Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Tuesday, 4 August 2015

ঠাকুর কেন সাড়া দেন না

                 ঠাকুর কেন সাড়া দেন না 

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

আমরা প্রায়ই অনুযোগ করি - এত প্রার্থনা করলাম,তাও নিষ্ঠুর ঠাকুর সাড়া দিলেন না। কিন্তু আমরা বুঝতে চাইনা যে এই সাড়া না দেয়াটা আমাদেরই দোষের ফল। আসল কথা হল - প্রতিটি মানুষই হল লোহার মত আর ঈশ্বর চুম্বকের মত। যার মধ্যেই অধ্যাত্মজ্ঞান জেগেছে তাকেই ঈশ্বর টেনে নেন কাছে।তোমরা বলতে পারো - চুম্বক তো সব লোহাকেই টানে। আমি বলব - ঠিক কথা। চুম্বক সব লোহাকেই টানে কিন্তু তারও একটা শর্ত আছে।  লোহায় যদি জং পরে যায় তাহলে চুম্বক টানতে পারে না। এই জং পরে ধুলো আর ময়লা জমে। একইভাবে আমাদের মনে যদি অসত ভাবনার ময়লা আর ধুলো জমে তাহলে ঈশ্বর আমাদের টানতে পারেন না। তিনি তখন অপেক্ষা করেন কবে আমাদের মন থেকে ময়লা এবং ধুলো পরিষ্কার করে আমরা নিজেদের আধারকে যোগ্য করে তুলব তাঁর কাছে আসার জন্যে। যতদিন না আমরা নির্মল হতে পারছি দেহে মনে ততদিন পর্যন্ত তাঁর যে শক্তি আমাদের মধ্যে অন্তর্নিহিত আছে তার সন্ধান আমরা কিছুতেই পাব না। 

Monday, 3 August 2015

ভালবাসা কারে কয়?

                                     ভালবাসা কারে কয়?

      আমাদের প্রতিটি মানুষের মূল স্বরূপ হল ভালবাসা। এই পৃথিবীতে প্রতিটি নাম ও রূপের মাঝেই আছে ভালবাসা। কারণ ঈশ্বর স্বয়ং আমাদের মাঝে বিরাজ করেন ভালবাসা রূপে। এই ভালবাসা হল চিরন্তন,সর্বব্যাপী এবং অদ্বৈত। 
     কিন্তু আমরা সেই ভালবাসার পরশ পাই না। তার কারণ - ভালবাসা বিলোবার ব্যাপারে আমরা স্বার্থপর। আমরা দেখি - বিশেষ কিছু মানুষের  কাছে কি পাওয়া যাবে এবং সেই অনুসারে তাকে ভালবাসি। অর্থাত আমরা খন্ড রূপকে ভালবাসি স্বার্থের লোভে। যতক্ষণ আমাদের ভালবাসা হবে এরম খন্ড রুপভিত্তিক এবং স্বার্থকেন্দ্রিক ততক্ষণ আমরা পাব না সত্যিকারের ভালবাসার পরশ। 
      তাহলে কিভাবে আমরা পেতে পারি সত্যিকারের ভালবাসার পরশ? কোন বিশেষ নশ্বর দেহকে ভালবাসার পাত্র কোর না। দেহকে নয় আত্মাকে ভালোবাসো। যে পরমাত্মার অংশ তোমার মাঝে আছে তারই অংশ আছে অন্যদের মাঝেও। তাইত ঈশ্বরের সুত্রে আমরা সবাই এক। যখনই সেই ঐক্যকে আমরা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারব তখনি ভালবাসতে পারব সবাইকে একভাবে আর একমাত্র তখনি পাব স্বর্গীয় ভালবাসার পরশ - ইশ্বর যে ভালবাসায় আমাদের ভরাতে চান সেই ভালবাসা - যা ভালোর বাসা সেই অপার্থিব ধন আমরা পাব। 
    ভেবে দেখো - ঈশ্বরকে বলা হয় ভালবাসার মূর্ত রূপ। কেন?কারণ তিনি কোনো স্বার্থ দেখে কাউকে ভালবাসেন না , সবাইকে সমান ভালবাসেন - যার যেমন কর্ম তাকে তেমন ফল দেন। আমাদের উচিত ভালবাসার ব্যাপারে তাঁকে অনুসরণ করা। তার মতই সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসা। একমাত্র তাহলেই যে আমাদের মিলবে স্বর্গীয় ভালবাসার পরশ। 

Saturday, 1 August 2015

অনন্তের জিজ্ঞাসা ( অষ্টানগিক যোগ ও ক্রিয়া যোগ পর্ব) -১

অনন্তের জিজ্ঞাসা ( অষ্টানগিক যোগ ও ক্রিয়া যোগ পর্ব) -১

( বিগত ২০১০ সালের জুলাই মাসের অধিবেসন থেকে সংগৃহিত)

শাশ্বতী দাস - যোগ কাকে বলে? 
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় -পতঞ্জলি বলেছেন - চিত্তবৃত্তি নিরোধের নামই যোগ। এ প্রসঙ্গে আমার বক্তব্যটাও বলি। আমরা জানি যে জীবাত্মার লক্ষ্য হল - নিজ আত্মায় আত্মস্থ হয়ে  আত্মস্বরূপ তথা ব্রহ্মস্বরুপ লাভ। আমাদের দেহের সহস্রার চক্রে বিরাজ করছেন সদাশিব এবং আমাদের দেহের মূলাধার চক্রে বিরাজ করছেন কুলকুন্ডলিনি। কিন্তু জন্মলাভের পর আমরা মায়ায় মোহিত হয়ে যাই। ফলে মায়ার প্রভাবে ষড়রিপু আমাদের আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে আর সেজন্যেই আমাদের ভিতরকার আসল এই শক্তি সুপ্তভাবে থেকে যায় ভিতরে। তাই আমাদের মনের উপর যেসব রিপু  প্রভাব বিস্তার করে সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে মনকে অন্তর্মুখী করতে হয় আর এই অন্তর্মুখী মনই হয় সাধনার অনুকুল। এই বহির্মুখী মনকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্তর্মুখী করে আপন কুলকুন্ডলিনি শক্তিকে জাগিয়ে তাকে মূলাধার থেকে সহস্রারে নিয়ে গিয়ে সদাশিবের সাথে মিলিয়ে দেয়ার সাধনা হল যোগ। এই যোগের মাধ্যমেই আমরা জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগ ঘটাতে পারি আপন দেহভান্ডে। 
   (ক্রমশঃ )

Thursday, 30 July 2015

গুরুপুর্নিমা

      আজ গুরুপুর্নিমা। আমাদের গুরুকে সম্মান জানানোর জন্যে নির্দিষ্ট দিন। গুরু কে ?গুরু কে ভাগ করলে পাওয়া যাবে গু এবং রু। এর মধ্যে গু শব্দের অর্থ অজ্ঞানের অন্ধকার যার মধ্যে ডুবে আছে জীবজগত আর রু শব্দের অর্থ আলো। অর্থাত যিনি আমাদের ভিতরকার অজ্ঞানের অন্ধকার দূর করে আলোর পথে নিয়ে যান তিনিই গুরু। যিনি আমাদের হাত ধরে জীবন  মহাজীবনের পথে নিয়ে যান তিনিই গুরু। এই পূর্নিমায় তাকেই আমরা জানাই আমাদের শ্রদ্ধা।
     এই পূর্নিমার এহেন নামকরণের কারণ -এটি ব্যাসদেবের আবির্ভাব তিথি। ব্যাসদেব যে ভাগবত, গীতা সহ  বহু মহাগ্রন্থের মাধ্যমে আমাদের হিন্দু ধর্মকে দেখিয়েছেন দিশা আর তাই তাঁকেই আমরা মানি প্রথম ধর্মগুরু রূপে।  এটি  তাঁর আবির্ভাব তিথি। তাই এই তিথিতে আমরা সেই আদি গুরুকে শ্রদ্ধা জানাই। আর তাঁর মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাই  আমাদের জীবনে যিনি মুক্তির কান্ডারী হয়ে এসেছেন সেই গুরুকে।
      আজ গুরুপুর্নিমা উপলক্ষ্যে আমি প্রনাম জানাই আমার শক্তিমন্ত্রের  মন্ত্রগুরু তথা ক্রিয়াগুরু বাবাকে,কৃষ্ণ মন্ত্রের গুরু মাকে,অধ্যাত্ম পথে যেসব মহাত্মাদের কৃপায় সিঞ্চিত হয়েছি আমি সেই মহাত্মাদের এবং যেসব অধ্যাত্ম গ্রন্থের মাধ্যমে নিজেকে পরিশীলিত করতে পেরেছি সেই অধ্যাত্ম বই এর লেখকদের। এদের সবার থেকেই আমি শিখেছি মহাজীবনের পথ চলার সূত্র। তাই এঁরা সবাই আমার গুরু। এদের সবাইকেই আমার প্রণিপাত।
      সেইসাথে দেশ বিদেশে আমার যারা শিষ্য শিষ্য আছ, তোমাদের সবাই আমার নিও আমার প্রাণভরা ভালবাসা,স্নেহ,শুভেচ্ছা ,প্রীতি ও আশির্বাদ।  ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি - তিনি তোমাদের সবার সার্বিক মঙ্গল করুন। সার্থক হোক তোমাদের পথ চলা মহাজীবনের লক্ষ্যে। 

Monday, 20 July 2015

চিরন্তন সৌন্দর্য



আমরা সাধারণত সুন্দর মুখ,সুন্দর দেহ গড়ে তুলতে চাই । যাতে সেই বহিরঙ্গের সুন্দরকেই অন্যেরা ভালোবেসে ফেলে । কিন্তু সেই সুন্দর তো ক্ষণস্থায়ী। ঠিক ফুলের সৌন্দর্যের মত। আজ আছে কাল থাকবে না। তার পরিবর্তে আমাদের চেষ্টা করা উচিত নিজেকে গড়ে তোলার - যাতে আমাদের আত্মিক সৌন্দর্যকে আমরা প্রকাশ করতে পারি - আমাদের ভিতরে যদি সততা,নিঃস্বার্থ ভালবাসা,প্রেম,মৈত্রী,স্নেহ জাগ্রত হয় এবং আমাদের ভিতরের ক্রোধ,ঈর্ষা,হিংসা,প্রতিহিংসা,লোভ,লালসা যদি আমরা ধংস করতে পারি তবেই তো আমরা সত্যিকারের সুন্দর হতে পারব। সেই সৌন্দর্য চিরকাল রেখাপাত করবে সবার মনে। ছুয়ে যাবে সবার মন। দেহে সুন্দর হওয়ার পরিবর্তে মনে সুন্দর হওয়া প্রয়োজন। সেই সৌন্দর্যই চিরন্তন - দেহের সৌন্দর্য ক্ষনিকের মরিচিকা মাত্র।   

Sunday, 12 July 2015

"রূপং দেহী,জয়ং দেহী,যশঃ দেহী , দ্বিষঃ দেহী "

সামনে আসছে মা দুর্গার পূজা। হবে দেবীবরণ। আমরা মাকে বলব -"রূপং দেহী,জয়ং  দেহী,যশঃ দেহী , দ্বিষঃ দেহী "- সবাই ভাবেন এর অর্থ -মায়ের কাছে আমরা চাইছি - মা,রূপ দাও, জয় দাও,যশ দাও, আমাকে শত্রু সংহারে সমর্থ কর। আমরা জাগতিক জগতের মানুষ। তাই জাগতিক অর্থই ভাবি।
          কিন্তু এই শ্লোকের আলাদা আধ্যাত্মিক তাত্পর্য আছে। এখানে 'রূপং দেহী' বলতে বোঝানো হচ্ছে  - ' মা,আমাকে পরমাত্মবস্তু দাও। '  
শাস্ত্র বলছে রূপ সম্বন্ধে -"রূপং রূপাতে জ্ঞায়তে ইতি রূপং পরমাত্মবস্তু"। 
       'জয়ং  দেহী' বলতে বোঝানো হচ্ছে - 'মা,আমাকে পরমাত্মের স্বরুপতত্ব অবগত করাও।' 
শাস্ত্র বলছে জয় সম্বন্ধে -" জয়ং জয়্তানেন পরমাত্মনো স্বরূপমিতি জয়ঃ।"
     'যশঃ দেহী' বলতে বোঝানো হচ্ছে -'মা,আমার তত্বজ্ঞান সম্পাদন কর।' 
শাস্ত্র বলছে যশ সম্বন্ধে -"সহ নৌ যশঃ ইতি শ্রুতিপ্রসিদ্ধঙ  তত্বজ্ঞানসম্পাদনজন্যং জসস্তদ্দেহী।"

   ' দ্বিষঃ দেহী' বলতে বোঝানো হচ্ছে - 'মা, আমার কম,ক্রোধ ইত্যাদি শত্রুর সংহার কর। '
 শাস্ত্র বলছে  দ্বিষ সম্বন্ধে - "দ্বিষঃ জহী কম ক্রোধাদিন সত্রুন জহী নাশয়ঃ। "
    এই শ্লোকের এই আধ্যাত্মিক অর্থ জেনে মন্ত্র পথ করলে তবেই এই আধ্যাত্মিক ফল লাভ হয় - এমনটাই শাস্ত্র বলে থাকে। তাই আসন্ন পূজায় এই অর্থ মনে রেখেই যেন আমরা মায়ের স্তোত্র পাঠ করি। 

Friday, 10 July 2015

ইস্ট সাক্ষাতকার

অনেক ভক্তই  আমাকে বলে - কবে তার ইস্ট দর্শন হবে ? কিন্তু এই ইস্ট দর্শন তো নতুন কিছু নয় যা সাধনার মাধ্যমে আয়ত্ত্ব হবে। তাই আমি বলি - ইস্ট তো তোমার মাঝেই আছেন। তার সাক্ষাত করা নতুন কিছু নয়। শুধু তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ  না নিজের অহংকার বা egoর জন্যে। এই ego হল একটি মায়ার পর্দা যা জীবকে দুরে রাখে ইষ্টের থেকে। সাধনার মাধ্যমে সেই egoর পর্দা  সরানোই  শুধু আমাদের কাজ । প্রতি জন্মে যা আসে আর যায় তা হল এই আমি-র আবরণ। সাধনার মাধ্যমে এটিকে সরিয়ে দিতে পারলেই মিলবে ইস্ট সাক্ষাতকার। ঘটবে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন। 

Thursday, 2 July 2015

ভক্ত হতে গেলে





অহংকার বা ইগো হল ভক্তিলাভের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। কারণ অহংকার যোগায় আমার আমার ভাব। আমার আমার ভাব থেকে আসে কামনা - সবকিছুই তখন আমার নিজের রূপে পেতে চাই। সেই কামনায় বাধা পড়লে আসে ক্রোধ। ক্রোধ আনে প্রতিহিংসা। আর এসব মিলিয়েই  মানুষ জড়িয়ে যায় মায়ার জালে। তাই ভক্ত হতে গেলে আগে নিজের আমিত্ব নাশ কর। মনকে বোঝাও ঈশ্বরের মহান কর্মযজ্ঞে আমি একটি বোরে মাত্র - যার নিজস্ব বলতে কিছুই নেই ,উপরওলা যেমন চালাবেন আমাকে তেমনিই চলতে হবে। সেই ভাব মনে রেখে সব ঈশ্বরের কাজ ভেবে কর। দেখবে তোমায় আর কোনো কাজ করতে হবেনা - তোমার কাজ হয়ে দাঁড়াবে তোমার সেবা। 

Friday, 26 June 2015

ভক্তি ও জ্ঞান

ভক্তি ও জ্ঞান 


ভক্তি ও জ্ঞানের মধ্যে প্রভেদ নিয়ে ভক্তরা অনেকেই তর্ক করেন। কিন্তু ভক্তি আর জ্ঞান দুইই ইশ্বরলাভের পথ। ঠিক যেমন সগুন আর নির্গুনের ভেদ। যিনি সগুন তিনিই তো আপন খেয়ালে নির্গুণ। তেমনই যেমন ভক্তির পথ তেমনি জ্ঞানের পথ। যিনি ভক্তিকে অবলম্বন করে এগন তার মধ্যে আপনা থেকেই জাগ্রত হয় জ্ঞান। আর যিনি জ্ঞানকে অবলম্বন করে এগন তিনিও শেষে উপলব্ধি করেন যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান হল ভক্তি। তাই জ্ঞান আর ভক্তি দুইই ঈশ্বর লাভের বিশেষ ধাপ। আর দুইর মধ্যেই দুইকে খুঁজে পাওয়া যায়।