Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Friday, 22 November 2013

প্রকাশিত হল আমার "শ্যামের মোহন বাঁশি" বইটির তৃতীয় সংস্করণ

  প্রকাশিত হল আমার "শ্যামের মোহন বাঁশি" বইটির তৃতীয় সংস্করণ

আজকে প্রকাশিত হল আমার "শ্যামের মোহন বাঁশি" বইটির তৃতীয় সংস্করণ। এই বইটি আমাদের আশ্রমের গোপালসোনার কীর্তিকলাপের উপর লেখা। গোপালের লীলাসমূহ নিয়ে লেখা বইটি আমার,বাবার,মায়ের,দিদিমার ও আরো অনেক ভক্তের অভিজ্ঞতার সংকলন। গপাল্সনার দুষ্টুমির মধ্যে দিয়েই যে জাগে বাঁশীর সুর - তার কাছে যাবার আহ্বান বেজে ওঠে বাঁশীর তানেই। ছোটবেলা  থেকে গোপাল আমার ভাই,বন্ধু,সখা সব। তার সাথেই যে বেঁধেছি  প্রাণের ডোর। তাইত এই বইটি আমার কাছে বিশেষ একটি প্রিয় লেখা। আমার প্রিয় লেখা যে আমার পাঠক পাঠিকাদের ভালো লাগছে এই বইটির তৃতীয় সংস্করণ তার প্রমান। ২০১০ সালে এটির প্রথম সংস্করন প্রকাশিত হয়। ২০১৩এর মধ্যে তিনটি সংস্করণ স্পষ্টই বুঝিয়ে দিছে গোপালের কীর্তিকলাপে পাঠক পাঠিকারা কত মুগ্ধ। তাই আজ এই গ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশনার পর গোপালকে জানাই আমার অন্তরের কৃতজ্ঞতা। আর সেইসাথে আমার পাঠক পাঠিকাদেরও জানায় আমার কৃতজ্ঞতা -আপনাদের/তোমাদের সবার ভালবাসা ও শুভেচ্ছা সবসময়েই আমার চলার পথের পাথেয়। আশা করব - আপনাদের/তোমাদের  এই ভালবাসার শুভেচ্ছা চিরকাল থাকবে আমার বইগুলির সাথে। 

Sunday, 10 November 2013

বারবার এসেছি ফিরে তোমাদেরই টানে

            বারবার এসেছি ফিরে তোমাদেরই টানে  

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

     কত হাসিকান্না,সুখ দুঃখের পথ পেরিয়ে এলাম বিগত লক্ষ কোটি বছরে। বিগত জন্মগুলিতে কত যোনীতে কতজনকে ভালোবাসলাম - কত আঘাত পেলাম,পেলাম কত সুখ। কতজন ভাঙলো এই হৃদয় , কতজনের হৃদয় ভাঙলো আমার জন্যে - তারপর আবার আমরা হারিয়ে গেলাম একে অপরের থেকে। কিন্তু হারিয়েও কি হারালাম? ফিরে এলাম সবাই নতুন রূপে - পুরনো হিসেবটাকে মিটিয়ে দিতে। কারণ সেই ঋণানুবন্ধ - কারো সাথে যে হিসেব মাঝপথে রেখে পালিয়ে যাবার জো  নেই। ফলে যতবারই আসি ফিরে ততবারই পূর্ব জীবনের সেই ঋণের অনুবন্ধও মেটাতে হয়। 
    আজো নিত্য কত মানুষের সংস্পর্শে আসি। কত পাঠিকাদের স্নেহ ভালবাসায় নিত্য অভিষিক্ত হই। কত সতীর্থ লেখক তথা অবিশ্বাসী নাস্তিক মানুষের বিরক্তির কারণও হই। তাদের কাউকে দেখে যেন মনে হয় - এতো অচেনা নয় - যেন চিনি কতদিন ধরে। গোপালের সামনে প্রশ্ন নিয়ে যাই। তার মিটিমিটি হাসিতে পেয়েও যাই উত্তর। 
    বাবার কাছে শুনেছি - যাদের শেষ জন্ম হয় তাদের সাথে শেষ দেখার জন্যে বিগত জন্মগুলির অনেক প্রিয়জনই ফিরে ফিরে আসেন। ভালবাসার সম্পর্ক তো কম জনের সাথে হয়নি বিগত কোটি কোটি জন্মে। তাদের মধ্যে যাদের মুক্তি এখন হয়নি তাদের অনেকের সাথেই দেখা হচ্ছে এই জন্মে। কেউ ছিলেন আমার মা,কেউ বাবা,কেউ ভাই,কেউ বোন্ ,কেউ প্রেমিকা,কেউ স্ত্রী,কেউ দাদা,কেউ দিদি,কেউ বা সন্তান,কেউ বা নাতি। তাদের সবার সাথেই এভাবেই বইয়ের মাধ্যমে হচ্ছে ফিরে দেখা। আধ্যাত্মিক পথে আমার কাজ তো একজনকে নিয়ে নয়,অনেকজনকে নিয়ে - তাই হয়ত তাদের সবার সাথেই হচ্ছে এই ফিরে দেখা - নানা রূপে নানা দেহে আসছেন তারা - তাদের সাথে কথা হলে বা মেসেজ আদানপ্রদান হলেও হয়ত তাই মনটা ভরে যায় আনন্দে। Farewell জন্মে তাই বোধহয় সবাইকেই পাচ্ছি নানা রূপে। 
    বাবার কাছে এও শুনেছি - শেষ জন্মে পূর্বজন্মের শত্রুরাও আসে ফিরে। তাদের যেটুকু আঘাত দেয়ার বাকি ছিল সেটুকু দিয়ে ঋণমুক্ত করে যায়। তাই এই জন্মে তাদের দেখাও কম মেলে না। তাই আঘাত পেলেও আজ আর কাঁদিনা। কারণ জানি - এই আঘাতে কাটছে আমার প্রারব্ধ -মিটে যাচ্ছে ঋণ। 
    দেহ তো বারবার শেষ হয়ে যায় একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর। কিন্তু আত্মার তো বিনাশ নেই। তাইত তাকে ফিরে ফিরে আসতে হয় পৃথিবীর বুকে - কে জানে এই ভালবাসার মানুষগুলোর টানই বোধহয় বারবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। আমিও কতবার এসেছি এভাবে। তোমরা যারা আমার লেখা পড়ছ এখন তারাও হয়ত পূর্ব পূর্ব জীবনেও আমার সঙ্গে ছিলে ওতপ্রোতভাবে। হয়ত তাই বই-এর সুত্রে জন্মান্তরের সম্পর্ক আবার দেখা দিচ্ছে নতুনভাবে। মনে পড়ে যাচ্ছে সুমনবাবুর সেই গানটি -
  অমরত্বের প্রত্যাশা নেই,নেই কোনো দাবি দাওয়া,
  এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকে চাওয়া। 
    তোমাদের সবার ভালবাসার নানা রূপ তো ঈশ্বরের দান। তাই তোমাদের কাছে তাঁর অমৃতের বার্তা পৌঁছে দেয়ার মাঝেই সার্থক আমার আসা। জানিনা কে সেটা অমৃত ভেবে নিল আর কে তা নকল ভেবে সরিয়ে দিল,তবে আমার কাজ ছড়িয়ে দেয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ। বাকিটা তো তাঁর কাজ। তিনিই দেখবেন ও দেখছেন। 

Thursday, 7 November 2013

সিরিয়াল killer

                      সিরিয়াল killer 

    পৃথিবীতে সত্যিকারের killer বোধহয় tv সিরিয়াল।tv সিরিয়ালের কিল যে খেয়েছে সেই উপলব্ধি করবে এই কিল-মহিমা।  সম্প্রতি আমার এক অল্পবয়েসী facebook ভক্ত আমায় মেসেজ দিয়ে প্রার্থনা করতে বলেছিল সতীর জন্যে যাতে তার গণেশকে রং করে যে ভাগীরথী অন্যায় করেছে সে যেন ধরা পড়ে, সম্মান থাকবেনা। শুনে তো আমি অবাক। কে এই সতী? আর ভাগীরথীই বা কে ? অবশেষে খোঁজ নিয়ে জানলাম যে এরা tv সিরিয়াল সতীর একেকটি চরিত্র। অর্থাত - এই সিরিয়াল মানুষের মনে কি প্রভাব ফেলছে যে সতীর দুঃখে কাতর হয়ে একটি অল্পবয়েস্ক মেয়ে আমায় মেসেজ দিচ্ছে তার হয়ে প্রার্থনার জন্যে।
   আসলে এই সিরিয়াল হল মানুষের যথার্থ  হত্যাকারী। সিরিয়াল killer এক কথায়। এরা মানুষের স্বাধীন ভাবনা চিন্তার শক্তি নষ্ট করে দেয় এবং নিজেদের কাহিনীর ঘোরপ্যাচে মানুষকে জড়িয়ে নেয়। ফলে মানুষ তাই ভাবে যা সিরিয়াল  তাকে ভাবায়। সেইসাথে সময় যে কি পরিমাণ নষ্ট করায় তা বলাই বাহুল্য। ঘরে ঘরে মানুষরা এই সিরিয়ালের tension নিয়ে কাটায়  সারাদিন  আর দিনান্তে সব কাজ সেরে tv র সামনে হত্যা দিয়ে পরে থাকে তাদের পছন্দের সিরিয়ালের পরের পর্বটির জন্যে। (এর মধ্যে আধ্যাত্মিক সিরিয়াল যা আছে যেমন রামায়ন ,মহাভারত,দেব কি দেব মহাদেব এগুলো অবশ্যই লোকশিক্ষার কাজ করে। তাই আমার অভিযোগ এগুলির বিরুদ্ধে নয়। আমি সেইসব সিরিয়ালের কথা বলছি যা দৈনন্দিন সমস্যা এবং অনৈতিক কুশিক্ষার বীজ মানুষের মধ্যে ছড়ায়।) অর্থাত এক কথায় সিরিয়াল হল সময়ের বিরাট অপচয়।
   আমাদের বোঝা দরকার যে সময় আমাদের হাতে খুব কম। যেটুকু আছে তার মধ্যেই জীবনকে নিয়ে যেতে হবে মহাজীবনের পথে। তাই সময় বাঁচাতে হবে। আমার কথা বলতে পারি। আমার নিজের ঘরে টেলিভশন থাকলেও কেবল সংযোগ রাখিনি আমার ঘরে। কোনো সিরিয়াল আমি দেখিনা। হ্যা , ভালো ফিল্ম অবশ্য দেখি তবে তাও খুব কম -লেখার ফাঁকে বিনোদনের জন্যে। আর মূলত দেখি পুরনো দিনের ক্লাসিক বা ভক্তিমূলক ফিল্ম যার মধ্যে রুচিগত সৌন্দর্য খুঁজে পাই। ভক্তিমূলক সিরিয়ালের ডিভিডি কিনে রাখি অবসর মত  দেখার জন্যে যেমন রামায়ন ,মহাভারত,সাইবাবা,জয় শ্রী কৃষ্ণ ,দেব কি দেব মহাদেব ইত্যাদি।ভালো হাসির বই -ও রাখি যা রসবোধকে ক্ষুরধার করে।  কিন্তু নিয়ম করে tv -র সামনে যেতে রাজি নই। আগে ক্রিকেট দেখতাম,এখন তাও দেখিনা কারণ ক্রিকেট আর ক্রিকেট নেই,বেসবল হয়ে গেছে। এক কথায়, নিজেকে কিছুর মধ্যে আটকাতে রাজি নই আমি। আমি কেন অন্যকিছুর প্রলোভনে নিজেকে আটকাব? কোনো কিছু কেন আমাকে তার term dictate করবে? আমি থাকব আমার সময়ের মালিক। আর সময়কে ব্যবহার করব আসল প্রয়োজনে। কারণ আমাদের জীবনে সময় যে কম। বেলা যে বয়ে যায়। তাই সময়ের সদ্ব্যবহার খুব জরুরী। 

Friday, 1 November 2013

আজো গোপাল ঘটায় কত লীলা

             আজো গোপাল ঘটায় কত লীলা  

আজকে বিশিষ্ট গায়িকা পাপিযাদি আমায় ফোন করে শোনালেন  অভিজ্ঞতা। বৃন্দাবনে এক মহাত্মার আশ্রমে তাঁর দেখা হয় এক ভদ্রমহিলার সাথে। তাঁর পাঁচটি গোপাল। সাথে ছিল তাঁর মেয়ে ও তার গোপাল। তাঁকে দেখে পাপিয়াদি  বৃন্দাবনে আজ ঘটে অঘটনের কথা। শুনে তো উনি খুবই আনন্দিত। বলেন তারাশিসের বই পরে যে আমার মেয়ের জীবনে কি অঘটন ঘটেছে কি বলব। পাপিয়াদি জিজ্ঞেস করেন - কি হয়েছে?
 তিনি বলেন, "আমার মেয়ের নাম মুন্নি।দিল্লিতে থাকে। তারাশিশের বই পড়ে ওকে আমি দিয়েছিলাম একটি গোপাল। আর তারপর ওকে বইটা পড়তে বলি।  বইটি ও কিছুতেই পরার সময় পাচ্ছিল না। আমিও তাগাদা দিতাম। অবশেষে একদিন ও বইটা পড়ল। সন্ধ্যা ৬টায়  ধরেছিল,ভোর হওয়া অবধি বারবার পড়েছে। তারপর ৫ দিন আর অফিস যায়নি। শুধু ঘরে বসে কেঁদেছে আর বলেছে - "গোপাল যদি সুতপার সাথে এরম করে তবে কেন আমার সাথে করবে না?" আর তারপর শুরু করলো গোপালের মনপ্রাণ দিয়ে সেবা। আর সেইসাথে শুরু হলো গোপালের লীলা।তার একটি বলছি। একবার আমর জামাই trafficএ আটকে জাবাতে flight miss করে। ও যখন বিমানবন্দরে পৌছেছে বিমান তখন ছেড়ে দিয়েছে। ও তখন ফোন করে মুন্নিকে বলল,'তোমার গোপাল কোনো কাজের না। ফ্লাইট মিস করালো' ,আশ্চর্যের ব্যাপার। সেই বিমান চলন্ত অবস্থায় থেমে গেল। তখন বিমানবন্দরে অর নাম ঘোষনা হচ্ছে। ওকে চলে যেতে বলা হলো runawayte  এবং runawayতে সিড়ি  লাগিয়ে ওকে তুলে নিয়ে তারপর ছাড়ল বিমান। এমন কত কান্ড অর সাথে নিয়মিত হচ্ছে। তুমি তারাশিসকে অবশ্যই বোল আমার মেয়ে ও তার গোপালের কথা। "
  পাপিযাদি আজকে সন্ধ্যায় আমায় ফোন করে জানালেন এই লীলার কথা। আমি শুনে মুগ্ধ ও শিহরিত। গোপালের অঘটন এভাবে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক এই কামনাই করি। জয় গোপাল।  

Thursday, 31 October 2013

"ক্ষণিক খোঁজে চিরন্তন" গ্রন্থের 'নাসিক -শিরডি-দ্বারকা-প্রভাস' পর্বের দ্বিতীয় সংস্করণ

আজকে প্রকাশিত হল আমার "ক্ষণিক খোঁজে চিরন্তন" গ্রন্থের 'নাসিক -শিরডি-দ্বারকা-প্রভাস' পর্বের দ্বিতীয় সংস্করণ। শিব্রাম চক্রবতী বলতেন - লেখকের কাছে গ্রন্থ হল পুত্রসম আর গ্রন্থের সংস্করণ যেন নাতি। যখন আমার প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় তখন ভাবিওনি একদিন এরকম আসবে যখন প্রায় প্রতি মাসেই একটা বা দুটো বই-এর সস্করণ প্রকাশিত হবে। আজকে সেই দিন এসেছে যখন একটি বই-এর সংস্করণ হওয়ার সাথে সাথে পরের বইটিকে পাঠিয়ে দিতে হয় প্রেসে। এসবি গোপালের কৃপা,তারামায়ের কৃপা। তাঁরাই আমায় দিয়ে লিখিয়েছেন,তাঁরাই ছড়িয়ে দিচ্ছেন সব ভক্তদের মাঝে। ভক্তদের তথা পাঠক পাঠিকাদের ভালবাসা তো তাঁদেরই কৃপা। আমি তো অতি অকীন্চন। তাই ঠাকুরকে দেয়ার মত আমার কিছুই নেই। আমার সবই যে তাঁর। এমনকি আমিও তাঁর। তাই আজকের দিনে তারামা ও গোপালকে জানাই আমার অন্তরের কৃতজ্ঞতা ,সেইসাথে সকল পাঠক পাঠিকাদের জানাই ধন্যবাদ। ১৯৯৬ থেকে বর্তমান ২০১৩ পর্যন্ত আমার লেখার প্রতি আপনাদের যে অফুরন্ত ভালবাসা ও স্নেহ পেয়েছি সবই ইশ্বরের করুণা।
ভালো থাকবেন ..
শুভেচ্ছাসহ
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

Tuesday, 29 October 2013

আক্কেল তবে রাস্কেল নয়

           আক্কেল তবে রাস্কেল নয় 

 মানুষের আজকাল আক্কেল নিয়ে ভারী সমস্যা। আক্কেল থাকলে লোকে বলে বুর্জোয়া। আর না থাকলে বোকা। আমাকে এতদিন দ্বিতীয় দলেই ফেলা হত। জাগতিক আক্কেল কোনকালেই নেই আমার। ইহকালে তো নেইই ,পরকালেও আশা নেই। কিন্তু এহেন আমারি উঠলো আক্কেল দাঁত। ৩-৪ বছর সেটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে অবশেষে তুললাম গতকাল। ডাক্তার আমাকে দাঁত তুলে দেখালেন - এটাই ছিল সেই আক্কেল দাঁত - লাগলো অনেকটা জাহাজের মত,উপরে তিনটে মাস্তুল আর শিকড় ছিল কত গভীর বলা মুশকিল। 
  তবে দাঁতটি দেখে কেমন বিরক্তি লাগলো। এই একটা দাঁতের জন্যে এত কষ্ট পেয়েছি এতদিন? দেখেই মনে হলো - এই দাঁত তো আমার দেহের অঙ্গ ছিল,সেটা যখন দেহ থেকে বেরিয়ে গেল কোন খারাপ তো লাগলো না। ব্যবহারের অযোগ্য ছিল বলেই ওটাকে বের করে দেয়া হলো। তাহলে মৃত্যু নিয়ে আমরা এত ভাবি কেন?যখন শরীর অকেজো হয়ে যাবে শরীরটাকেও তো এমনি ফেলে দিতে হবে। তখন শরীর থেকে বেরিয়ে ওটাকে দেখে আমরাও,অর্থাত আমাদের আত্মাও এরকমই বিরক্ত হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। দেহ যতক্ষণ আছে কাজ করে যাও,দেহ অকেজো হলে বা তার কোনো অঙ্গ অকেজো হলে সেটা বাদ দিয়ে দাও। যতদিন এভাবে বাদ দিতে দিতে চলে চালাও,তারপর বেরিয়ে পড় আপন শরীরে অনন্তের পথে। 
  

Friday, 25 October 2013

সুখবর

একটি সুখবর জানাই সকল পাঠক পাঠিকা বন্ধুদের - গতকাল " কেদারনাথে আজ ঘটে অঘটন "লেখা শেষ হল। এবার সেটি যাবে ডিটিপি-তে। অনেক ভক্ত জিজ্ঞেস করেছিলেন কেদারনাথের প্রলয়ের কারণ। হয়ত তাদের উত্তর দেয়ার জন্যেই মে মাসে আমার আলাপ হয় প্রভার সাথে। ল্যানকাশায়ারের এই মেয়েটি আমার "দেবলোকের অমৃতসন্ধানে" পরেই নেমেছিল পথে।বদ্রীনাথে পিতামাতার পিন্ড দেয়াই  ছিল ওর উদ্যেশ্য। কিন্তু চলার পথে ও জড়িয়ে গেল এক অপার্থিব অভিজ্ঞতার সাথে। এর মাঝেও গুগল hangout থেকে ওর সাথে কথা হয়েছে হরিদ্বার ও রুদ্রপ্রয়াগে।তার অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মাঝে অনেকেই পাবেন তাঁদের উত্তর।নিয়তি যে মানুষকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে অর অভিজ্ঞতা তার প্রমান।  
ভালো থাকবেন  ..   শুভেচ্ছাসহ তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় 

​​

Monday, 14 October 2013

শুভ বিজয়া - ​আমার Friends ৯১.৯ F.M-এর অনুষ্ঠানে তৃষা বোস মহাশয়ার আমার আধ্যাত্মিক আলোচনার download link

  শুভ বিজয়া - ​Friends ৯১.৯ F.M-এ তৃষা বোস মহাশয়ার অনুষ্ঠান "ভাবসাগরের পাড়ে বসে "-তে আমার সাক্ষাত্কার আধ্যাত্মিক আলোচনার download link 

বন্ধুগণ,আপনারা যারা আমার লেখা বই বা ব্লগ ভালবাসেন ও পড়েন তাদের সবাইকে জানাই  শুভ বিজয়া। এই পুণ্যলগ্নে আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি কিছু উপহার আমার পক্ষ থেকে। 
  এবার পূজায় ৯১.৯ friends F.M -এ  তৃষা বোস মহাশয়ার অনুষ্ঠান "ভাবসাগরের পাড়ে বসে "-তে আমার সাক্ষাত্কার নেয়া হয়েছিল এবারের দুর্গাপূজার সপ্তমী ও অষ্টমীতে। সেইসাথে ষষ্ঠীতে ও দশমীতে নেয়া হয়েছে সঙ্গীতশিল্পী  শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ও কাবেরী বোসের সাক্ষাত্কার। 
  সেই সাক্ষাত্কারর্গুলি এখানে তুলে দিলাম আমার পাঠক পাঠিকা বন্ধুদের জন্যে। প্রথমে দেয়া হল ২০১৩ দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে ও মহাষ্টমীতে ​
তৃষা বোস মহাশয়ার নেয়া আমার সাক্ষাত্কারটির পুরো রেকর্ডিং। এই রেকর্ডিং করেছেন আমাদের আশ্রমের বিশিষ্ট ভক্ত শ্রী শুভজিত মুখার্জী। 

​১) মহাসপ্তমীর অনুষ্ঠানটির free download link - ​এতে রয়েছে আমার exclusive সাক্ষাত্কার দুর্গাপূজা ও নানা বিষয়ে আমার নানা মত  সম্বন্ধে - অনুষ্ঠানটি ডাউনলোড করার জন্যে নীচের ছবিটিতে click করুন - 

​২) মহাষ্টমীর অনুষ্ঠানটির free download link - এতে রয়েছে আমার exclusive সাক্ষাত্কার দুর্গাপূজা ও নানা বিষয়ে আমার নানা মত  সম্বন্ধে - 
অনুষ্ঠানটি ডাউনলোড করার জন্যে নীচের ছবিটিতে click করুন

৩) দশমীর অনুষ্ঠানটির free download link - ​এতে আছে শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ও কাবেরী বোসের সাক্ষাত্কার পুরনো কলকাতার পূজা সম্বন্ধে  এবং সেইসাথে আমার অল্প একটু  বিশ্লেষণ theme পূজা নিয়ে। 
অনুষ্ঠানটি ডাউনলোড করার জন্যে নীচের ছবিটিতে click করুন - 

৪) ষষ্ঠীর অনুষ্ঠানটির free download link - এতে আছে শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ও কাবেরী বোসের সাক্ষাত্কার  পুরনো কলকাতার পূজা সম্বন্ধে।  অনুষ্ঠানটি ডাউনলোড করার জন্যে নীচের ছবিটিতে click করুন - 

পরিশেষে সবাইকে জানাই আমার শুভ বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা । আসলে আমার যেসব প্রিয় পাঠক পাঠিকারা অনুষ্ঠানটি শুনতে পাননি মূলত তাদের অনুরোধেই এই ডাউনলোড গুলো এখানে দিয়ে দেয়া হলো যাতে সবাই শুনে এর আস্বাদ করতে পারেন। 


​                                   ​
ভালো থাকবেন  .. 
​       
  
​                                  ​
শুভেচ্ছাসহ 

​                                 ​
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় 

Tuesday, 8 October 2013

একটি ঘোষণা ​

                 একটি ঘোষণা ​

বন্ধুগণ, বাংলা রেডিও-র ৯১.৫ এফ.এম.চ্যানেলে  আগামী ১১ অক্টোবর সপ্তমীতে,১২ অক্টোবর অষ্টমীতে এবং ১৪ অক্টোবর দশমীতে ভোরবেলায় ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বিশিষ্ট ভক্ত সঙ্গীতশিল্পী ​তৃষা বোস গুপ্ত মহাশয়ার  বিখ্যাত অনুষ্ঠান "ভাবসাগরের তীরে"-তে পূজার আলাপচারিতায় বিখ্যাত শিল্পী শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ও কাবেরী গুহর সাথে থাকছি আমি -আপনাদের প্রিয় তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। আলোচনা হবে পূজার বিষয়ে -আমার আধ্যাত্মিক পথে আসা,তন্ত্র,কুলকুন্দলিনী,দুর্গাপূজার থেমে প্রভৃতি অনেক বিষয়ে। কথা হবে সবার 
 সাথে পূজার বিভিন্ন দিক নিয়ে।সাথে থাকছে অনবদ্য ভক্তিসঙ্গীতের 
 ডালি। দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সবাইকে জানায় আমার শারদীয়া শুভেচ্ছা।

Friday, 4 October 2013

মহাভারত রূপকের আলোয়

                                 মহাভারত রূপকের আলোয় 


   মহাভারত মহাগ্রন্থ আমাদের কাছে দ্বাপর যুগের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু মহাভারত লেখা হয়েছে একইসাথে সাধকদের জন্যে এবং সমাজের জন্যে।আমরা মহাভারতকে যদি বিশ্লেষণ করি তবে জানতে পারব - এর ভিতর দিয়ে কিভাবে সাধনার সংকেত দেয়া রয়েছে। এখানে দ্রৌপদী বা কৃষ্ণা হলেন দেহের রূপক।পঞ্চপান্ডব হলেন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের প্রতীক।দেহের সাথে পাঁচ ইন্দ্রিয়র বিবাহ দিয়ে শুরু জীবনের যাত্রাপথ।যখনই জীবাত্মা জীবশরীর ধারণ করে তখনই পঞ্চ ইন্দ্রিয় জেগে ওঠে তার মধ্যে।দ্রৌপদীর সাথে পাঁচ পান্ডবের বিয়ে সেই তত্বটি তুলে ধরেছে।এবার আসা যাক পান্ডবদের জন্ম প্রসঙ্গে। কোন পান্ডব কিন্তু সাধারনভাবে জন্মায়নি। তারা কুন্তি বা পৃথার পুত্র। এই পৃথা হলো পৃথিবীর প্রতীক। এবং প্রত্যেকেরই জন্মদাতা কোন না কোনো দেবতা।তার মানেটা কি দাঁড়ায় ? পাঁচ ইন্দ্রিয় তথা পঞ্চপ্রাণ জন্ম নেয় পৃথিবী ও দেবতার মিলনের ফলে। অর্থাত মাটি থেকে পাওয়া দেহ এবং তার ভিতরে পরমাত্মা থেকে জন্ম নেয়া জীবাত্মা যখন একত্র হয় তখনই পঞ্চপ্রাণ তথা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের জন্ম।   
    এরপর আসি কৌরবদের কথায়। পান্ডবদের সাথে কৌরবদের সবসময়ে বিরোধ।এই কৌরবদের সংখ্যা ১০০ ।  ১০০ কৌরব হচ্ছে মনের প্রবণতা যা শতধা বিভক্ত।মহাভারতে আছে - যুধিষ্ঠির ছিলেন পাশা খেলায় দক্ষ। তিনি ভাবতেন - তিনি পাশা খেলে কৌরবদের পরাস্ত করতে পারবেন। ঠিক যেমনভাবে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি  মনের নানারকম প্রবণতার সাথে জুয়া খেলে জিততে চায়। কিন্তু সেই জুয়া তাকে পতনের দিকেই নিয়ে যায়। ঠিক যেমন পান্ডবরা এই জুয়ার ফলেই জীবনের সবকিছু সুখ হারিয়ে বাধ্য হয়েছে বনবাসে যেতে। 
   
    এবার আসা যাক ধৃতরাষ্ট্রের প্রসঙ্গে।ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ তার সন্তানদের স্নেহে। ধৃতরাষ্ট্র হল আমাদের মনের প্রতীক। মনের সন্তান হল সকল প্রবণতা। অর্থাত আমাদের মন সবসময়ে নিজ প্রবণতার প্রতি অপত্যস্নেহে ডুবে থাকে। গান্ধারী হল অন্ধভাবে মনকে অনুসরণ করার প্রতীক। আমরা অনেকসময়েই জানি - কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা তবু আমরা চোখ বন্ধ করে রাখি এবং অন্যায়কে মেনে নেই। আমাদের সেই ভাবের প্রতীক হল গান্ধারী। আর মন যখন নিজের প্রবনতার প্রতি অন্ধ থাকে এবং নিজের বোধ বুদ্ধি থাকলেও নিজের দৃষ্টিকে আবৃত রাখে তখনই মনের এই আপোষমূলক মনোভাবের প্রতীকের ভাই  সর্বনাশের আবির্ভাব হয়। ঠিক যেমন মহাভারতে এভাবেই গান্ধারীর ভাই শকুনীর প্রবেশ ঘটেছিল।এই শকুনী হল মনের ভিতরের সেই কুটিল ভাবের প্রতীক যা আমাদের মনে আসে যখন মন বিবেচনা শক্তি হারিয়ে সবকিছুর সাথে আপোষ করতে চায়। আর এই কুটিল ভাব মানুষের মনের সকল শান্তি নষ্ট করে তাকে নিয়ে যায় সর্বনাশের পথে।

 কৌরব আর পান্ডবদের মাঝে রয়েছেন কর্ণ। মহাভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই কর্ণ হলেন ইগো বা অহমিকার প্রতীক। তার রয়েছে কবচ কুণ্ডল যার ফলে তিনি অবধ্য।আমাদের এই ইগোও অবোধ্য। তাকে বধ করতে না পারলে জীবনের যুদ্ধে জয় অসম্ভব। তাকে বধ করতে হলে এই কবচ কুণ্ডল কেড়ে নিতে হয়। একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই পারেন সেই কবচ কুণ্ডল কেড়ে নিতে।অর্থাত আত্মা যখন বিবেককে গুরু করে এই অহমিকার কবচ কুণ্ডল কেড়ে নেয় তখনি ইগোকে বোধ করা সম্ভব। যেমন মহাভারতে পান্ডবদের জয়ের শেষ বড় কাঁটা ছিলেন কর্ণ তেমনি জীবের মুক্তির সবচেয়ে বড় কাঁটা এই ইগো। এর বধ একান্ত প্রয়োজন। 
   
   পান্ডবদের বনবাসের শেষে এল কুরুক্ষেত্র। কুরুক্ষেত্র কি? যে জগতে আমরা রয়েছি সেই হল কুরুক্ষেত্র।এই কুরুক্ষেত্র হল সেই জগত যেখানে নিয়ত চলছে ইন্দ্রিয় এবং মনের শতধা বিভক্ত প্রবণতার মধ্যে যুদ্ধ।  এখানে সমানে ভালো এবং মন্দের লড়াই চলে। এখানে পান্ডবপক্ষের পরামর্শদাতা শ্রীকৃষ্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন অর্জুনকে বিপক্ষের ভালো মন্দ সবাইকে বধ করতে। কৌরবপক্ষে ভালো মন্দ দুই ছিল। কিন্তু তাও কৃষ্ণ তাদের সবাইকেই বধ করতে বলেছেন। কারণ - সকল প্রকার প্রবণতাই বধ করতে হয় মনকে নির্বিকল্প সমাধীর স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।তাই যেসব অসত প্রবণতা বা শুভ প্রবণতা মনে জাগে সবেরই বধ আশু প্রয়োজন। যথার্থ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে গেলে ভালো মন্দ দুইকেই পেরিয়ে যেতে হবে। গীতায় শ্রী কৃষ্ণ বলছেন - এখানে শত্রু মিত্র কারোরই কোন অস্তিত্ব নেই। তুমি এদের কি বধ করবে?আগে থেকেই এরা বধ হয়ে আছে। তুমি নিমিত্ত হও।খানে প্রবণতাগুলির কোন অস্তিত্ব নেই। আমরা এদের যেভাবে জন্ম দিই এরা সেভাবেই বড় হয়। এরা মূলত মৃত। সব প্রবণতা অস্তিত্বহীন।এদের আমরা বাঁচিয়ে রাখি আমাদের কর্মের দ্বারা। মুক্তি পেতে গেলে এই সব প্রবণতা বধ করতে হবে। 

  লেখাটি ক্রমশ বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই শ্রীকৃষ্ণের প্রসঙ্গ টেনেই আজকের মত ব্লগ শেষ করছি। শ্রী কৃষ্ণ হলেন জীবাত্মার প্রতীক যিনি পরমাত্মার অংশ । তাঁর গায়ের রং ঘন নীল যা অনন্তের প্রতীক যেমন নীল আকাশ বা নীল সমুদ্র। তাঁর জ্ঞান হল অনন্ত।তাঁর লীলাও অসীম। তিনি পীতাম্বর।হলুদ বস্ত্র পরেন। এই হলুদ হল পৃথিবীর প্রতীক। অর্থাত অসীম অনন্ত পরমাত্মার প্রতীক পার্থিব দেহ ধারণ করে এসেছেন। অর্থাত বাইরে পার্থিব দেহ,ভিতরে অনন্ত আত্মা। শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতের যুদ্ধে ছিলেন দ্রষ্টা। জীবাত্মাও দ্রষ্টা। কিন্তু বিবেকের রূপে তিনি তার বাণী শুনিয়ে দেন পঞ্চপ্রাণ তথা পঞ্চইন্দ্রিয়কে। সেই কথা শুনে তারা যদি তাঁর কথা মেনে নেয় তবেই জয়যুক্ত হয় জীবনের কুরুক্ষেত্রে। পান্ডবদের জয় সেই রূপক বহন করছে।