজন spiritual বইয়ের লেখক(তপোভুমি নর্মদার মহাত্মা বরফানী দাদাজীর উপর তাঁর বইও আছে) কারণে অকারণে তোমার নিন্দা করেন। আমি নিজের কানে তাঁর সেই অবান্তর নিন্দা শুনেছি।আমরা এর প্রতিবাদ করতে চাই। এ বিষয়ে তুমি কলম ধর দাদা।

  উত্তরে আমি বলেছিলাম : এমনিতে দিলীপ কুমার রায় বলেছিলেন যে যারা দেখে - অপরের পিঠ চাপড়াতে না পারলে নিজের কপাল চাপড়াতে হবে তারাই অন্যের নিন্দা করে। তবে আমি কিন্তু অন্যভাবে ভাবি । আমি সানন্দে সেই লেখকের দীর্ঘায়ু ও কুশল কামনা করি। কারণ হিসেবে একটি কাহিনী বলছি। কাশীর এক সাধু সন্ত কবীরের খুব নিন্দা করতেন। কিন্তু কবীর সবসময়ে তাঁর কুশল চাইতেন।একদিন সেই সাধু মারা যান। ভক্তরা সেই সংবাদ কবীরকে দিলে তিনি ধুলায় লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকেন আর বলতে থাকেন, "হামারা ধোবি  চলা গয়া। " পরে কবীর শান্ত হলে ভক্তরা যখন জিজ্ঞেস করেন তাঁর এই ব্যবহারের কারণ তখন তিনি বলেন,"তোমরা আমাকে এত ভালোবাসো ও সম্মান কর তাতে আমার তো অহংকার আসতে পারে যেটা পাপের সামিল,কিন্তু ওই সাধু আমার নিন্দা করে আমার সেই পাপতাপ নিজের মধ্যে টেনে নিতেন।তাই তিনি ছিলেন আমর প্রকৃত বন্ধু তথা ধোবি যিনি আমার ময়লা নিত্য পরিষ্কার করে দিতেন।আজ সেই ধোবিকে আমি হারালাম।" তাই তোমরাও সেই লেখকের উপর রাগ কোর না আমার নিন্দা করার জন্যে। তিনি যে এভাবেই আমর উপকার করে যাচ্ছেন। যাঁরা অকারণে নিন্দা করেন তাঁরা যে সত্যই ধোপার মত বড় বন্ধুর ভুমিকা পালন করেন। তাই সবসময়ে তাঁদের ভালো চাইতে হয়।