Ami Tarashis Bolchi

Ami Tarashis Bolchi
The blog of Tarashis Gangopadhyay (click the photo to reach our website)

Wednesday, 4 June 2014

চন্ডীর অসুরদের প্রতীক রূপ

                        চন্ডীর অসুরদের প্রতীক রূপ 

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

মালা গাঙ্গুলী - দাদা,চন্ডীতে আমরা তিনবার অসুরদের আবির্ভাবের কথা পাই। এদের কি কোনো প্রতীকি অর্থ আছে?
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় : আছে বৈকি। চন্ডীতে মা তিনবার আবির্ভুত হয়েছিলেন তিন অসুর প্রবৃত্তির বোধের জন্যে। প্রথমবার মধু কৈটভ বধের জন্য,দ্বিতীয়বার মহিষাসুর বধের জন্যে আর তৃতীয়বার শুম্ভ নিশুম্ভ বধের জন্যে। এই তিন অসুরেরই  আছে প্রতীকি রূপ। 
মালা গাঙ্গুলী - মধু কৈটভ কিসের প্রতীক দাদা?
তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় : মধু কৈটভ হল মায়া ও মোহের প্রতীক। সৃষ্টির প্রথমে তারা আবির্ভুত হয়ে ব্রহ্মাকেই আক্রমন করেছিল। তাদের হাত থেকে বাঁচতে ব্রহ্মা অনন্ত শয়ানে শায়ী নারায়নের কাছে যায়। কিন্তু নারায়ণ যে তখন যোগনিদ্রায়। তাই তিনি দেবী চন্ডীর আবাহন করেন। অর্থাত - জীবনের শুরুতেই জীবকে আক্রমন করে মায়া ও মোহ। এরা আমাদের আসক্তির দুই রূপ। আমরা যাতে দৈবী সম্পদ লাভ করতে না পারি সেজন্যেই এই দুই আসুরিক বৃত্তি আমাদের চেতনাকে বেঁধে রাখে গন্ডিতে। মনের হুঁশ নিয়ে তো মানুষ। কিন্তু এই আসুরিক প্রবৃত্তি আমদের মনের হুঁশ কেড়ে নিয়ে তাকে বিষয়ে বেঁধে রাখে। আর তাই এর বধ আবশ্যক। আমাদের সসীম আমি হল অসুর আর অসীম আমি হল দৈবিশক্তি। তাই আসুরিক সন্কির্তন্তা থেকে মুক্তি পেতে আমার আসল আমি বা সোহং সত্বাকে জগতে হয় যা একমাত্র আমাদের মুলাধারে অবস্থিত মা জগতে পারেন। বিষয়কে দুরে সরিয়ে তাঁর সরণ নিলেই হয় এই মধু কৈটভ বধ আর সেটাই হল সাধকের প্রথম যুদ্ধের জয়। 
                 
মালা গাঙ্গুলী - দাদা, মহিষাসুর কিসের প্রতীক ?

তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় : মোহ এবং আসক্তি রক্ষা পেয়ে সাধক যখন সাধনায় মনোনিবেশ করে তখন তাকে আক্রমন করে কর্তৃত্ব  বন্ধন। এই কর্তৃত্বের বন্ধনের প্রতীক হল মহিষাসুর। এই অসুর  দিব্য ভাব হরণ করে তাকে জড়িয়ে দেয় কর্তৃত্বের বন্ধনে। সে তখন প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করে সবার উপরে। অনেকটা  মহিষাসুরের স্বর্গ জয়ের মত। একে জয় করতেও প্রয়োজন হয় দেবিশক্তির আবাহন। অর্থাত আগে চাই পুরুষকার (যা জ্ঞানের প্রতীক) এবং তার মাধ্যমে নিজে উদ্যোগী হয়ে শরনাগতির (যা ভক্তির প্রতীক) চেষ্টা।এই দুইর মিলন ঘটলেই শক্তি জাগরিত হয় এবং তাতেই আমাদের মনের অসুর মহিষাসুর রুপী কর্তৃত্বের বন্ধন কাটিয়ে ওঠা যায়।

মালা গাঙ্গুলী - শুম্ভ নিশুম্ভ কিসের প্রতীক দাদা?

তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় : শুম্ভ নিশুম্ভ হল অহংকার ও অভিমানের প্রতীক। সাধনার দুটি স্তর অতিক্রম করার পর  শেষ স্তরে  এই দুটি অসুর মনের মধ্যে জেগে ওঠে তাদের আসুরিক ভাব বজায় রাখার জন্যে। সাধকের অহংকার জাগানোর জন্যে কিছু গুনমুগ্ধের তোষামোদ তার মধ্যে জাগে অহংকার। আর সাধক তাদের স্তুতিতে ভুলে নিজের অহংকারকে এবং অভিমানকে ভগবান ভেবে বসে। এই অহংকার বড় ভয়াবহ। কিছুতেই  না। যতই তাকে মারার চেষ্টা কর সে আবার জেগে ওঠে। এই দুই অসুরকেও বধের অস্ত্র শরনাগতি। সাধকের সামনে যতই তোষামোদ কেন,তার নিজেকে মনে করতে হবে তৃনাদপি ক্ষুদ্র এবং সে যাই করুক না কেন,যত বড় কাজই সে করে থাকুক না কেন,তার অন্তরে বিশ্বাস রাখতে হবে যে সবই হয়েছে ঠাকুরের কৃপায়। সে শুধুমাত্র নিমিত্ত। এই জ্ঞান অন্তরে জাগলে আসে শরনাগতি আর তাতেই বধ হয় আমাদের অন্তরের শুম্ভ নিশুম্ভ।

Tuesday, 3 June 2014

ছলনা ও ধর্ম

              ছলনা  ও ধর্ম 


লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

আমাদের যুগ কলিযুগ। অধর্মে  ছেয়ে  গেছে এ যুগের সবকিছু। কিন্তু তাই বলে অধর্মের কাছে আত্মসমর্পণ করা তো চলবেনা। অধর্মকে বধ করাই ধর্মের পথের পথিকের ব্রত। তোমরা বলতে পারো - অধর্মের শক্তি অশেষ। ছলনা তার মূল অস্ত্র। ধর্মের পথের পথিক তো সেই অস্ত্রে বঞ্চিত। কিন্তু কৃষ্ণ কি বলেছেন মনে পরে ? অধর্ম যদি ছলনার শক্তিতে সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠে তবে ধর্মরক্ষার জন্যেও ছলনার আশ্রয় নেয়া পাপ নয়। অর্থাত - যদি তোমার একাগ্রতা থাকে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্যে,অশুভকে পরাস্ত করে শুভকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে,সেক্ষেত্রে মানুষের ভালোর জন্যে তুমি যদি ছলনার আশ্রয় নাও তবে তা পাপ নয়। পাপ ও পুণ্য আপেক্ষিক। ছলনা তখনি পাপ যখন তা অন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করে,কিন্তু যখন অন্যায়ের শেষ করার জন্যে ছলনার ব্যবহার হয় তখন তা পাপ নয়। শ্র্রীরামচন্দ্রের বালীবধ ও শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে ভীস্ম,দ্রোণ ,কর্ণ ,দুর্যোধন বধ তার-ই ইঙ্গিত দেয়। ছলনা যে যুগের আশ্রয় সে যুগে ধর্মরক্ষায় ছলনা পাপ নয়। তবে যদি সেই ছলনা শুধু নিজের লাভের জন্যে করা হয় তবে তা অবশ্যই পাপ ও পরিত্যাজ্য। 

Tuesday, 27 May 2014

জীবন একটি বিদ্যালয়

            জীবন একটি বিদ্যালয় 

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

আমাদের জীবন একটি বিদ্যালয়। এখানে আমরা সবসময়ে শিখি। শিখতে শিখতে আসি,শিখতে শিখতে যাই। তাই কখনই ভেবে নিতে নেই যে আমাদের সব শেখা হয়ে গেছে। ধারা যদি ভাবে তার সব পাওয়া হয়ে গেছে তবেই তো ধারার মরণ। তাই বয়ে আমাদের যেতে হবে আমৃত্যু। শিখতেও হবে আমৃত্যু। জীবনে আমদের কত সমস্যা আসে। এ যেন বিদ্যালয়ের সেই algebra ক্লাসের মত। যেদিন প্রথম algebra ক্লাস হয় সেদিন আমি ভেবেছিলাম এটা বোধহয় কোন আরবীয় জেব্রার ব্যাপার। আরবীয়দের নামের আগে "আল " শব্দটা বসে তো। সেটিও ছিল আমার একটি সমস্যার ক্লাস। কিন্তু সেই ক্লাসও একসময়ে শেষ হয়ে যেত। আসত আমার প্রিয় বাংলা ক্লাস,ইংরেজি ক্লাস ও ইতিহাস ক্লাস। এরকমভাবেই সমস্যা হল আমাদের জীবনের বিদ্যালয়ের ওই algebra ক্লাসের মত। পড়তেও হবে,পরীক্ষাও দিতেই হবে। তার থেকে বাঁচা যাবেনা। তবে ওটুকুই। সমস্যা জীবন না - জীবনের অংশমাত্র। এই জীবনের বিদ্যালয়ে এরকম ক্লাস তো থাকবেই - ক্লাস শুরু হবে,শেষ হবে কিন্তু সেই সব ক্লাসের থেকে আমরা কি শিখলাম সেটাই আসল। সেটাই আমাদের আসল শিক্ষা। আমাদের আসল লাভ। সমস্যাকে সামলে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা। 

Saturday, 17 May 2014

প্রকাশিত হল আমার নতুন বই " যেথা রামধনু ওঠে হেসে"

 প্রকাশিত হল আমার নতুন বই " যেথা রামধনু ওঠে হেসে"

আজকে প্রকাশিত হল আমার নতুন বই " যেথা রামধনু ওঠে হেসে".. পাঠক পাঠিকারা দীর্ঘ দিন এই বইটির জন্যে অপেক্ষা করেছিলেন। তাই এই বই প্রকাশের লগ্নে তাঁদের সবাইকে জানাই আমার অভিনন্দন। এই গ্রন্থটি মূলত পাঠক পাঠিকাদের অনুরোধেই প্রকাশ করা হল। .তাই এই লগ্নে তাঁদের সবাইকে জানাই আমার অন্তরের কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা। বইটি বর্তমানে কলেজ স্ট্রিটের মহেশ লাইব্রেরি,সংস্কৃত পুস্তক ভান্ডার,দে বুক স্টোরে ও দেজ publishing এ পাওয়া যাচ্ছে। বইটি সবার ভালো লাগলেই সার্থক হবে এর প্রকাশ। 
                                ধন্যবাদান্তে

                          তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় 


Friday, 31 January 2014

সাধনপথে চলতে হলে ২

     সাধনপথে চলতে হলে ২

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

         তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় 

অনেকেই আমাকে বলে -  সংসারের সব কাজ সেরে কাজ সেরে আর সময় পাইনা ঠাকুরকে ডাকার।উত্তরে আমি বলি - সংসারের সব কাজের জন্যে সময় মিলছে অথচ সেই কাজের কোনো ফল সঙ্গে যাবেনা আর এটা জেনেও যে কাজের ফল সঙ্গে যাবে তার জন্যে সময় নেই ? আমি জোর দিয়ে বলি - যেমন করে হোক,যেভাবে হোক জপ করবে। ২৪ ঘন্টায় অন্তত ৯০ মিনিট  জপের জন্যে দাও। তাও না পারলে অন্তত এক ঘন্টা।ধর তোমার কোনো প্রিয়জন বিদেশে আছে,সেক্ষেত্রে কি হয়,সব কাজ করলেও মনটা পড়ে থাকে তার কাছে। ভগবানকেও সেভাবে ভাবতে হয়। সেইসাথে প্রতিদিন শোবার  সময়ে নিজের সারাদিনের সব কাজ -ভালো মন্দ সমর্পণ করবে ঠাকুরকে আর বলবে আমার সব তুমি নাও আর সব নিয়ে আমাকে তোমার করে নাও। সেইসাথে শ্বাসে শ্বাসে নাম জপ বা যারা বীজমন্ত্র পেয়েছ জপ করে যাও। ব্যাস,তাতেই হবে। নাম নামী যে অভেদ। এটুকু করলেই তাঁর কৃপা অন্তরে পাবে। আর কিছু না পড়েও জ্ঞান জেগে উঠবে অন্তরে আপনা থেকেই। 
  

Thursday, 30 January 2014

সাধনপথে চলতে হলে

                           সাধনপথে চলতে হলে

লেখকের website -  https://www.tarashisgangopadhyay.in/

 আমার কাছে এসে অনেকেই দীক্ষা চায়।কিন্তু আমি তাদের বলি  -  সাধনপথে চলতে হলে প্রথমেই দীক্ষা হবে না। আগে দীক্ষার জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। নিজেকে তৃনাদপি ক্ষুদ্র মনে করতে হবে। মনকে  ইচ্ছাশুন্য করতে হবে এবং অহংকার  হবে। মনে কোনকিছু নিয়ে  তামাশা বা অলৌকিকের magic দেখার বাসনা থেকে নিবৃত্ত করতে হবে। সেইসাথে শাস্ত্রপাঠ ,সত গ্রন্থ পাঠ , সত্সংগ করে যেতে হবে যত সম্ভব। ধরা যাক - মনে কোন কিছুর উপর লোভ এলো। হয়ত ইচ্ছা জাগলো - এখন কিছু রসনার তৃপ্তির জন্যে খেতে হবে। তখনই চেষ্টা করবে লোভ সামলানোর।খাও পরিমিত। কথা বল কম। যেটুকু বল সত্যি বল। মনে কিছু নিয়ে জল্পনা কল্পনা কোর না।  আর কখনই মনে করবে না তোমার কিছু দরকার কারণ তোমার যা দরকার তা তোমার চেয়ে বেশি ভালো জানেন ঠাকুর। তিনিই ব্যবস্থা করবেন। 
   এই জায়গা গুলো আয়ত্ত করার  জন্যে নাম জপ খুব কাজে দেয়। তাই আমি তাদের বলি -রাতে নির্জন ঘরে বা ঘরের নিরালা কোণে নিজের পছন্দের ইষ্টনাম অন্তত এক বছর জপ কর। সেইসাথে রাত চারটায় উঠে পারলে স্নান করে আর নাহলে শয্যাশুদ্ধি করে অন্তত এক বছর জপ কর। যখন এভাবে জপ করতে করতে মন স্থির হয়ে আসবে তখন শ্বাস কুম্ভক করে চোখ বন্ধ রেখে ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করে তার মাঝে মন নিবিষ্ট করে জপ কর। তারপর শুধু তাঁর শ্রীচরণ  দেখে মন্ত্র জপ কর। তাতেই সব হবে। মাঝে মাঝে নিস্তব্ধ রাতে জপের পর ভ্রামরী প্রাণায়াম করে কানে আঙ্গুল দিয়ে শুনতে পারো  - তাতে ঝিল্লি,বাঁশী ,মেঘগর্জন,ঘন্টা,কাঁসা,ভেরী,তুরী এরকম নাদ  শুনতে পাবে। তারপর বীজমন্ত্র পেলে সহজেই কাজ দেবে।সেইসময়ে শুধু চেষ্টা করতে হবে মন যাতে আজ্ঞাচক্রে বা তার উপরে থাকে। এভাবে যোগে বসে জিভকে তালু মূলে রেখে বীজমন্ত্র জপ করলে প্রথমে  শোনা যাবে প্রণব ধ্বনি আর তাতে মন নিবিষ্ট করতে পারলেই আসবে সমাধী। 

Thursday, 16 January 2014

আমার "কেদারনাথে আজো ঘটে অঘটন" গ্রন্থ সম্পর্কে আমার কয়েকজন বিশিষ্ট পাঠক পাঠিকার বক্তব্য - Facebookএ।

আমার "কেদারনাথে আজো ঘটে অঘটন" গ্রন্থ সম্পর্কে আমার কয়েকজন বিশিষ্ট পাঠক পাঠিকার বক্তব্য -  Facebookএ।