Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Wednesday, 21 August 2013

প্রারব্ধের থেকে আত্মরক্ষা

                     প্রারব্ধের থেকে আত্মরক্ষা 

আমরা যখনই কারোর কাছ থেকে কোনো উপকার লাভ করি তখনই সেইসাথে তার কিছু প্রারব্ধও চলে আসে আমাদের মধ্যে। এটি প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাবা,মা বন্ধুবান্ধব সবার উপকারের সাথেই তার কিছুটা প্রারব্ধ এসে যায় আমাদের মধ্যে। এই পৃথিবীতে কোনকিছুই বিনামূল্যে মেলেনা। আমরা যখন অপরের দান গ্রহণ করি তার সাথে এই প্রারব্ধও  টেনে নেই। এইজন্যে কখনো কারোর থেকে কোনো উপকার পেলে চেষ্টা করবে তার আরও বেশি উপকার করতে। সাধকরা বলেন -দিয়েই আনন্দ,নিয়ে নয়। তার কারণ এটিই। তাই আমাদের উচিত সবসময়ে খেয়াল রাখা যাতে ভুলেও কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আর পাতলেও তা যথাসম্ভব দ্রুত সুদ-আসলে শোধ করে দিতে। এইজন্যেই যুধিষ্ঠির বলেছিলেন - সেই সবচেয়ে সুখী যার কোনো ঋণ নেই। তাই সবসময়ে চেষ্টা করবে মানুষকে দিতে ,আর্তের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে,সাধু সন্যাসীর সেবা করতে - এর মধ্যে দিয়ে তোমার প্রারব্ধ অনেকাংশে কেটে যাবে। আর চেষ্টা করবে কারো কাছ থেকে কিছু না নিতে,অপরের থেকে পাওয়া উপকার এড়িয়ে যেতে।তাহলে অনেক অযাচিত প্রারব্ধের থেকে মুক্তি পাবে।

Saturday, 17 August 2013

নিন্দা হল বন্ধুর কাজ

             নিন্দা হল বন্ধুর কাজ 
    আমার স্নেহের বোন মালা আমায় এক অধিবেশনে প্রশ্ন করেছিল : দাদা,কলকাতার একজন spiritual বইয়ের লেখক(তপোভুমি নর্মদার মহাত্মা বরফানী দাদাজীর উপর তাঁর বইও আছে) কারণে অকারণে তোমার নিন্দা করেন। আমি নিজের কানে তাঁর সেই অবান্তর নিন্দা শুনেছি।আমরা এর প্রতিবাদ করতে চাই। এ বিষয়ে তুমি কলম ধর দাদা।

  উত্তরে আমি বলেছিলাম : এমনিতে দিলীপ কুমার রায় বলেছিলেন যে যারা দেখে - অপরের পিঠ চাপড়াতে না পারলে নিজের কপাল চাপড়াতে হবে তারাই অন্যের নিন্দা করে। তবে আমি কিন্তু অন্যভাবে ভাবি । আমি সানন্দে সেই লেখকের দীর্ঘায়ু ও কুশল কামনা করি। কারণ হিসেবে একটি কাহিনী বলছি। কাশীর এক সাধু সন্ত কবীরের খুব নিন্দা করতেন। কিন্তু কবীর সবসময়ে তাঁর কুশল চাইতেন।একদিন সেই সাধু মারা যান। ভক্তরা সেই সংবাদ কবীরকে দিলে তিনি ধুলায় লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকেন আর বলতে থাকেন, "হামারা ধোবি  চলা গয়া। " পরে কবীর শান্ত হলে ভক্তরা যখন জিজ্ঞেস করেন তাঁর এই ব্যবহারের কারণ তখন তিনি বলেন,"তোমরা আমাকে এত ভালোবাসো ও সম্মান কর তাতে আমার তো অহংকার আসতে পারে যেটা পাপের সামিল,কিন্তু ওই সাধু আমার নিন্দা করে আমার সেই পাপতাপ নিজের মধ্যে টেনে নিতেন।তাই তিনি ছিলেন আমর প্রকৃত বন্ধু তথা ধোবি যিনি আমার ময়লা নিত্য পরিষ্কার করে দিতেন।আজ সেই ধোবিকে আমি হারালাম।" তাই তোমরাও সেই লেখকের উপর রাগ কোর না আমার নিন্দা করার জন্যে। তিনি যে এভাবেই আমর উপকার করে যাচ্ছেন। যাঁরা অকারণে নিন্দা করেন তাঁরা যে সত্যই ধোপার মত বড় বন্ধুর ভুমিকা পালন করেন। তাই সবসময়ে তাঁদের ভালো চাইতে হয়। 

Thursday, 18 July 2013

অহং থেকে মুক্তির পথ

            

             অহং থেকে মুক্তির পথ 

আমরা অনেক সময়েই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি - আমাদের অহংকে দুরে সরিয়ে দাও। কিন্তু সাধারণ মানুষকে অহং থেকে মুক্তি একমাত্র দিতে পারে মৃত্যু।মৃত্যুর পরই যে কেটে যায় মায়ার বন্ধন।কিন্তু জীবিত অবস্থায় যদি অহং থেকে মুক্তি চাই তবে আমাদের নিজেদের চেষ্টা করতে হবে। কারণ এই অহংকার ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়।এর স্রষ্টা স্বয়ং আমরা। এই মান ও হুঁশ যুক্ত মানুষ। যখন আমাদের মধ্যে ধর্মপরায়ণতা,দয়া,মায়া,ভালবাসা,স্নেহ,প্রেম,জ্ঞান ইত্যাদির থেকে মন সরে যায় এবং আমরা অন্তরের সৌন্দর্যের পরিবর্তে  বহিরঙ্গের সৌন্দর্যকে নিয়ে মেতে থাকি তখনই আমাদের পথ ভুল হয়। যতক্ষণ আমরা এই বহিরঙ্গের নশ্বর বস্তুর মধ্যে নিজেদের সুখ খুঁজতে থাকব ততক্ষণ আমাদের কাছে ধরা দেবে শুধুই অসুখ। ফলে ভিতরে পুষ্ট হতে থাকবে আমাদের অসন্তোষ। আর সেই অসন্তোষ থেকে যতই বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব আমরা বাইরের পথে ততই ক্রোধ,অবিবেক প্রভৃতি অসুর উত্পন্ন হতে থাকবে আমাদের ভিতরে অহংকারের সঙ্গী হিসেবে। কারণ বাইরের  জগতে যা আছে সবই নশ্বর।  তাই এর থেকে মুক্তি পেতে হলে ডুব দিতে হবে নিজের মনের ভিতরে।নিতে হবে যোগের পথ।তা ছাড়া আমাদের তৈরী এই দানবের হাত থেকে পরিত্রাণের কোন পথ নেই।

Tuesday, 16 July 2013

আশা

                                                      আশা 
মানুষের জীবনে যাবতীয় অশান্তির মূল কারণ আশা। আশা আছে বলেই জাগে পাওয়ার ইচ্ছা।আর পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই আসে হারানোর ভয়।মানুষ যখন কোনো কাজ করে সে আবার ফিরে পেতে চায় অন্যের থেকে তার প্রতিদান।সবসময়ে সে যে তা পায় এমন নয়।এর ফলে তখন তার মনে আসে অশান্তি।অর্থাত কিনা - ছায়ার মধ্যেই আছে গলদ। আমরা  যদি এই চাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে পারি তবেই আমাদের মধ্যে থেকে যাবে হারানোর ভয়।আছে যত টেনশন সব নিতে যাবে পেনশন।ভেবে দেখতে গেলে - আমরা চাই কেন? যা আমাদের ভাগ্যে আছে তা তো এমনিতেই পাব।আর যা ভাগ্যে নেই তা কখনই পাবনা। তবে কেন এত চাওয়া?কেন এত ফিরে পাওয়ার আশা? এখানে আমরা কর্ম করতে এসেছি,সেটি করে যাব।যা ফল পাওয়ার চাইলেও পাব,না চাইলেও পাব।তাই চাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।পাওয়ার পালা আপনা থেকেই শুরু হয়ে যাবে।আর মন ভরে থাকবে শান্তিতে।

Monday, 15 July 2013

আসক্তি

                                       আসক্তি 

    আসক্তি হল যন্ত্রণার মূল কারণ। আবেগের যন্ত্রণা,রাগ,ভয়,হতাশা,অসুখ সব আসে আসক্তি থেকে। যে বস্তু পরিবর্তনশীল তার উপর আসক্তি এলেই আসে যন্ত্রণা।এটাই স্বাভাবিক। এই পৃথিবীতে সবই পরিবর্তনশীল।প্রকৃতি পরিবর্তনশীল।মানুষ পরিবর্তনশীল।যদি কখনো তোমরা নিজের ফেলে আসা দিনগুলির ছবি নিয়ে বস,দেখবে তোমরাও এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই চলেছ। বিগত দিনে তোমাদের কত আপনজন ছিল যারা আজকে সময়ের সাথে সাথে অনেক দূর হয়ে গেছে।আবার আজকে যারা তোমার কাছে আছে একদিন হয়ত এই সুত্র ধরেই তারাও চলে যাবে দুরে। ঋণানুবন্ধ শেষ হলেই সব শেষ। তাই আসক্তিতে নিজেকে বাঁধলেই যন্ত্রণা। 

এর থেকে বাঁচার উপায় কি জানো ?অতীতকে দেখো ইতিহাস হিসেবে।যাকে তুমি পাল্টাতে পারবেনা কিন্তু তার থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এগোতে পারবে।আর ভবিষ্যতকে দেখো এক রহস্যময় কাহিনী হিসেবে যেখানে ইশ্বরের আশির্বাদ ছাড়া একটুও এগোনো যাবে না।এতে তুমি পরিকল্পনা অবশ্যই করতে পারো কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হবে কিনা তা ঠিক করবেন ঠাকুর। তাই অতীত ভবিষ্যত নিয়ে না ভেবে বর্তমানকে মেনে নাও ঠাকুরের উপহার হিসেবে। নিজেকে অতীতের স্মৃতি আর ভবিষ্যতের জল্পনা থেকে যথা সম্ভব সরিয়ে নাও। বর্তমানটুকুই ঠাকুর তোমার হাতে দিয়েছেন।তাই শুধু তাকে নিয়ে থাকলেই চারপাশের চাপ ও যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠবে।আবেগের যন্ত্রনাও সইতে হবে কম।

নিজেকে বর্তমানে রাখার একটি সরল উপায় বলছি।সুখাসনে বসে নিজের বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনী একসাথে কর।তারপর চোখ বন্ধ করে গভীর স্বাস নাও।তারপর খুব ধীরে ধীরে সেই স্বাস ছেড়ে দাও - এই ছাড়ার সময়ে চেষ্টা কর ১০ থেকে ২০ গুনতে।প্রায় মিনিট পাঁচেক ধরে এমনটি করলে দেখবে মন অনেক শান্ত হয়ে এসেছে।তখন স্থির হয়ে বসলে শুনতে পাবে তোমার নিজের শ্বাসের শব্দ। নিজের নিশ্বাসের এই শব্দই হলো তোমার আত্মার স্বর।সেই স্বর যখনি জাগবে তোমার মধ্যে তখনি শুরু হবে আসক্তিকে কাটিয়ে ওঠার পালা।

Tuesday, 9 July 2013

রথযাত্রা

                               রথযাত্রা

আজ রথযাত্রা। জগতের নাথ জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। এই উপলক্ষ্যে জগন্নাথ মহাপ্রভু আজ আসবেন সকলের মাঝে। সকল সম্প্রদায়ের সকল ভক্তের সাথে আজ তাঁর রথে বিহার। এই রথে ভক্তদের সাথে শুধু যে স্বয়ং মহাপ্রভু জগন্নাথ থাকেন তাই নয়্সাথে থাকেন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব জ্যোতির্ময় শরীরে,থাকেন তাঁর সকল পার্ষদ।তাই রথযাত্রা আধ্যাত্মিক পথের এক শ্রেষ্ঠ উত্সব।আমাদের উচিত - এই শরীর রূপ রথের সকল ভার মহাপ্রভুর কাছে সমর্পণ করে দিয়ে শরণাগত হয়ে এগিয়ে চলা এবং সকল কর্ম তাঁর কর্ম মনে করে নিস্পৃহ ভাবে থাকা ফলের আশা না করে।তবেই তো সার্থক হবে জীবনের রথযাত্রা। আজ রথ উপলক্ষে সবাইকে জানাই আমার শুভেচ্ছা ,আর সেইসাথে কনিষ্ঠদের জন্যে স্নেহ ও ভালবাসা।সবাই ভালো থেক এবং জীবনের রথকে এগিয়ে নিয়ে যেও।জয় জগন্নাথ।

Monday, 8 July 2013

জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রহসন

                         জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রহসন
মহাকালের স্রোত চলেছে বয়ে। তারই ফলে গড়ে উঠছে নদীর এক পাড় ,ভাঙছে আরেক পাড়। ভাঙছে পুরনো ইমারত,গড়ে উঠছে নতুন।সবই ক্ষণস্থায়ী,আজ আছে,কাল নেই।কাল যারা ছিল সাথে,আজ তারা অনেকেই নেই,আজ যারা সাথে আছে কাল তারা অনেকেই থাকবেনা।এটাই জীবন।তবু আমরা এই ক্ষণস্থায়ী খড়কুটো আঁকড়ে থাকতে চাই।জানি কিছুই থাকবেনা,আমরাও থাকবনা।তবু সবই আঁকড়ে থাকি।জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রহসন।

Thursday, 4 July 2013

পরিবর্তন

                                      পরিবর্তন 
   আমাদের জীবনে কত কিছু ঘটে যায় অহরহ। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় পরিবেশ।পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয় প্রতিটি মানুষকেই।তা সে ভালোমনেই মানুক বা বিরক্ত হয়েই।এই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার নামই বহিরঙ্গের জীবন।
   আমাদের দেহেরই কত পরিবর্তন হয়।একদিন আমি ছিলাম শিশু।ধীরে ধীরে হয়েছি বালক,তরুণ,কিশোর।বর্তমানে আমি যুবক।এরপর হব প্রৌড়। আসবে বার্ধক্য।অবশেষে ঝরে যাব একদিন শীতের পাতাঝরা গাছের মত। এটাই জীবন।এর প্রতিটি অবস্থাকেই মেনে নিতে হয়।
    যেমন আসে আমাদের দেহের পরিবর্তন তেমনি আসে আমাদের সম্পর্কের পরিবর্তন সময়ের সাথে সাথে। নিত্য পরিবর্তনের সাথে সবাইকেই খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।সেটা মেনে নিয়েই এগোতে হবে।আজ কেউ তোমাকে ভালবাসছে বলে কালকেও যে একইভাবে ভালবাসবে তা নাও হতে পারে। সময়ের সাথে সাথে তাকেও তো পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।সেই পরিবেশ তাকে কতটা তোমার জন্যে সমর্থন করছে সেটাও বুঝতে হবে বৈকি। আর তাকে মেনেও নিতে হবে। যত মানতে পারবে ততই শান্তি আসবে জীবনে। কখনো ভাববে না কি হতে পারত আর কি হলনা।ভাববে যা পেয়েছি সেটাই ভালো আমার জন্যে।
    এভাবেই প্রতিটি সম্পর্কের ওঠাপড়ার সাথে মানিয়ে নিতে হয়।যে অবস্থাই আসুক তাকে মেনে নেবে ইশ্বরের বরদান হিসেবে।ইশ্বরের থেকে শুধু ভালোটাই নেবে আর মন্দটা নেবে না তা কি হয়?দুইই নিতে হয় ইশ্বরের উপহার হিসেবে।তবেই তো শান্ত হতে পারবে আর শান্ত হলেই তো জীবনে শান্তি পাবে।আর তুমি নিজে শান্তি পেলেই তো আশেপাশের মানুষকেও দিতে পারবে শান্তির পরশ।    

Friday, 28 June 2013

ক্রিয়া

                                                          ক্রিয়া 
ক্রিয়াযোগ বড়  গুরুত্বপূর্ণ যোগ।  একটি কয়েন রেল লাইনে ফেলে রাখলে তা যেমন চুম্বক হয়ে যায় তেমনি ক্রিয়া করলে মানবদেহ অধ্যাত্মজ্ঞানে আলোকিত হয়ে  যায়। এতে চতুর্বর্গ লাভ হয় । এককথায় ক্রিয়ায়োগে সাধন শরীর হয়ে ওঠে ভাগবত শরীর। প্রথম ক্রিয়া মানুষের শরীরের বিভিন্ন gland-কে শক্তপোক্ত করে যা সমাধীলাভে সাহায্য করে । দ্বিতীয় ক্রিয়ায় মনের উপর দখল আসে এবং সাধকের ভিতরে জ্ঞানের আলো  জ্বলে ওঠে ।তৃতীয় ক্রিয়া দূর করে দেয় মনের চাঞ্চল্য । চতুর্থ ক্রিয়া liver ও pancreas-কে সুস্থ করে এবং দেহের যৌন শক্তিকে পরিণত করে ভগবত শক্তিকে। অনেকে ভাবে কামকে বা যৌনতাকে নির্মূল করতে হয় । কিন্তু যৌনতাকে নির্মূল করলে সাধনায় অগ্রসর হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় । কারণ যৌন শক্তির মধ্যেই সুপ্তভাবে থাকে আমাদের দেহের আসল শক্তি কুলকুন্ডলিনী শক্তি । যৌনশক্তিকে ক্রিয়ার মাধ্যমে দমন করে তাকে কুলকুন্ডলিনী শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হয় । এরপরও ছয়টি আরো উচ্চ ক্রিয়া আছে। এই যোগের জন্যে চাই নির্দিষ্ট আধার এবং সুস্থ সবল শরীর।আর সেইসাথে গুরুর প্রতি ভক্তি,নিবেদন ও অধ্যবসায়। তাহলেই ক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।     
  অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন - এই ক্রিয়া মূলত কি?  এ প্রসঙ্গে দেখা যাক সৃষ্টিপ্রকরণ কি বলছে। ব্রহ্ম চিরনিশ্চল। তার এক শতাংশ  চঞ্চল হয়ে ক্রমশঃ  বৃদ্ধি পেতে পেতে সৃষ্টি করেছিল এই জগত।ওই এক শতাংশ চাঞ্চল্য পঞ্চতত্বের মধ্য দিয়ে একটি লম্ব তরঙ্গ বিশিষ্ট হয়ে সমস্ত সৃষ্টি রচনা করলো। এভাবেই হলো জীবনের সৃষ্টি। এবার প্রশ্ন উঠতে পারে -তবে মৃত্যু কি? মৃত্যু হলো - এই চাঞ্চল্যের ক্রমাগত স্থির অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া। প্রাণের তরঙ্গ প্রকৃতির নিয়মে হ্রাস পেতে পেতে যখন এক লক্ষ থেকে ১০ শতাংশ  তরঙ্গায়িত হয় তখন জীবের মৃত্যু হয় । সেই সময়ে এই দশ শতাংশ  তরঙ্গের সঙ্গে জীবাত্মার ফেলে আসা জন্মের সমস্ত সংস্কার বীজের আকারে থেকে যায় । এই সংস্কার আত্মাকে  আবার নতুন জন্মের দিকে আকর্ষণ করে এবং সেই ১০ শতাংশ প্রাণের তরঙ্গ যখন বাড়তে বাড়তে এক লাখে পৌছয় তখন জীবের আবার জন্ম হয় । এই হলো জন্ম মৃত্যুর আসল অবস্থা ।
  এই জন্ম মৃত্যুর থেকে মুক্তির জন্যেই ক্রিয়ার দরকার। জীব যদি কোনো প্রকারে সাধনার মধ্য দিয়ে এক লক্ষ থেকে দশ শতাংশ  প্রাণের চাঞ্চল্যকে  অতিক্রম করে শুন্য শতাংশে পৌছে যায় তাহলেই ঘটে তার ব্রাহ্মীস্থিতি লাভ । সে তখন তার উত্স ব্রহ্মের সাথে মিলে যায় পরমানন্দভরে। তখন আর তাকে ফিরে আসতে হয়না পৃথিবীতে। এই মিলিয়ে দেয়াটা হলো যোগ আর প্রানের চাঞ্চল্যকে কমিয়ে প্রাণকে থামানোর উপায়  হলো ক্রিয়া। অর্থাত ক্রিয়া আর যোগের এই পন্থা হলো ক্রিয়াযোগ। এই ক্রিয়াযোগের মাধ্যমেই প্রাণের অনন্ত গতিকে থামিয়ে স্থির ব্রহ্মের সাথে যুক্ত করে দেয়া যায় । সেই লক্ষেই চলে ক্রিয়াযোগীদের সাধনা।
     

Thursday, 13 June 2013

দুই - অজপা জপ

                               অজপা জপ 

    অজপা জপ হল  বহু প্রাচীন শাস্ত্রীয় জপের প্রণালী।বাল্মিকি  নারদের কাছ থেকে যে উল্টো নাম পেয়েছিলেন সেও তো ছিল অজপা। আজ সাধনজগতে অজাপার মূল্য অপরিসীম।

     অজপার সবচেয়ে বড় উপহার হলো সমাধির অভিজ্ঞতা লাভ। সাধারণত যোগে সমাধিলাভ হয় কুম্ভকের মাধ্যমে শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। দেহে যখন আপনা থেকেই নিরন্তর কুম্ভক হয়ে  যায় তখনি আসে  সমাধি। কিন্তু অজপাতে কুম্ভাকে না গিয়েই সমাধি লাভ করা যায়।অজপা হলো শ্বাসে প্রশ্বাসে জপ।যে মন্ত্র তুমি নিলে তা শ্বাস নেয়ার সময় জপ করবে আর ছাড়ার সময়ে জপ করবে।সেটাই হলো অজপা।এতে মন্ত্রের হিসাব রাখার দরকার নেই।শুধু মনেপ্রাণে মন্ত্রের সাথে একাত্ম্য হয়ে জপ করে যাওয়া। কথিত আছে - আমাদের জীবাত্মা অনাহত চক্রে উপবিষ্ট হয়ে নিরন্তর নাম করে চলেছে  অজপায়।সে নাম আমাদের ভিতরে চলছে নিরন্তর।সাধনার মাধ্যমে বহিরঙ্গের নামকে সেই নামের সাথে একাত্ম্য করে তলার জন্যে অজাপার সৃষ্টি।একে একইসাথে হংস জপ ও  সোহং  জপ বলা হয়। শ্বাস নেয়ার সময়ের জপ হলো হংস   জপ আর শ্বাসত্যাগের সময়ের জপ হল সোহং। নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে সেই জপকেই  বলা হয়  বা অজপা।
     এই অজপার একটি সহজ প্রণালী আছে - যারা জপ করতে চাও তারা প্রথমে কিছুক্ষণ কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাক একদৃষ্টে - সেটি ইষ্টদেবের মুর্তী হলে সবচেয়ে ভালো। যখন খালি চোখে সেই বস্তুর উপর মনোসংযোগ হয়ে যাবে তখন চোখ বন্ধ করে তাকে ধ্যান কর আর অজপা জপ শুরু কর।এতে ফল পাবে দ্রুত।
     এই প্রসঙ্গে যোগের আরেকটি কথা বলি - আমাদের দিনে ইড়া নাড়ি আর বয়ে পিঙ্গলা নাড়ি। পিঙ্গলা নাড়ি নির্দেশ করে আমাদের দেহের শারীরিক শক্তি ও ইড়া নারী নির্দেশ করে মানসিক শক্তি।এই দুই নাড়িতে আলাদাভাবে যতক্ষণ শ্বাস প্রবাহিত হয় ততক্ষণ সমাধি হয়না। যখন প্রানায়ামের মাধ্যমে দুই নাকের শ্বাস হয়ে  যাবে সমান তখনি জাগ্রত হবে সুষুম্না নাড়ি আর তখনি ধ্যান হয় যথার্থ। অজপা জপ সেই সুষুম্না নাড়ির জাগরণকে তরান্বিত করে। অজপা জপে প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসের দিকে দৃষ্টি রাখতে হয়।একটি গভীর শ্বাস,একটু relax ,তারপর আবার শ্বাস ছাড়া আর সেইসাথে মন্ত্রজপ। এভাবে মিনিটে আমরা ১৫ বার শ্বাস নেই,দিনে ২১,৬০০ বার।অজপা ঠিকমত করা গেলে বিনা চেষ্টায় দিনে ২১,৬০০ বার জপ হয় যায়। সোহং  জপ করলে মন্ত্রের অর্থ আর কল্পনা করতে হয়না।তবে অনেকে নিজের বীজমন্ত্র এই জায়গায় জপ করতে পারো ।মনকে ভ্রুমধ্যে নিয়ে বা হৃদয়ের অনাহত চক্রতে নিয়ে জপ করতে